📌 মুন্সিগঞ্জের কাটাখালী এলাকায় বাসা থেকে কাজিকে জোর করে তুলে নিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে যুবদল নেতা রাজিব হোসেনসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী কাজির নাম মো. হাবিবুর রহমান (৫২)। ঘটনায় জড়িতদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে
মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায় কাজিকে বাড়ি থেকে জোর করে তুলে নিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে যুবদল নেতা রাজিব হোসেনসহ দুজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনায় জড়িতদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী কাজির নাম মো. হাবিবুর রহমান (৫২)। তিনি মুন্সিগঞ্জ শহরের কাটাখালী এলাকায় বসবাস করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় মো. হাবিবুর রহমান (৫২) বাড়ি থেকে জোর করে তুলে নিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
- 📌 রাজিব হোসেনসহ তিনজন আসামির মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
- 📌 ভুক্তভোগী কাজির স্ত্রী নাসিমা বেগমের উপস্থিতিতে আসামিদের টাকা দেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
- 📌 ঘটনায় জড়িত রাজিব হোসেনকে যুবদল থেকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ বহিষ্কার করা হয়েছে।
- 📌 মামলায় অভিযোগ: কাজিকে বিয়ে পড়ানোর কথা বলে জোর করে মুক্তারপুরে নিয়ে যাওয়া হয়, টাকা না দিলে লাইসেন্স বাতিল ও প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।
📰 বিস্তারিত
মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিব হোসেনসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি চাঁদাবাজির দুই লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তসলিমউদ্দিন জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী কাজি বাদী হয়ে মামলা করেছেন। তিনি বলেন, “চাঁদার দুই লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে রাজিবসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।”
ভুক্তভোগী মো. হাবিবুর রহমানের বিবরণ অনুযায়ী, সোমবার বেলা দুইটার দিকে তিনি কাটাখালী এলাকার বাসায় ছিলেন। তখন রাজিব হোসেন, তাঁর বন্ধু স্বপনসহ কয়েকজন তিনটি মোটরসাইকেলে করে তাঁর বাসায় আসেন। বিয়ে পড়ানোর কথা বলে তাঁকে প্রথমে কাটাখালীতে তাঁর কার্যালয়ে এবং পরে জোর করে শহরের অদূরে মুক্তারপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে একটি কক্ষে আটকে রেখে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে কাজির লাইসেন্স বাতিল ও প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। প্রাণভয়ে তিনি টাকা দিতে রাজি হন। এরপর তাঁকে মুন্সিগঞ্জ কাঁচারিবাজারের অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি শাখায় নিয়ে তাঁর হিসাব নম্বর থেকে দুই লাখ টাকা তোলা হয়। তাঁর স্ত্রী নাসিমা বেগমের উপস্থিতিতে আসামিদের টাকা দেওয়ার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
হাবিবুর রহমানের ছেলে সাংবাদিক নাহিদ হাসান জানান, ঘটনাটি জানার পর মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামানকে বিষয়টি জানান। সংসদ সদস্যের পরামর্শে বাবাকে নিয়ে থানায় যান। কিছুক্ষণ পর রাজিব হোসেন থানায় এসে দুই লাখ টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে ওসির সহযোগিতায় টাকা উদ্ধার হয়। টাকা ফেরত দেওয়ার পর বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ হাসান। তিনি বলেন, “মামলা করলে পরিবার বিপদে পড়তে পারে—এমন ভয়ও দেখানো হয়েছিল। সাংবাদিক পরিবার হওয়ার পরও যেসব ঘটনা ঘটল, সাধারণ মানুষের সঙ্গে কী ঘটে, সেটা অনুমান করা যায়। আমরা ভুক্তভোগী হয়েছি, আর কেউ না হোক। রাজিবসহ যারা ঘটনায় জড়িত এবং যারা তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।”
"সাংবাদিক পরিবার হওয়ার পরও যেসব ঘটনা ঘটল, সাধারণ মানুষের সঙ্গে কী ঘটে, সেটা অনুমান করা যায়। আমরা ভুক্তভোগী হয়েছি, আর কেউ না হোক।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা, কাটাখালী এলাকা, মুক্তারপুর, কাঁচারিবাজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. হাবিবুর রহমান (৫২), রাজিব হোসেন, সাংবাদিক নাহিদ হাসান, ওসি মো. তসলিমউদ্দিন, সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫২ বছর (হাবিবুর রহমান), ২ লাখ টাকা (চাঁদা), ৩ জন আসামি (রাজিবসহ), ২ জন গ্রেপ্তার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!