📌 নারায়ণগঞ্জে নাসিকের অনুমতি ছাড়াই অভ্যন্তরীণ কনটেইনার পোর্ট নির্মাণ চলছে। প্রকল্পের ব্যয় ৬১৫ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ কোটি টাকারও বেশি করা হচ্ছে। নির্মাণ এলাকায় হাসপাতাল, স্কুল, কলেজসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান অবস্থিত। স্থানীয় পরিকল্পনাবিদরা প্রকল্পের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
নারায়ণগঞ্জের প্রধান সড়ক বঙ্গবন্ধু সড়ক ঘিরে প্রতিদিন অসহনীয় যানজটের মধ্যে শহরবাসীর জীবন কষ্টকর হচ্ছে। এই অবস্থায় নাসিকের অনুমতি ছাড়াই অভ্যন্তরীণ কনটেইনার পোর্ট ও বাল্ক টার্মিনাল নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলেছে। খানপুর বরফকল এলাকায় নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন। প্রকল্পের ব্যয় ৬১৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৮৫০ কোটি টাকারও বেশি করা হয়েছে। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা ও প্রশাসনিক সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নাসিকের অনুমতি ছাড়াই নারায়ণগঞ্জের খানপুর বরফকল এলাকায় অভ্যন্তরীণ কনটেইনার পোর্ট নির্মাণ চলছে
- 📌 প্রকল্পের ব্যয় ৬১৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৮৫০ কোটি টাকারও বেশি করা হয়েছে
- 📌 নির্মাণ এলাকায় অবস্থিত সরকারি ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালসহ নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুল, কলেজ, ক্যানসার হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান
- 📌 প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর থেকে সরাসরি কনটেইনার পরিবহন সহজ করা
- 📌 নগরীর যানজট ও জনদুর্ভোগ বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে
- 📌 কেরানীগঞ্জের পানগাঁও পোর্টের ৮০ শতাংশ সক্ষমতা অব্যবহূত থাকায় নতুন টার্মিনালের প্রয়োজনীয়তা প্রশ্নবিদ্ধ
📰 বিস্তারিত
নারায়ণগঞ্জের প্রধান সড়ক বঙ্গবন্ধু সড়ক ঘিরে প্রতিদিন অসহনীয় যানজটের মধ্যে শহরবাসীর জীবন কষ্টকর হচ্ছে। মাত্র দেড় কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে কখনো দুই থেকে তিন ঘণ্টা লেগে যায়। এই অবস্থায় নাসিকের অনুমতি ছাড়াই অভ্যন্তরীণ কনটেইনার পোর্ট ও বাল্ক টার্মিনাল নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলেছে। খানপুর বরফকল এলাকায় নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন। প্রকল্পের ব্যয় ৬১৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৮৫০ কোটি টাকারও বেশি করা হয়েছে। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা ও প্রশাসনিক সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রকল্পের উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হচ্ছে, চট্টগ্রাম, মোংলা সহ দেশের বিভিন্ন বন্দর থেকে অভ্যন্তরীণ নৌপথে সরাসরি কনটেইনার পরিবহন সহজ করা। বাংলাদেশ-ভারত নৌ-প্রটোকলের আওতায় উপ-আঞ্চলিক বাণিজ্য ও ট্রানজিট সুবিধা সমপ্রসারণও এর অন্যতম লক্ষ্য। তবে বাস্তবতার সঙ্গে সেই পরিকল্পনার মিল রয়েছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
কনটেইনার পোর্ট চালু হলে সেখানে আসবে ভারী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান এবং ১৬ থেকে ২০ চাকার লরি। এসব যানবাহন কী পথে চলবে? কোন মহাসড়কের সঙ্গে টার্মিনালের সংযোগ ঘটবে? শহরের ভেতর দিয়ে চলাচল করলে যানজট সামলাবে কে? এসব প্রশ্নের সুস্পষ্ট উত্তর নেই। খানপুর ও বরফকল এলাকা ঘনবসতিপূর্ণ। আশপাশে রয়েছে বসতি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। নির্মাণ এলাকায় মাত্র ২০০ গজ দূরত্বে অবস্থিত সরকারি ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল। হাসপাতালটিকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার কাজও চলমান। পাশেই রয়েছে প্রস্তাবিত কুমুদিনী ক্যানসার হাসপাতাল। কয়েকশ গজের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুল ও নারায়ণগঞ্জ কলেজ। রয়েছে বিপণিবিতান, শহীদ মিনার, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ মঈনুল ইসলাম প্রকল্পটির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, খানপুরের খুব কাছেই কেরানীগঞ্জে রয়েছে পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার পোর্ট। ২০১৩ সালে চালু হওয়া এই বন্দরটি ব্যবসায়ীদের পর্যাপ্ত আগ্রহের অভাবে এখনো পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হতে পারছে না। পানগাঁও থেকে খানপুরের দূরত্ব প্রায় ১৫-১৬ কিলোমিটার। অন্যদিকে মুক্তারপুর সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট থেকে দূরত্ব মাত্র ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার। একই ধরনের আরও একটি টার্মিনাল নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তাই প্রশ্নবিদ্ধ।
"পানগাঁও থেকে খানপুরের দূরত্ব প্রায় ১৫-১৬ কিলোমিটার। অন্যদিকে মুক্তারপুর সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট থেকে দূরত্ব মাত্র ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার। একই ধরনের আরও একটি টার্মিনাল নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তাই প্রশ্নবিদ্ধ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নারায়ণগঞ্জের খানপুর বরফকল এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মঈনুল ইসলাম (নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬১৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা (প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয়), ৮৫০ কোটি টাকা (বাড়ানো ব্যয়), ৩০০ শয্যা (হাসপাতাল), ৫০০ শয্যা (উন্নীত হাসপাতাল), ১৬-২০ চাকার লরি (প্রয়োজনীয় যানবাহন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!