📌 নাটোরে পুলিশ কনস্টেবলের নৃশংসতায় সাত বছর বয়সী শিশুর বিচ্ছিন্ন আঙুল জোড়া দেওয়া সম্ভব নয়। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো হাসপাতালে না আসায় আঙুলের পুনরুদ্ধার অসম্ভব। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য ও স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, কিন্তু শিশুর বাবা ক্ষতিপূরণের দাবিতে কাঁদছেন
নাটোরে পুলিশ কনস্টেবলের নৃশংসতায় সাত বছর বয়সী একটি শিশুর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া আঙুল জোড়া দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো হাসপাতালে না আসায় শিশুর আঙুলের পুনরুদ্ধার অসম্ভব। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র শেখ শামীম আহমেদ জানান, শিশুটির বিচ্ছিন্ন আঙুল আর জোড়া দেওয়া সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আঙুলসহ হাসপাতালে পৌঁছাতে পারলে জোড়া দেওয়া সম্ভব হতো। বর্তমানে বিচ্ছিন্ন আঙুলটি শুধু আলামত হিসেবে জারের ভেতরে রেখে দেওয়া হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নাটোরে পুলিশ কনস্টেবলের নৃশংসতায় সাত বছর বয়সী শিশুর ডান হাতের একটি আঙুল কেটে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে।
- 📌 রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র শেখ শামীম আহমেদ জানান, বিচ্ছিন্ন আঙুল জোড়া দেওয়া সম্ভব নয়।
- 📌 শিশুর বাবা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমার ছেলেটাকে চিরতরে বিকলাঙ্গ করে দিল ভাই। এখন আসামির যদি ১০-১২ বার ফাঁসি হয়, সূর্য যদি পশ্চিম দিক থেকেও ওঠে, তবু আমার ক্ষতিপূরণ হবে না।’
- 📌 অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল ও স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, কিন্তু শিশুর বাবা-মা জানান, চাবি দিলে আঙুল ছয় ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে পৌঁছানো যেত।
- 📌 শিশুর বাবা ঢাকার জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপক, স্ত্রী নাটোরে বাস করেন। অভিযুক্ত পুলিশের পরিবার তাদের বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে থাকেন।
📰 বিস্তারিত
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে নাটোর শহরের একটি এলাকায় ঘটে এই নৃশংসতা। শিশুটির ডান হাতের একটি আঙুল কেটে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন শিশুদেরই বাড়ির ভাড়াটে পুলিশ কনস্টেবল। ঘটনার পর শিশুটি আঙুল নিয়ে নিজের বাড়িতে ফিরে আসে এবং তার মাকে জানায়, খাটের পায়ার ওপর হাত রেখে তরকারি কাটার হাঁসুয়া দিয়ে তার আঙুল কেটে দেওয়া হয়েছে। পরে শিশুটিকে নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শিশুর বাবা জানান, ঘটনার পর ফ্ল্যাটের চাবি নিয়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য গড়িমসি করেন। তিনি বলেন, ‘পুলিশের ওই সদস্যের কাছে চাবি থাকা সত্ত্বেও তাঁরা ঘর খোলার ব্যবস্থা করছিলেন না। যখন তালা ভাঙার প্রস্তুতি নেওয়া হয়, তখন ওই পুলিশ সদস্য স্বীকার করেন তাঁদের কাছে চাবি আছে। আগে ঘর খুলতে পারলে আঙুলটা ছয় ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা যেত।’
অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল থানায় অভিযোগ করেছেন, তাঁর মেয়েকে যৌন নিপীড়ন করেছে বাড়িওয়ালার ছেলে। তবে এ বিষয়ে তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি। নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনসুর রহমান জানান, সাত বছরের ছেলের পক্ষে যৌন নিপীড়ন করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘এটা পুলিশ কনস্টেবল বলেছেন, তাঁরা শুনেছেন। এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ওই পুলিশ কনস্টেবল ও তাঁর স্ত্রীকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
“আমার ছেলেটাকে চিরতরে বিকলাঙ্গ করে দিল ভাই। আমার ছেলেটা এই হাত দিয়ে আর কোনো দিন কলম ধরতে পারবে না। এখন আসামির যদি ১০-১২ বার ফাঁসি হয়, সূর্য যদি পশ্চিম দিক থেকেও ওঠে, তবু আমার ক্ষতিপূরণ হবে না। এই দুঃখ আমি কোনো দিন ভুলতে পারব না।” — শিশুর বাবা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নাটোর শহর, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকার জনতা ব্যাংক শাখা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিশুর বাবা, শেখ শামীম আহমেদ (রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র), অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল ও স্ত্রী, মো. মনসুর রহমান (নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ বছর (শিশুর বয়স), ১০-১২ বার (ফাঁসির দাবি), ১ নম্বর ওয়ার্ড, ৫ নম্বর বেড
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!