📌 নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার একটি বন্ধ বিদ্যালয়ের মাঠে খেলাধুলা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জমিদানকারী ব্যক্তিরা মাঠের অংশ ভাড়া দিয়েছে, ফলে কিশোর-তরুণরা খেলার সুযোগ হারিয়েছে। স্থানীয়রা প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় একটি বন্ধ বিদ্যালয়ের মাঠে খেলাধুলা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কিশোর-তরুণদের দাবি, মাঠের অংশ মাছের শুঁটকি তৈরির চাতাল নির্মাণের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়েছে। ফলে এলাকার ছেলেমেয়েরা খেলার সুযোগ হারিয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বেলা ১১টায় বিয়াঘাট ইউনিয়নের সাবগাড়ী হাটসংলগ্ন এই মাঠে মানববন্ধন করে স্থানীয়রা প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সাবগাড়ী বাজারের বন্ধ বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে খেলাধুলা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
- 📌 জমিদানকারী ব্যক্তি মাঠের অংশ মাছের শুঁটকি তৈরির চাতাল নির্মাণের জন্য ভাড়া দিয়েছেন।
- 📌 ১৫ দিনের বেশি সময় ধরে কিশোর-তরুণরা মাঠে খেলতে পারছেন না।
- 📌 অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য সাজন আনিছুর রহমান নেতৃত্ব দিয়েছেন মানববন্ধনে।
- 📌 উপজেলা ক্রীড়া সংগঠক মিজানুর রহমান বলেছেন, খেলাধুলা শিশু-কিশোরদের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- 📌 প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক ওয়াজকুরুনী বলেছেন, মাঠ উন্মুক্ত রয়েছে, তবে বর্ষাকালে কিছু অংশ ভাড়া দেওয়া হয়।
- 📌 উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেছেন, বিদ্যালয়ের জায়গা কারও ভাড়া দেওয়ার এখতিয়ার নেই।
📰 বিস্তারিত
বিয়াঘাট ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবগাড়ী বাজারসংলগ্ন একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রায় এক যুগ আগে চালু হলেও সরকারি নিবন্ধন না থাকায় গত চার-পাঁচ বছর ধরে শিক্ষাকার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে বিদ্যালয়ের মাঠটি এখনও রয়েছে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার কিশোর-তরুণেরা খেলাধুলা করে আসছিল। কিন্তু সম্প্রতি মাঠের অংশ মাছের শুঁটকি তৈরির চাতাল নির্মাণের জন্য জমিদানকারী ব্যক্তিরা ভাড়া দিয়েছেন। ফলে খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকার কিশোর-তরুণেরা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদনান ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইমন হোসেন জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ের ছুটির পর সহপাঠীদের সঙ্গে এই মাঠে খেলাধুলা করতেন। কিন্তু গত ১৫ দিনের বেশি সময় ধরে সেখানে খেলতে পারছেন না। কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী রানা আহম্মেদ, নাইস ইসলাম ও নাইম হোসেন বলেছেন, এলাকাটি পিছিয়ে পড়া ও মাদকপ্রবণ। খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনের অভাবে অনেক তরুণ-যুবক বিপথগামী হয়ে পড়েছেন। মাঠের অভাব ও খেলাধুলার সুযোগ না থাকলে নতুন প্রজন্মের কিশোর-তরুণও বিপথে যেতে পারে।
অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য সাজন আনিছুর রহমান বলেছেন, বিয়াঘাট ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের এই মাঠে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার ছেলেরা খেলাধুলা করে আসছিল। তবে সম্প্রতি বিদ্যালয়ের নামে জমিদানকারী ব্যক্তিরা সেখানে খেলাধুলায় বাধা দিচ্ছেন। তিনি আরও বলেছেন, আত্রাই নদের তীরঘেঁষা বিদ্যালয় মাঠটি মাছের শুঁটকি তৈরির চাতাল নির্মাণের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়েছে। ফলে খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকার কিশোর-তরুণেরা।
উপজেলা ক্রীড়া সংগঠক মিজানুর রহমান বলেছেন, খেলাধুলা শিশু, কিশোর, তরুণ ও যুবকদের মেধা, মননশীলতা এবং মানবিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সরকারও খেলাধুলার প্রসার ও নতুন মাঠ তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে খেলার মাঠ কুক্ষিগত করে রাখার অভিযোগ উদ্বেগজনক। শিশু-কিশোর ও তরুণদের স্বার্থে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক ওয়াজকুরুনী বলেছেন, বিদ্যালয়ের কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও মাঠটি উন্মুক্ত রয়েছে। সেখানে অনেক কিশোর-তরুণ খেলাধুলা করে, তাদের বাধা দেওয়া হয় না। তবে বর্ষাকালে মাছের শুঁটকি এবং শুষ্ক মৌসুমে ভুট্টা শুকানোর জন্য মাঠের কিছু অংশ ভাড়া দেওয়া হয়। এ সময় খেলাধুলায় সাময়িক অসুবিধা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেছেন, বিদ্যালয়ের কোনো জায়গা কারও ভাড়া দেওয়ার এখতিয়ার নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
"আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই মাঠে খেলাধুলা করতাম। কিন্তু গত ১৫ দিনের বেশি সময় ধরে সেখানে খেলতে পারছি না। খেলাধুলার সুযোগ না থাকলে নতুন প্রজন্ম বিপথে যেতে পারে।" — রানা আহম্মেদ, কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গুরুদাসপুর উপজেলা, নাটোর; বিয়াঘাট ইউনিয়নের সাবগাড়ী হাটসংলগ্ন বন্ধ বিদ্যালয়ের মাঠ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য সাজন আনিছুর রহমান, উপজেলা ক্রীড়া সংগঠক মিজানুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ, প্রধান শিক্ষক ওয়াজকুরুনী, শিক্ষার্থী রানা আহম্মেদ, সাদনান, ইমন হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১.০০ (টার), ৪.০ (ওয়ার্ড নম্বর), ১৫.০ (দিন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!