📌 বাকপ্রতিবন্ধী মেহেদী হাসান ঢাকায় নির্মাণশ্রমিকের কাজে যান। ফুটপাতে বসে থাকা অবস্থায় গাড়িচাপায় মারা যান। পরিবার জানায়, তিনি ঈদের আগে বাড়িঘর ঠিক করার টাকা নিয়ে আসার আশায় এসেছিলেন
বাকপ্রতিবন্ধী মেহেদী হাসান (২৫) ঢাকায় নির্মাণশ্রমিকের কাজে যান। সোমবার রাতে গ্রাম থেকে এসে মঙ্গলবার বিকেলে ফুটপাতে বসে থাকা অবস্থায় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার তাঁর ওপর উঠে যায়। গাড়িচাপায় মেহেদী হাসান ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরিবার জানায়, তিনি ঈদের আগে টাকা নিয়ে বাড়িঘর ঠিক করার স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় এসেছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মেহেদী হাসান (২৫) বাকপ্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও নির্মাণশ্রমিকের কাজ করতেন এবং কাগজের ফুল বিক্রি করে পরিবারের সচ্ছলতা আনতেন।
- 📌 ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার রাতে নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের হাজীপাড়া গ্রাম থেকে ঢাকায় এসে মঙ্গলবার বিকেলে বারিধারা এলাকায় ফুটপাতে বসে থাকা অবস্থায় গাড়িচাপায় মারা যান।
- 📌 মেহেদী হাসান ডোমার সরকারি কলেজের বিএ (পাস) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি পরিবারের একমাত্র আর্থিক সহায়ক ছিলেন।
- 📌 মেহেদীর বাবা এরশাদুল হক বলেন, ‘আমি নিজে তাকে ঢাকার গাড়িতে তুলে দিলাম। এভাবে আমার বাবাকে হারাব জানলে তাকে ঢাকায় যেতে দিতাম না।’
- 📌 গাড়িচাপা দেওয়ার ঘটনায় চালক হিসেবে আকাশ মারক (৪৪) নামের ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে, কিন্তু তিনি পলাতক। ঘটনাস্থলে থাকা কিশোরকে আটক করা হলেও মামলায় তার নাম উল্লেখ করা হয়নি।
📰 বিস্তারিত
মেহেদী হাসান ওরফে মীম বাকপ্রতিবন্ধী ছিলেন। ইশারায় কথা বললেও তিনি পরিবারের জন্য কিছু করার স্বপ্ন নিয়ে নির্মাণশ্রমিকের কাজ করতেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি কাগজের ফুল বানিয়ে বিক্রি করতেন। কাজ করে জমা টাকা দিয়ে আগামী ঈদের আগেই ভাঙাচোরা বাড়িঘর ঠিক করার আশায় সোমবার রাতে গ্রাম থেকে ঢাকায় এসেছিলেন। কিন্তু কাজে যোগ দেওয়ার আগেই মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বারিধারা এলাকায় ফুটপাতে বসে থাকা অবস্থায় একটি প্রাইভেট কার তাঁর ওপর উঠে যায়। গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।
মেহেদী হাসান নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের হাজীপাড়া গ্রামের দিনমজুর মো. এরশাদুল হকের ছেলে। তিনি ডোমার সরকারি কলেজের বিএ (পাস) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরিবারের সচ্ছলতা আনতে নির্মাণশ্রমিকের কাজের পাশাপাশি তিনি কাগজের ফুল বানিয়ে বিভিন্ন গ্রামীণ মেলা ও দোকানে বিক্রি করতেন। দুই ভাই, এক বোনের দ্বিতীয় ছিলেন মেহেদী হাসান। বড় ভাই ও ছোট বোনের বিয়ে হয়েছে। বাবা–মায়ের সঙ্গে থাকতেন তিনি।
মেহেদী হাসানের মা মোছা. মিনু বেগম বলেন, ‘অনেক আশা নিয়ে গিয়েছিলেন আমার বাবা বাড়ি থাকি। তিনি বলেছিলেন, ঠিক আছে, মা, আমি ঈদের আগে টাকা নিয়ে আসব। ওই টাকা দিয়ে বাড়িঘর ঠিক করব। কিন্তু যাওয়ার এক দিনের মাথায় সে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরল।’ বাবা এরশাদুল হক শোকে কাতর হয়ে বলেন, ‘সোমবার রাতে আমি নিজে তাকে ঢাকার গাড়িতে তুলে দিলাম। আজকে তার লাশ আসল, এটা আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। এভাবে আমার বাবাকে হারাব জানলে তাকে ঢাকায় যেতে দিতাম না। এখন আমার সব শেষ হয়ে গেল।’
মেহেদী হাসানের ফুফাতো ভাই সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘ছেলেটি বাক্প্রতিবন্ধী হওয়ায় ইশারায় কথা বলত। গ্রামের সবাই তাকে ভালোবাসতেন। তার মধ্যে অনেক প্রতিভা ছিল। কিন্তু অকালে সব ঝরে গেল।’ তিনি আরও বলেন, মেহেদী ১০ শতক জমিতে ভিটেটুকুই সম্বল মেহেদীদের। বাবার দিনমজুরি ও মেহেদী হাসানের আয়ে চলে তাঁদের সংসার।
মেহেদী হাসানের ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দুর্ঘটনাকালীন গাড়িটি দ্রুতগতিতে চলছিল। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন গাড়ির চালকের আসনে থাকা এক কিশোরকে আটক করেছিল। পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নিলেও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কারণ, মামলায় ওই কিশোরের নাম উল্লেখ করা হয়নি। মামলায় গাড়িটির চালক হিসেবে আকাশ মারক (৪৪) নামের এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে, কিন্তু তিনি ঘটনার পর থেকে পলাতক।
"মেহেদী হাসান লেখাপড়ার পাশাপাশি পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে নির্মাণশ্রমিকের কাজ করত। সে একজন বাক্প্রতিবন্ধী হলেও তার মধ্যে অনেক প্রতিভা ছিল। একটি দুর্ঘটনায় পরিবারটির সব স্বপ্ন নিমেষে শেষ হয়ে গেল।"
— সোনারায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ফিরোজ চৌধুরী
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বারিধারা, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মেহেদী হাসান (২৫), এরশাদুল হক, মোছা. মিনু বেগম, সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী, গোলাম ফিরোজ চৌধুরী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ বছর (মেহেদীর বয়স), ১০ শতক জমি (মেহেদীদের সম্বল), ১০-১২ হাজার টাকা (মাসিক আয়ের অংশ), ২১ সেপ্টেম্বর (ঘটনার তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!