📌 নেত্রকোনায় গত ১১ বছরে ১১ জনের হত্যার মামলায় কোনো অভিযোগপত্র জমা পড়েনি। এসব হত্যার রহস্য উদ্ঘাটিত হচ্ছে না, পুলিশের তদন্তে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছে ব্যবসায়ী, শিক্ষক, শিশু ও সাংবাদিক
নেত্রকোনা জেলায় গত ১১ বছরে ১১ জনের হত্যার মামলায় পুলিশের তদন্তে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটেনি। এসব হত্যার রহস্য উদ্ঘাটিত হচ্ছে না, যা পরিবারকে হতাশায় ডুবিয়ে দিচ্ছে। চলতি বছরে মাত্র চারটি হত্যা ঘটেছে, বাকিগুলো ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সংঘটিত হয়েছে। এসব মামলায় অভিযোগপত্র জমা পড়েনি এবং দুটি মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে রহস্য উদ্ঘাটিত না করে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নেত্রকোনায় গত ১১ বছরে ১১ জনের হত্যার মামলায় কোনো অভিযোগপত্র জমা পড়েনি
- 📌 ২০১৫ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ঘটে ১১টি হত্যা, এর মধ্যে ২০২৬ সালে ৪টি
- 📌 সবচেয়ে পুরোনো মামলাটি ২০১৫ সালের ২৩ অক্টোবর, নিহত দুজন ব্যবসায়ী দম্পতি
- 📌 ৯ বার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয় দুর্গাপুর হত্যা মামলায়
- 📌 ২০২৫ সালে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, সাংবাদিক ও শিশু
- 📌 পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে
📰 বিস্তারিত
নেত্রকোনায় গত ১১ বছরে ১১ জনের হত্যার মামলায় পুলিশের তদন্তে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটেনি। এসব হত্যার রহস্য উদ্ঘাটিত হচ্ছে না, যা পরিবারকে হতাশায় ডুবিয়ে দিচ্ছে। চলতি বছরে মাত্র চারটি হত্যা ঘটেছে, বাকিগুলো ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সংঘটিত হয়েছে। এসব মামলায় অভিযোগপত্র জমা পড়েনি এবং দুটি মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে রহস্য উদ্ঘাটিত না করে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছে এক দম্পতি, অবসরপ্রাপ্ত কলেজশিক্ষক, ব্যবসায়ী, শিশু ও ইজিবাইকচালক। সবশেষ এই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন একজন সাংবাদিক। এসব হত্যা মামলার তেমন কোনো অগ্রগতি নেই, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তও করা যায়নি। এতে স্বজনদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা।
নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাগুলো তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, মামলাগুলোর রহস্য উদ্ঘাটন করে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।
২০১৫ সালের ২৩ অক্টোবর দুর্গাপুর পৌর শহরের ব্যবসায়ী অরুণ কুমার সাহা (৭৪) ও তাঁর স্ত্রী হেনা রানী সাহা (৬৫) নিজেদের বাসার শয়নকক্ষে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অরুণ সাহা মধ্যবাজার এলাকার সুবর্ণা প্লাজা ও সুবর্ণা বস্ত্রালয়ের মালিক ছিলেন। ঘটনার তিন দিন পর তাঁদের বড় ছেলে সুজিত কুমার সাহা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে দুর্গাপুর থানা-পুলিশ তদন্ত করে, পরে ২০১৫ সালের নভেম্বরে সিআইডি এবং ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্তের দায়িত্ব নেয়। এ মামলায় মোট ৯ বার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়। সর্বশেষ পিবিআইয়ের পরিদর্শক অভি রঞ্জন দেব ২০২৪ সালের জুনে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন।
"ঘটনার সময় অপরাধস্থল ও প্রয়োজনীয় আলামত সংরক্ষণ করা হয়নি। এ কারণে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়নি।"
সুজিত কুমার সাহা বলেন, ‘পুলিশ দীর্ঘদিন তদন্ত করেও রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি। আমি চাই, আমার মা–বাবার হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন হোক।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেত্রকোনা জেলা, দুর্গাপুর উপজেলা, কলমাকান্দা উপজেলা, মোহনগঞ্জ পৌর শহর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. তরিকুল ইসলাম (পুলিশ সুপার), সুজিত কুমার সাহা, মজিবুর রহমান, দিলীপ কুমার সাহা রায়, সৌরভ মিয়া, নারায়ণ পাল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ (হত্যা), ১১ (বছর), ৭৪ (অরুণ সাহার বয়স), ৬৫ (হেনা রানীর বয়স), ৯ (তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন), ২০১৫ (সর্বপ্রথম হত্যা), ২০২৬ (চলতি বছর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!