📌 নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় কালো জাদু করার মিথ্যা অভিযোগে তিন নারীকে জুতার মালা পরিয়ে গ্রামের রাস্তায় ঘোরানো হয়। ভুক্তভোগীদের মারধর করা হয় এবং ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোর করে সই নেওয়া হয়। অভিযুক্তরা দাবি করেন, তাদের মেয়ের অসুস্থতার জন্য নারীদের জাদু করার অভিযোগ করা হয়েছে
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় কালো জাদু করার মিথ্যা অভিযোগে তিন নারীকে প্রকাশ্যে জুতার মালা পরিয়ে হেনস্তা করা হয়। ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার সন্ধ্যায় পৌরসভার একটি এলাকায়। স্থানীয় ইয়ারুল সরদার ও তাঁর ভাই জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে নারীদের বিরুদ্ধে এই অপব্যবহার করা হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওর মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় তিন নারীর গলায় জুতার মালা পরিয়ে পাকা সড়কে ঘোরানো হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নাটোর গুরুদাসপুরে কালো জাদু অভিযোগে তিন নারীকে জুতার মালা পরিয়ে গ্রামে ঘোরানো হয়
- 📌 ভুক্তভোগীদের জোর করে একটি কক্ষে আটকে রেখে ফাঁকা স্ট্যাম্পে সই নেওয়া হয়
- 📌 অভিযুক্ত জিয়াউর রহমান দাবি করেন, এলাকাবাসীরা তাঁদের পিটুনি দিতে চেয়েছিল
- 📌 ইয়ারুল সরদার দাবি করেন, নারীরা তাঁর মেয়ের অসুস্থতার জন্য ৫০ হাজার টাকা দিতে অস্বীকার করায় জাদু করার অভিযোগ করা হয়েছে
- 📌 গুরুদাসপুর থানার ওসি জানান, অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে
📰 বিস্তারিত
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় গুরুদাসপুর পৌরসভার একটি এলাকায় তিন নারীকে কালো জাদু করার অভিযোগে জুতার মালা পরিয়ে প্রকাশ্যে হেনস্তা করা হয়। স্থানীয় ইয়ারুল সরদার ও তাঁর ভাই জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী নারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, ইয়ারুল সরদারের জামাতা রাতুলের সঙ্গে ভুক্তভোগী এক নারীর মেয়ের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। পরে ইয়ারুলের মেয়ে ঐশীর সঙ্গে রাতুলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর ঐশী অসুস্থ হয়ে পড়লে ইয়ারুলের পরিবার অভিযোগ তোলে যে, ভুক্তভোগী নারীর মেয়ের সঙ্গে বিয়ে না হওয়ায় ‘কালো জাদু’ করে তিনি ঐশীকে অসুস্থ করে দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী নারীরা অভিযোগ করেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কালো জাদু করার মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়। প্রতিবাদ করার মতো কেউ না থাকায় জুতার মালা পরিয়ে গ্রামে ঘোরানো হয়। জোর করে ফাঁকা স্ট্যাম্পে সইও নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় তিন নারীর গলায় জুতার মালা পরিয়ে পাকা সড়কে হাঁটানো হচ্ছে। আরেকটি ভিডিওতে ভুক্তভোগী নারীদের অভিযুক্ত জিয়াউর রহমানের বাড়ির একটি কক্ষে আটক অবস্থায় দেখা যায়। সেখানে ছাবলু নামের এক ব্যক্তি ক্যামেরার সামনে তাঁদের কাছ থেকে স্ট্যাম্পে সই নিচ্ছেন।
অভিযুক্ত জিয়াউর রহমান বলেন, এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে ওই নারীদের ধরে নিয়ে আসে। তিনি দাবি করেন, তিনি ঘটনায় জড়িত নন। ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার জন্য এলাকার মুরব্বিরা স্ট্যাম্পে মুচলেকা নিয়েছেন। তিনি বলেন, তিনি না থাকলে তাঁদের পিটুনি দেওয়া হতো। ইয়ারুল সরদার দাবি করেন, প্রায় ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন কবিরাজের মাধ্যমে তাঁর মেয়েকে ‘কুফরি কালাম’ ও ‘বাণ’ মেরেছেন ওই নারীরা। এতে তাঁর মেয়ের শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিয়েছে।
"এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে ওই নারীদের ধরে নিয়ে আসে। তিনি ঘটনায় জড়িত নন। ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার জন্য এলাকার মুরব্বিরা স্ট্যাম্পে মুচলেকা নিয়েছেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গুরুদাসপুর উপজেলা, নাটোর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইয়ারুল সরদার, জিয়াউর রহমান, ভুক্তভোগী তিন নারী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ হাজার টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!