📌 মিরপুরের একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মধ্যরাতে ভেকু নিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় চার আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আদালত তাদের কারাগারে আটক রাখার আদেশ দিয়েছে। লুট করা মালামালের মূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা
মিরপুরের একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মধ্যরাতে ভয়াবহ লুটতরাজের ঘটনায় চার আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত শনিবার বিকেলে গ্রেপ্তার চার আসামির কারাগারে আটক রাখার আদেশ দিয়েছেন। এই ঘটনায় প্রায় ৬০ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মিরপুর-১ নম্বর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে ভেকু নিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় চার আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
- 📌 গ্রেপ্তার করা চার আসামির নাম: মো. সোহেল (২২), মো. জুয়েল (২৩), মো. জিহাদ হাসান (২১) ও মো. রাবিব (২০)।
- 📌 হামলাকারীরা হ্যামার ও লাঠিসোঁটা নিয়ে দায়িত্বরত দুই নৈশপ্রহরীকে মারধর করে বেঁধে রাখেন।
- 📌 ভাঙচুর ও লুটপাটে প্রায় ৬০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। লুট করা মালামালে অন্তর্ভুক্ত ছিল দুটি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, একটি জেনারেটর, কম্পিউটার, ফ্রিজ, এসি, ওষুধ ও অন্যান্য সামগ্রী।
- 📌 আদালতের শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তা মো. আতোয়ার রহমান কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
📰 বিস্তারিত
গত শুক্রবার রাত ১২টা ৫ মিনিটে শাহ আলী থানা এলাকায় অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হ্যামার, লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল লোক প্রবেশ করে। তারা সীমানাপ্রাচীর টপকে ভেতরে ঢুকে দায়িত্বরত দুই নৈশপ্রহরী আন্দ্রিয় সরকার (৪৩) ও মো. আবদুল হাইকে (৬৩) মারধর করে বেঁধে রাখেন। এরপর হামলাকারীরা হ্যামার দিয়ে প্রধান ফটক ভেঙে একটি ভেকু নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন।
হামলাকারীরা প্রথমে প্রতিষ্ঠানের পূর্ব পাশের একটি সেমি পাকা ঘর ভেকু দিয়ে ভেঙে ফেলেন, যার ফলে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়। এরপর পরিবার পরিকল্পনা সেবা দেওয়ার আরেকটি সেমি পাকা ঘর ও আসবাব ভাঙচুর করা হয়, যার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় চার লাখ টাকা। তাণ্ডব চালিয়ে ক্লিনিক ইনচার্জ, চিকিৎসক ও ডেপুটি ক্লিনিক ইনচার্জের ব্যবহৃত একটি বড় ঘর এবং সেখানকার আসবাব ও চিকিৎসাসামগ্রী ভাঙচুর করা হয়, যার ক্ষতি প্রায় ২০ লাখ টাকা। এছাড়াও রেজিস্ট্রেশন শাখা ও আলট্রাসনোগ্রাম, টিকাদান ও ল্যাবরেটরির পাকা ভবনের দরজা-জানালা ভেঙে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়।
লুট করা মালামালের মধ্যে ছিল দুটি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, একটি জেনারেটর, দুটি কম্পিউটার, দুটি প্রিন্টার, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি, তিনটি স্টিলের আলমারি এবং বিপুল পরিমাণ ওষুধ ও অন্যান্য সামগ্রী। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আতোয়ার রহমান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার চারজন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁরা অর্থের বিনিময়ে এ হামলায় অংশ নিয়েছিলেন বলে পুলিশ তথ্য পেয়েছে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ওই এলাকার বাসিন্দা না হওয়ায় তাঁদের স্থায়ী নাম-ঠিকানা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুণ অর রশিদ প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
"আমরা প্রাথমিক তদন্তে তাঁদের বিরুদ্ধে হামলার ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার স্পষ্ট তথ্যপ্রমাণ পেয়েছি। তবে তাদের পরিচয় যাচাই করা সম্ভব হয়নি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মিরপুর-১, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. সোহেল, মো. জুয়েল, মো. জিহাদ হাসান, মো. রাবিব, মো. আতোয়ার রহমান, হারুণ অর রশিদ, আন্দ্রিয় সরকার, মো. আবদুল হাই
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ জন আসামি, ৬০ লাখ টাকা ক্ষতি, ১২:০৫ রাত, ২২, ২৩, ২১, ২০ বছর বয়স
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!