📌 নওগাঁর ধামইরহাটে বাবার বাড়িতে বসবাসকারী ৬৫ বছর বয়সী হালিমা বেগমকে সম্পদ ও কানের দুলের লোভে পাঁচজন আততায়ী হত্যা করে। তাদের মধ্যে ছোট ভাই মজনু রহমান ও স্ত্রী হোসনে আরা সহ পাঁচজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে
নওগাঁ জেলার ধামইরহাট উপজেলায় সম্পদ ও কানের দুলের লোভে বাবার বাড়িতে বসবাসকারী ৬৫ বছর বয়সী হালিমা বেগমকে পাঁচজন আততায়ী হত্যা করেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পাঁচ দিন আগে থেকে এই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। বুধবার (২১ অক্টোবর) পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নেতৃত্বে সংবাদ সম্মেলনে এই ঘটনার বিস্তারিত জানানো হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার তালবোনা গ্রামে ৬৫ বছর বয়সী হালিমা বেগমের রক্তাক্ত মরদেহ ১৯ অক্টোবর সকালে পাওয়া যায়।
- 📌 হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি ও ওড়না জব্দ করা হয়েছে।
- 📌 পাঁচজন গ্রেপ্তার: মজনু রহমান (৫৬), হোসনে আরা (৪২), রবিউল ইসলাম (৩৯), হামিদুর রহমান (৫৫), মোশারফ হোসেন (৪৫)।
- 📌 হত্যার মূল কারণ হিসেবে দাবি করা হয়েছে সম্পদ, কানের দুল ও জমিজমা নিয়ে বিরোধ।
- 📌 পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হত্যার পরিকল্পনা ছিল ১৮ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে।
📰 বিস্তারিত
নওগাঁ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের তথ্য অনুযায়ী, নওগাঁ জেলার ধামইরহাট উপজেলার তালবোনা গ্রামের ছিলিমপুরে বসবাসকারী হালিমা বেগমকে পাঁচজন আততায়ী হত্যা করেছে। হালিমা বেগম ছিলেন নিঃসন্তান ও স্বামীপরিত্যক্তা। তিনি বাবার বাড়িতে ছোট ভাই মজনু রহমানের ঘরের পেছনে একটি ছাপড়াঘরে বসবাস করতেন। তিনি মানুষের বাড়িতে কাজ করার পাশাপাশি গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগি পালন করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
পুলিশের তথ্য মতে, হত্যার পাঁচ দিন আগে থেকে এই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ১৮ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে হামিদুর রহমান কৌশলে হালিমাকে ঘর থেকে ডেকে বের করেন। পরে অন্যরা তাঁকে ধরে প্রায় ২০০ গজ দূরে একটি খড়ের পালার পেছনে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর হাত রশি দিয়ে বেঁধে ওড়না গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। হত্যার পর কানের সোনার দুল নেওয়ার জন্য হামিদুর হালিমার এক কানের লতি কেটে এবং অন্য কানের লতি ছিঁড়ে ফেলেন। পরে মরদেহটি বাঁশঝাড়ের আড়ালে ফেলে রেখে দুল দুটি নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হালিমার জমানো টাকা ও গবাদিপশুর প্রতি মজনু ও তাঁর স্ত্রীর লোভ ছিল। অন্যদিকে, স্থানীয় মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় রবিউল এবং জমিজমা নিয়ে পুরোনো বিরোধের কারণে হামিদুর ও মোশারফ তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। এই বিরোধের জেরে ঘটনার প্রায় পাঁচ দিন আগে পাঁচজন মিলে তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে পুলিশের দাবি।
"হালিমা বেগমের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁর এক কানের লতি কাটা ও অন্য কানের লতি ছেঁড়া অবস্থায় দেখতে পান।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ধামইরহাট উপজেলা, নওগাঁ, তালবোনা গ্রামের ছিলিমপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হালিমা বেগম (৬৫), মজনু রহমান (৫৬), হোসনে আরা (৪২), রবিউল ইসলাম (৩৯), হামিদুর রহমান (৫৫), মোশারফ হোসেন (৪৫)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ জন গ্রেপ্তার, ৬৫ বছর বয়সী নিহত, ২০০ গজ দূরে হত্যা করা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!