📌 নাটোরের গুরুদাসপুরে যুবদল নেতা জিয়াউর রহমান জিয়ার অনুসারীরা একই পরিবারের তিন নারীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করে গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকায় ঘোরান। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, তাদেরকে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়নি মেনে নেওয়ার পরও শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হলেও অভিযোগ না দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি
নাটোরের গুরুদাসপুরে একই পরিবারের তিন নারীকে গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকায় ঘোরানোর ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে উঠেছে। ভুক্তভোগী নারীরা দাবি করেছেন, যুবদল নেতা জিয়াউর রহমান জিয়ার অনুসারীরা তাদেরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মারধর, মানসিক নির্যাতন এবং অর্থ দাবি করে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হলেও অভিযোগ না দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫ অক্টোবর বিকেলে গুরুদাসপুর পৌরসভার চাঁচকৈড় গাড়িষাপাড়া মহল্লায় একই পরিবারের তিন নারীকে জুতার মালা পরিয়ে এলাকায় ঘোরানো হয়।
- 📌 সোমবার সাড়ে ১১টায় যুবদল নেতা জিয়াউর রহমান জিয়ার অনুসারীরা তাদের বাড়িতে এসে শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে টেনেহিঁচড়ে জিয়ার বাড়িতে নিয়ে যান।
- 📌 ১০ লাখ টাকা দাবি করা হলেও টাকা না দিলে নির্যাতনের মাত্রা বাড়ানো হয়। সন্ধ্যার আগে জিয়ার অনুসারীরা তাদেরকে গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকায় ঘোরান।
- 📌 ২২ সেপ্টেম্বর থানায় জিয়ার হুমকি দেবার অভিযোগ করা হয়েছিল। সোমবার ১৫ থেকে ২০ জন অনুসারীরা তাদের বাড়িতে এসে মারধর ও মানসিক নির্যাতন চালায়।
- 📌 জিয়ার ভাতিজির বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর জিয়ার পরিবার ‘কালো জাদু’ করার অভিযোগ তোলেন। ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন, এই বিরোধের জেরেই ঘটনাটি ঘটেছে।
- 📌 জিয়ার বড় ভাই ইয়ারুল সরদার দাবি করেছেন, তাঁর মেয়ের ‘কালো জাদু’ করা হয়েছে। তবে কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
- 📌 গুরুদাসপুর থানার ওসি আব্দুল হান্নান বলেছেন, অভিযোগ না দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
- 📌 নাটোর আদালতের সিনিয়র আইনজীবী মুক্তার হোসেন বলেছেন, জুতার মালা পরিয়ে ঘোরানো মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং দণ্ডনীয় অপরাধ।
📰 বিস্তারিত
গুরুদাসপুর পৌরসভার চাঁচকৈড় গাড়িষাপাড়া মহল্লায় সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী তিন নারীকে একটি বাড়িতে আটকে রেখে মারধর করা হয়। পরে তাদেরকে জিয়ার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে প্রায় চার ঘণ্টা আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনের সময় তাদের কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে নির্যাতনের মাত্রা বাড়ানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, জিয়ার ভাতিজির সঙ্গে তাদের পরিবারের এক তরুণের বিয়ের কথা ছিল। পরে সেই বিয়ে হয়নি। প্রায় এক বছর আগে জিয়ার ভাতিজির অন্যত্র বিয়ে হয়। জিয়ার পরিবার ‘কালো জাদু’ করার অভিযোগ তোলেন। ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন, এই বিরোধের জেরেই তাদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।
জিয়ার বড় ভাই ইয়ারুল সরদার দাবি করেছেন, তাঁর মেয়ের সঙ্গে বিয়ের প্রস্তাব ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ‘কালো জাদু’ করার অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে তাঁরা কবিরাজ ও মাওলানাদের মাধ্যমে ঝাড়ফুঁক করানোর সময় তাঁর মেয়েকে ‘কালো জাদু’ করা হয়েছে বলে জানতে পারেন। তবে কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি নজরে আসার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু ভুক্তভোগী পরিবার থানায় কোনো অভিযোগ না করায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
"আমি বা আমার মেয়ে কোনো অন্যায় করে থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন ও গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকায় ঘোরানো কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।"
নাটোর আদালতের সিনিয়র আইনজীবী মুক্তার হোসেন বলেছেন, কারও গলায় জুতার মালা পরিয়ে জনসম্মুখে ঘোরানো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের মধ্যে পড়তে পারে। এটি ব্যক্তির মর্যাদা ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মারধর, মানহানি ও বলপ্রয়োগসহ প্রযোজ্য আইনে মামলা করা উচিত।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গুরুদাসপুর পৌরসভা, নাটোর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জিয়াউর রহমান জিয়া (যুবদল নেতা), ইয়ারুল সরদার (জিয়ার বড় ভাই), মুক্তার হোসেন (সিনিয়র আইনজীবী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ অক্টোবর, সাড়ে ১১টা, ১০ লাখ টাকা, ২২ সেপ্টেম্বর, ১৫ থেকে ২০ জন অনুসারী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!