📌 ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ডের আশায় টিপসই দিয়ে জাল বিয়ে কাগজপত্র তৈরি করে বিধবা নারী আছিয়া বেগমকে প্রতারণা করা হয়েছে। গ্রামবাসীর মুখ দেখতে না পেরে তিনি মসজিদ বিচারে আবেদন করেছেন
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ডের আশায় টিপসই দিয়ে জাল বিয়ে কাগজপত্র তৈরি করে বিধবা নারী আছিয়া বেগমকে প্রতারণা করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে পাটুলী গ্রামে, যেখানে ভুক্তভোগী নারীকে জালিয়াতির শিকার হতে হয়েছে। ঘটনাটি জানার পর তিনি গ্রামের মসজিদ কমিটিতে বিচার দাবি করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার পাটুলী গ্রামের বিধবা আছিয়া বেগম (৪৩) ফ্যামিলি কার্ডের আশায় টিপসই দিয়ে জাল বিয়ে কাগজপত্র তৈরি করা হয়েছে।
- 📌 জালিয়াতির শিকার হয়ে তিনি গ্রামবাসীদের মুখ দেখতে পারছেন না এবং মসজিদ বিচারে আবেদন করেছেন।
- 📌 অভিযুক্ত ব্যক্তি আব্দুছ ছাত্তার ও আব্দুল কদ্দুছকে (৬২) জাল কাবিননামা ও এফিডেভিট তৈরি করে বিয়ে সম্পন্ন বলে প্রচার করেছেন।
- 📌 পৌরসভার নিকাহ রেজিস্ট্রার মো. গোলাম মোস্তফা দাবি করেছেন, তার সীল ও স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।
- 📌 ফুলবাড়িয়া থানার ওসি রাশেদুল হাসান বলেছেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
📰 বিস্তারিত
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার পাটুলী গ্রামের বিধবা আছিয়া বেগম (৪৩) ফ্যামিলি কার্ডের আশায় টিপসই দিয়ে জাল বিয়ে কাগজপত্র তৈরি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে গত এক যুগ আগে তার স্বামীর মৃত্যুর পর। তিনি পাঁচ সন্তানের মা এবং তিন ছেলেকে বিয়ে করেছেন। তবে তার দ্বিতীয় ছেলে আসাদুলকে বিয়ে করার সময় প্রতিবেশী আব্দুল কদ্দুছকে (৬২) শ্বশুর বানানো হয়েছিল। কদ্দুছ প্রায়ই তার বাড়িতে আসতেন এবং বিয়ের প্রস্তাব দিতেন, কিন্তু তিনি প্রত্যাখ্যান করতেন।
গত প্রায় দেড় মাস আগে, আব্দুছ ছাত্তার ফ্যামিলি কার্ডের নামে আছিয়া বেগমের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি নেয়। এরপর তিনি দুটি টিপসই নেয় এবং জাল কাবিননামা ও এফিডেভিট তৈরি করে বিয়ে সম্পন্ন বলে প্রচার শুরু করেন। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। আছিয়া বেগম বলেছেন, “ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে একদিন জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি নিয়েছেন ছাত্তার। আরেকদিন ফোন দিয়ে ছাত্তারের দোকানে নিয়ে কাগজে টিপসই নিয়েছেন। এখন গ্রামে ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে আমাকে কদ্দুছ বিয়ে করেছেন। আমার পাঁচ সন্তান ও নাতনী রয়েছে, গ্রামে মানুষের মাঝে মুখ দেখাতে পারছি না।”
সালিশে উপস্থিত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হতদরিদ্র আছিয়া বেগমকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হয়ে আব্দুল কদ্দুছ ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে এফিডেভিট ও ভুয়া কাবিননামা করেছেন। কাবিননামায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর ও ৫০ হাজার টাকা নগদ আদায় দেখানো হয়েছে, কিন্তু সাক্ষী হিসেবে রাখা দুজন ব্যক্তি এ বিষয়টি জানেন না। পৌরসভার ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার মো. গোলাম মোস্তফা দাবি করেছেন, তার সীল ও স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।
"আমাকে কদ্দুছ বিয়ে করেছেন বলে গ্রামে ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে। আমার পাঁচ সন্তান ও নাতনী রয়েছে, গ্রামে মানুষের মাঝে মুখ দেখাতে পারছি না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পাটুলী গ্রাম, ফুলবাড়িয়া উপজেলা, ময়মনসিংহ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিধবা আছিয়া বেগম (৪৩), আব্দুল কদ্দুছ (৬২), আব্দুছ ছাত্তার, মো. গোলাম মোস্তফা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৩ বছর (আছিয়া বেগম), ৬২ বছর (কদ্দুছ), ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা (দেনমোহর), ৫০ হাজার টাকা (নগদ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!