📌 নোয়াখালীর হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাট মেঘনার ভাঙনের কারণে ধ্বংসের ঝুঁকিতে পড়েছে। মূল বাজারের অংশ ধসে পড়েছে, ১০-১৫টি দোকান সরিয়ে নিতে হয়েছে। প্রতিদিন ৫০ কোটি টাকার মাছের ব্যবসা এখানে হয়, কিন্তু নদীর আক্রমণে ব্যবসায়ীরা আতঙ্কিত
নোয়াখালীর হাতিয়ার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চেয়ারম্যান ঘাট মেঘনা নদীর ভাঙনের কারণে ধ্বংসের ঝুঁকিতে পড়েছে। মূল বাজারের অংশ ধসে পড়ার পর এখন নদীটি মূল বাজারের দিকে এগিয়ে আসছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ভাঙনের আতঙ্কে দিন পার করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নোয়াখালী হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটের মূল বাজারের অংশ মেঘনার ভাঙনে ধসে পড়েছে
- 📌 প্রতিদিন ৫০ কোটি টাকার মাছের ব্যবসা হয় এখানে, কিন্তু নদীর আক্রমণে ব্যবসায়ীরা আতঙ্কিত
- 📌 ১০-১৫টি দোকানপাট সরিয়ে নিতে হয়েছে, এখন নদী মূল বাজারের দিকে এগিয়ে আসছে
- 📌 স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের বাড়িঘর, দোকানপাট ও কাজের সবকিছু হারানোর আশঙ্কা
- 📌 নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি পদক্ষেপ নিচ্ছে, কিন্তু স্থায়ী সমাধান বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে
📰 বিস্তারিত
হরনী ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত চেয়ারম্যান ঘাট দুই যুগ ধরে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় মাছের আড়ত হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার ট্রলার এখানে মাছ বেচাকেনা করে। ভরা মৌসুমে শতাধিক বড় ট্রলার এসে মাছ নিয়ে যায়। প্রতিদিন ৫০ কোটি টাকার মতো মাছের ব্যবসা হয় এখানে। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও চাঁদপুরের পাইকারেরা ঘাট থেকে মাছ কিনে নিয়ে যান।
গত বছর তীব্র ঢেউয়ে ঘাটের একটি অংশ নদীতে বিলীন হয়েছে। এবার মূল বাজারের দিকে এগিয়ে এসেছে নদী। ঢেউয়ের তীব্রতায় মূল বাজার ধসে পড়ছে। মেঘনার ভাঙনে ঘাটে গড়ে তোলা দোকান ও বাড়িঘর নিয়ে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
ঘাটের প্রবীণ মাছ ব্যবসায়ী আকবর হোসেন বলেন, প্রতিদিন অসংখ্য মাছ ধরার ট্রলার ঘাটে আসা-যাওয়া করে। ঘাটকে কেন্দ্র করে সহস্রাধিক পাকা ও আধা পাকা দোকানপাট গড়ে উঠেছে। এছাড়াও আছে পুলিশ ফাঁড়ি, আইস কারখানা সহ বিভিন্ন স্থাপনা। এখন নদীভাঙনে জেলে, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা সবাই আতঙ্কিত।
চায়ের দোকানদার নুর উদ্দিন বলেন, তাঁর তিন ছেলেই মাছ ঘাটের শ্রমিক। তিনি ঘাটে চায়ের দোকান করেন। ঘাটের পূর্ব পাশে বেড়ির ঢালে তাঁর বসবাস। ঘাট ভেঙে গেলে তাঁর বাড়িঘর, দোকানপাট ও কাজ সব হারাতে হবে।
"ভাঙতে ভাঙতে এখন বাজারের একেবারে দক্ষিণ পাশে চলে এসেছে নদী। নৌকাগুলো মাছ বিক্রি করতে বাজারের পাশে নোঙর করলে ঢেউয়ের তোড়ে তীব্র দোল খেতে থাকে।"
সাদিয়া ফিশ এজেন্সির পরিচালক মো. বাবু বলেন, গত বছর বাজারের মেইন শেডের একাংশ ভেঙে গেছে। সেখান থেকে ১০-১৫টি মাছের গদি অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়েছে। চেয়ারম্যান ঘাট মাছ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সাহেদ উদ্দিন জানান, ঘাটটি নদীভাঙন থেকে রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করেও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, এই ঘাট থেকে সরকার প্রতিবছর বিশাল অঙ্কের ট্যাক্স পায়। এখানে মাছ ঘাটের পাশাপাশি ফেরিঘাট ও সি-ট্রাক ঘাট রয়েছে। এসব এখন ভাঙনের ঝুঁকিতে আছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাট, নোয়াখালী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আকবর হোসেন, নুর উদ্দিন, মো. বাবু, সাহেদ উদ্দিন, জামিল আহমেদ পাটোয়ারী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ কোটি টাকা (দৈনিক মাছের ব্যবসা), ৫ হাজার ট্রলার, ১০-১৫টি দোকানপাট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!