📌 নিউগিনি প্রপার্টিজের জমি বিরোধে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে সশস্ত্র হামলায় প্রকল্পে এক কোটি ৯২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়, লুট করা হয় ২৫ লাখ টাকা ও ২৩ টন রডসহ মূল্যবান মালামাল
নিউগিনি প্রপার্টিজের জমি বিরোধে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গ্রেফতার করেছে। ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে ইসিবি চত্বর এলাকায় সংঘটিত ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই মামলায় তিনি চার নম্বর আসামি হিসেবে তদন্তাধীন ছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে জমি বিরোধের জেরে নিউগিনি প্রপার্টিজের ভাঙচুর মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে।
- 📌 ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে ইসিবি চত্বর এলাকায় সশস্ত্র হামলায় প্রকল্পে ব্যাপক ক্ষতি হয়।
- 📌 ৫০ থেকে ২০০ জন হামলাকারী পাঁচটি পিকআপ ভ্যানে আগ্নেয়াস্ত্র, দা, ছুরি ও লাঠি নিয়ে প্রকল্পে ঢুকে গুলি করে লুটপাট চালায়।
- 📌 লুট করা হয় ২৫ লাখ টাকা, ২৩ টন রডসহ মূল্যবান মালামাল এবং প্রকল্পের কার্যালয়, লকারসহ স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক ভাঙচুর হয়।
- 📌 হামলায় এক কোটি ৪২ লাখ টাকার ক্ষতি এবং আরও এক কোটি ৫০ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়।
- 📌 সালমান মুক্তাদিরের ব্রাউনফিশ স্টুডিওটিও হামলার শিকার হয়, যন্ত্রপাতি ও মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
- 📌 জমি বিরোধের জেরে ঘটনা — নিউগিনি প্রপার্টিজের দাবি, গোলাম মহিউদ্দিনের ২৩ কাঠা জমির মধ্যে ১৫ কাঠা বিক্রি করা হলেও হামলার পেছনে তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
- 📌 ২৭ সেপ্টেম্বর মামলা দায়ের — নিউগিনি প্রপার্টিজের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন।
📰 বিস্তারিত
২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগের একটি দল রমনা থানাধীন সেগুনবাগিচা এলাকার ২০ নম্বর সড়কের ২/এ নম্বর বাসায় গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করে। ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন, মামলার তদন্তকালে তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, “মামলার তদন্তে গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাকে আইনানুগভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং এখন জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।”
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইসিবি চত্বর এলাকায় নিউগিনি প্রপার্টিজের আবাসন প্রকল্পে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে, প্রায় ৫০ থেকে ২০০ জন লোক পাঁচটি পিকআপ ভ্যানে করে প্রকল্প এলাকায় আসে। তাদের হাতে ছিল আগ্নেয়াস্ত্র, দা, ছুরি ও লাঠি। তারা গুলি করতে করতে প্রকল্পের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় প্রায় ৫০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়।
হামলাকারীরা প্রকল্পের কার্যালয়, লকার এবং আশপাশের স্থাপনায় হামলা চালায়। লকার থেকে নগদ ২৫ লাখ টাকা, ২৩ টন রড, বৈদ্যুতিক তার, ওয়াটার পাম্পসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। প্রকল্প কর্তৃপক্ষের দাবি, এতে প্রায় এক কোটি ৪২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং আরও এক কোটি ৫০ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়েছে। একই সময়ে প্রকল্প এলাকায় অবস্থিত সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওটিও হামলার শিকার হয়। স্টুডিওটির যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র এবং অন্যান্য মালামাল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয়রা জানায়, হামলার সময় বেশ কয়েকজন কর্মচারী ও স্থানীয় বাসিন্দা আতঙ্কে পালিয়ে যান। সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজসহ কয়েকজন আহত হন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর হামলাকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় এবং কিছুক্ষণ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরদিন ২৭ সেপ্টেম্বর নিউগিনি প্রপার্টিজের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ৪৪৭, ৪৪৮, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩৭৯, ৩৮০, ৪২৭, ১১৪ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। এজাহারে মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে শাহরিয়ার মাহমুদকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে।
"জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর প্রায় ২৩ কাঠা জমি ছিল প্রকল্প এলাকায়। এর মধ্যে ১৫ কাঠা কয়েক বছর আগে তিনি নিউগিনির কাছে বিক্রি করেন। বাকি আট কাঠা তার নামে রয়েছে। এই জমির মালিকরাও মহিউদ্দিনের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন বলে অভিযোগ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, ইসিবি চত্বর, নিউগিনি প্রপার্টিজ প্রকল্প
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী, মো. শফিকুল ইসলাম, সালমান মুক্তাদির, সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৩ কাঠা জমি, ২৫ লাখ টাকা, ২৩ টন রড, ৫০ থেকে ২০০ জন হামলাকারী, ৫০ রাউন্ড গুলি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!