📌 নীলফামারী সৈয়দপুর পৌরসভার দুটি প্রধান সড়ক সংস্কার প্রকল্পে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ৩০ শতাংশ কাজও শেষ করতে পারছে না। শহরবাসীর চলাচল সংকটে পড়েছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ২৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকার প্রকল্পে ২০২৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল
নীলফামারী সৈয়দপুর পৌরসভার দুটি প্রধান সড়ক সংস্কার প্রকল্পে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘এমএ-কেই-এসবি-জেভি’ ধীরগতি দেখাচ্ছে। এক বছরে মাত্র ৩০ শতাংশ কাজ শেষ করতে সক্ষম হয়নি তারা। ফলে শহরবাসীর চলাচল সংকটে পড়েছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি প্রতিদিন বাড়ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ২৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকার প্রকল্পে ২০২৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ঠিকাদার মাত্র ৩০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছে
- 📌 শেরেবাংলা সড়কের ঢালাই কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি, জহুরুল হক সড়কে ঢালাই গত সপ্তাহে শুরু হয়েছে, কার্পেটিংয়ের কাজ কোনো সড়কেই শুরু করা হয়নি
- 📌 স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, ঠিকাদার নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করছেন এবং আরসিসি ঢালাইয়ের পর পানি দিয়ে ভেজানো (কিউরিং) করা হচ্ছে না
- 📌 সৈয়দপুর পৌরসভার প্রকৌশলী আইয়ুব আলী বলেছেন, কাজ নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে এবং ঠিকাদারকে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার তাগাদা দেওয়া হয়েছে
- 📌 ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স শাম্মি বিল্ডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী শামীম সাইদকে যোগাযোগ করা গেলেও সাড়া পাওয়া যায়নি
📰 বিস্তারিত
নীলফামারী সৈয়দপুর পৌরসভার দুটি প্রধান সড়ক সংস্কার প্রকল্পে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘এমএ-কেই-এসবি-জেভি’ ধীরগতি দেখাচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় শেরেবাংলা সড়ক ও জহুরুল হক সড়কের সংস্কার কাজ হাতে নেয় পৌর কর্তৃপক্ষ। সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘রিজিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটরিয়াল প্রজেক্ট’ (আরইউডিপি)-এর আওতায় এই প্রকল্প শুরু হয়েছে। মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। প্রতিটি সড়কে প্রথমে ৬০০ মিটার আরসিসি ঢালাই এবং বাকি ২ হাজার ৯০০ মিটার অংশে কার্পেটিং করা হবে। পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ফুটপাত নির্মাণ এবং সড়কবাতি স্থাপন করা হবে।
২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর কাজ শুরু হলেও এক বছরে মাত্র ৩০ শতাংশ কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। শেরেবাংলা সড়কের ঢালাইয়ের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। জহুরুল হক সড়কে ঢালাই গত সপ্তাহে শুরু হয়েছে, কিন্তু কার্পেটিংয়ের কাজ কোনো সড়কেই শুরু করা হয়নি। স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. দুলাল বলেছেন, প্রতিদিন শহীদ জহুরুল সড়ক দিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হয় তাঁকে। সড়কের কোথাও সামান্য কিংবা অর্ধেক অংশে ঢালাইয়ের কাজ করে বাকি কাজ ফেলে রেখে ঠিকাদার লাপাত্তা। তদারকি না থাকায় এটি হচ্ছে। এতে যান চলাচলের পথ সরু হয়ে গেছে এবং তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মতিয়ার রহমান অভিযোগ করেছেন, তদারকি না থাকায় ঠিকাদার সড়কের কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করছেন। এ ছাড়া আরসিসি ঢালাইয়ের পর নিয়ম অনুযায়ী পানি দিয়ে ভেজানো (কিউরিং) হচ্ছে না। এ নিয়ে পৌর প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
"অভিযোগ পেয়েছি। সরেজমিনে তদন্ত করে সড়ক নির্মাণকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা গাফিলতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
— সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নীলফামারী সৈয়দপুর পৌরসভা, শেরেবাংলা সড়ক ও জহুরুল হক সড়ক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রকৌশলী আইয়ুব আলী, মো. দুলাল, মতিয়ার রহমান, ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা (মোট ব্যয়), ৩০ শতাংশ (কাজের অগ্রগতি), ৬০০ মিটার (আরসিসি ঢালাই), ২ হাজার ৯০০ মিটার (কার্পেটিং)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!