📌 নড়াইল সদর উপজেলায় ১০ দিন ধরে নিখোঁজ স্কুলছাত্রী। সহপাঠী ছাত্র ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হলেও আসামিদের অবস্থান অজানা। পুলিশের তদন্তে বাধা সৃষ্টি করছে লাপাত্তা আসামিরা
নড়াইল সদর উপজেলায় দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রী ১০ দিন ধরে নিখোঁজ অবস্থায় রয়েছে। অপহরণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হলেও আসামিদের অবস্থান অজানা থাকায় পুলিশের তদন্তে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১০ দিন ধরে নিখোঁজ নড়াইল সদর উপজেলার এক স্কুলছাত্রী। ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে বিদ্যালয় থেকে ফেরার পথে তাকে সহপাঠী ছাত্র ও তার পরিবারের সদস্যদের সাথে জড়িতদের অপহরণ করা হয়।
- 📌 মামলায় ৫ আসামি — প্রধান আসামি হিসেবে অভিযুক্ত স্কুলছাত্রীর সহপাঠী ছাত্রের পাশাপাশি তার মা, বোন, ভগ্নিপতি ও প্রতিবেশী বন্ধুকে আসামি করা হয়েছে।
- 📌 পুলিশের তদন্তে বাধা — এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলেও প্রধান দুই আসামির অবস্থান অজানা। অন্য তিন আসামি জামিন নিয়ে পালিয়ে গেছেন।
- 📌 অপহরণের পেছনে প্রেমের প্রস্তাব — অভিযোগে বলা হয়েছে, সহপাঠী ছাত্র কিশোরীকে প্রেমের প্রস্তাব দিলেও প্রত্যাখ্যানের পর অপহরণের পরিকল্পনা করেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্বুদ্ধ করেন।
- 📌 ভুক্তভোগী পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন — কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের সদস্যরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। আসামিরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলে প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন।
📰 বিস্তারিত
১৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে বিদ্যালয় থেকে ফেরার পথে নড়াইল সদর উপজেলার এক স্কুলছাত্রীকে সহপাঠী ছাত্র ও তার পরিবারের সদস্যদের সাথে জড়িতদের অপহরণ করা হয়। এই ঘটনায় অভিযোগ করা হয়েছে, স্কুলে যাওয়া-আসার পথে প্রায়ই ওই কিশোরীকে প্রেমের প্রস্তাব দিত সহপাঠী ছাত্র। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ছাত্র ও তার পরিবারের সদস্যরা অপহরণের পরিকল্পনা করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, কিশোরীর পরিবারকে জানানো হলেও তারা অভিযোগ আমলে নেননি। বরং ওই ছাত্রকে উদ্বুদ্ধ করেন। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্য ও এক বন্ধুর সহযোগিতায় ১৩ সেপ্টেম্বর বেলা দুইটার দিকে ওই কিশোরীকে অপহরণ করা হয়। অপহরণের পর থেকেই ওই কিশোরীকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু আসামিরা কৌশলে কিশোরীকে নিয়ে পালাতে সক্ষম হন।
মামলার তদন্ত করছেন নড়াইল সদর থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. মাসুদ রানা। তিনি বলেন, ‘ওই মামলায় এক আসামিকে আমরা গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করেছিলাম। অন্য দুজন আদালতে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। পরে গত রোববার তিনজন আসামি (অভিযুক্ত কিশোরের মা, বোন ও ভগ্নিপতি) আদালত থেকে জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বের হয়ে এসেছেন। প্রধান দুই আসামির (এক নম্বর আসামি অভিযুক্ত কিশোর ও তার বন্ধু দুই নম্বর আসামি) অবস্থান এখনো শনাক্ত করা যায়নি। এ কারণে তাদের ধরা বা কিশোরীকে উদ্ধার করা যাচ্ছে না। আমরা তাদের খুঁজছি।’
"ওই মামলায় এক আসামিকে আমরা গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করেছিলাম। অন্য দুজন আদালতে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। পরে গত রোববার তিনজন আসামি আদালত থেকে জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বের হয়ে এসেছেন। প্রধান দুই আসামির অবস্থান এখনো শনাক্ত করা যায়নি।"
আজ বুধবার দুপুরে কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তাকে না পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন পরিবারটির সদস্যরা। আসামিরা বাড়ি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, আসামিরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নড়াইল সদর উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্কুলছাত্রী (নিখোঁজ), সহপাঠী ছাত্র (অভিযুক্ত), মামলার আসামিরা (মা, বোন, ভগ্নিপতি, বন্ধু)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ দিন (নিখোঁজ), ৫ জন আসামি, ১৩ সেপ্টেম্বর (অপহরণের তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!