📌 বদরগঞ্জের মোরশেদুল হক ১২ বছরে ১১২ জনকে সেলাই মেশিন, ৫২ জনকে রিকশা ভ্যান এবং ১০ জনকে গরু দিয়েছেন। লিপি বেগমের মতো অসহায়দের জীবন পরিবর্তন করে তিনি স্বাবলম্বী করে তুলেছেন
বদরগঞ্জ উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের মোরশেদুল হক ২০১৪ সাল থেকে অসহায় মানুষদের স্বাবলম্বী করার পথ দেখাচ্ছেন। লিপি বেগমের মতো অসহায় পরিবারকে সেলাই মেশিন দিয়ে শুরু করে তিনি এখন পর্যন্ত ১১২ জনকে সেলাই মেশিন, ৫২ জনকে রিকশা ভ্যান এবং ১০ জনকে গরু দিয়েছেন। এছাড়াও ১১৫টি পরিবারকে হাঁস-মুরগি এবং ২৫ জন নারীকে ছাগল সহায়তায় পেয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১১২ জনকে সেলাই মেশিন** দিয়ে স্বাবলম্বী করা হয়েছে মোরশেদুল হকের মাধ্যমে, যার মধ্যে লিপি বেগম অন্যতম।
- 📌 **৫২ জনকে রিকশা ভ্যান** এবং **৫ জনকে ইজিবাইক** সহায়তায় পেয়েছেন, যাদের মধ্যে ছাবের আলী ও আমিনুল ইসলামের নাম উল্লেখযোগ্য।
- 📌 **১০ জনকে গরু** এবং **২৫ জন নারীকে ছাগল** সহায়তায় পেয়েছেন।
- 📌 **১১৫টি পরিবারকে হাঁস-মুরগি** দিয়ে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
- 📌 **২০১৪ সাল থেকে** মোরশেদুল হক অসহায়দের জীবন পরিবর্তন করে আসছেন।
📰 বিস্তারিত
২০১৪ সালের মে মাসে লিপি বেগমের স্বামী জাকারিয়া রহমান বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পর তিন সন্তানকে নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন তিনি। একদিন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কর্মকর্তা মোরশেদুল হক লিপি বেগমের দুরবস্থা জানতে পারেন এবং সেলাই মেশিন দিয়ে তার জীবন পরিবর্তন করেন। সেলাই মেশিন পাওয়ার ১২ বছর পর লিপি বেগমের ঘরে টিন লেগেছে, টেলিভিশন ও ফ্রিজ আছে। পাঁচটি গরু কিনেছেন এবং ৪০ শতক জমির মালিক হয়েছেন। তার ছেলে এখন ব্যাটারিচালিত রিকশা ভ্যান চালান এবং দুই মেয়ে ঢাকায় পোশাক কারখানায় চাকরি করছেন।
মোরশেদুল হক ১৯৮৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বগুড়ার শেরপুরের মহিপুর কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা ইন অ্যাগ্রিকালচার সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা হেল্প ফর ডিপ্রাইভড ফাউন্ডেশনের অ্যাগ্রিকালচার বেজড ট্রেনিং প্রোগ্রামের কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কর্মরত। তিনি অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের জীবন পরিবর্তন করছেন।
রাধানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুবক্কর সিদ্দিক বলেন, মোরশেদুল পারিবারিকভাবে সচ্ছল হলেও তিনি নিজের টাকা খরচ করে অসহায়দের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। তাঁর সহযোগিতায় এলাকার অসহায়রা ঘুরে দাঁড়িয়েছেন।
"২০১৪ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর সেলাই মেশিন দিয়ে মোরশেদুল সহায়তা না করলে কোথায় গিয়ে দাঁড়াতেন, কে জানে!"
মোরশেদুলের বাবা আবদুল আজিজ বলেন, ছেলেটা কম বয়স থেকেই প্রতিবেশীদের অভাব-অনটন সহ্য করতে পারতেন। বাড়ির ধান-চাল দিয়ে সহায়তা করতেন। বদরগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হক বলেন, মোরশেদুলের কাজ অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণার। তিনি সব সময় মানবিক কাজে যুক্ত থাকবেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বদরগঞ্জ উপজেলা, রংপুর; রাধানগর ইউনিয়ন, মানসিংহপুর গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোরশেদুল হক, লিপি বেগম, আবুবক্কর সিদ্দিক, আবদুল আজিজ, মাহমুদুল হক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১২ জন (সেলাই মেশিন), ৫২ জন (রিকশা ভ্যান), ১০ জন (গরু), ২৫ জন (ছাগল), ১১৫টি (হাঁস-মুরগি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!