📌 মিরপুরে বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় পুলিশের দায়িত্বের মধ্যে পড়া উল্লেখ করেছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। ঘটনায় চারজন গ্রেপ্তার ও ২০০-২৫০ জন অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। পুলিশের অবহেলা তদন্তের জন্য কমিটি গঠিত হয়েছে
মিরপুরে অবস্থিত বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার’-এ রাত পৌনে দুইটার দিকে ঘটে যাওয়া ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় পুলিশের দায়িত্বের মধ্যে পড়া উল্লেখ করেছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের কোনো ক্ষমা দেওয়া হবে না এবং পুলিশের কোনো সদস্যের অবহেলা বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মিরপুর ১ নম্বরে অবস্থিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রাত ১২:৩০টায় ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে, যেখানে নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে মূল্যবান সরঞ্জাম ও অর্থ লুট করা হয়।
- 📌 পুলিশের অবহেলা তদন্তের জন্য দারুসসালাম অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠিত হয়েছে, যারা আজকের মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
- 📌 চারজন গ্রেপ্তার ও ২০০ থেকে ২৫০ জন অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। ঘটনায় এক কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
- 📌 ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ঘটনাটি সময় নিয়ে করা হয়েছে এবং ভবনের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুরের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
- 📌 পুলিশের অবস্থান স্পষ্ট — কোনো দল বা মত দেখানো হবে না, অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে আইনের আওতায় আনা হবে।
📰 বিস্তারিত
মিরপুর ১ নম্বরে অবস্থিত ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার’-এ রাত পৌনে দুইটার দিকে মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীরা নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি ও হাত-পা বেঁধে মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, ভ্যাকসিন ও নগদ অর্থ লুট করে। পরে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেয়। ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার এক কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার কথা জানিয়েছেন।
ঘটনাস্থলের মাত্র এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত শাহ আলী থানায় পুলিশের উপস্থিতিতেই এই ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ জানান, রাত পৌনে দুইটার দিকে ঘটনাটি ঘটেছিল। খবর পাওয়ার পর পুলিশ সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল কি না এবং কারও কোনো অবহেলা বা গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্তের জন্য দারুসসালাম অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনারকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিশনার বলেন, ঘটনাটি আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টায় ঘটানো সম্ভব নয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তাঁর কাছে মনে হয়েছে, এটি সময় নিয়ে করা হয়েছে। বিশেষ করে ভবনের দুই পাশের টিনশেড ক্ষতিগ্রস্ত ও ভাঙচুর করা হয়েছে। ভবনের বিভিন্ন জায়গায়ও ভাঙচুরের আলামত পাওয়া গেছে। তিনি আরও জানান, ভবনের ভেতরে থাকা বিভিন্ন ডেটা-সংক্রান্ত সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতির অনেকগুলো পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানটির লোকজন জানিয়েছেন, সেগুলো নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তি বা কোনো সংসদ সদস্যের ইন্ধন থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘পুলিশের অবস্থান স্পষ্ট—কোনো দল বা মত দেখা হবে না, অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখা হবে। কোনো ধরনের দখল, বেআইনি বা আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড কেউ করতে পারবে না। যারা এসব করবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
"এ ঘটনা প্রতিরোধ করা পুলিশের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। পুলিশের কোনো সদস্যের দায়িত্বে অবহেলা বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের ছাড় দেওয়া হবে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মিরপুর ১ নম্বরে, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, নাসরিন আখতার (নির্বাহী পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০০-২৫০ জন অজ্ঞাতনামা আসামি, চারজন গ্রেপ্তার, এক কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!