📌 মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার মানিকনগর থেকে সিরাজপুর হাট পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার সড়ক খানাখন্দে ভরে গেছে। পিচ উঠে গর্তে জমে পানি, বৃষ্টিতে সড়ক খালে পরিণত হচ্ছে। শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও কর্মজীবীদের যাতায়াতে বড় বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয়রা দ্রুত সংস্কারের দাবি জানাচ্ছেন
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার মানিকনগর থেকে সিরাজপুর হাট পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি সম্পূর্ণ ভাঙাচোরায় পরিণত হয়েছে। পিচ উঠে গর্তে জমে পানি, বৃষ্টিতে সড়ক খালে পরিণত হচ্ছে। শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও কর্মজীবীদের যাতায়াতে বড় বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়ক সংস্কার না হওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মানিকনগর থেকে সিরাজপুর হাট পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার সড়ক সম্পূর্ণ ভাঙাচোরায়, পিচ উঠে গর্তে পানি জমে বৃষ্টিতে সড়ক খালে পরিণত হয়
- 📌 সড়কের মোট দৈর্ঘ্য ২০ কিলোমিটার, এর মধ্যে ৯ কিলোমিটার পাকা করা হলেও বাকি অংশ অসম্পূর্ণ থেকে যায়
- 📌 শিক্ষার্থী অর্ণা তাবাচ্ছুম বলেন, বর্ষায় স্কুল ড্রেস নোংরা হয়ে যায় এবং সময়মতো বিদ্যালয়ে পৌঁছানো যায় না
- 📌 অটোরিকশাচালক আমির হোসেনের মতে, ভাঙা সড়কে গাড়ি চালিয়ে যে আয় হয়, তার বড় অংশ গাড়ি মেরামতে চলে যায়
- 📌 স্থানীয় মশিউর রহমান দুলালের কথায়, সড়কের দুই পাশে ১০ থেকে ১৫টি স্কুল-মাদরাসা রয়েছে, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে বড় বাধা সৃষ্টি হচ্ছে
- 📌 কৃষক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ভাঙা সড়কের কারণে কৃষিপণ্য বাড়িতে আনা ও হাটে নেওয়ার খরচ বেড়ে যায়
- 📌 সিংগাইর উপজেলা প্রকৌশলী মো. গোলাম সামদানী জানান, সড়ক সংস্কারের চেষ্টা করা হবে
📰 বিস্তারিত
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার মানিকনগর থেকে সিরাজপুর হাট পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি সম্পূর্ণ ভাঙাচোরায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়ক সংস্কার না হওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। গত কয়েক দিন সড়কটির বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা যায়, মানিকনগর থেকে পাড়াগ্রাম পর্যন্ত বেশির ভাগ জায়গায় পিচ উঠে গেছে। কোথাও গর্ত এতটাই গভীর যে অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চালকদের ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে। বৃষ্টির পর গর্তে পানি জমে গেলে ঝুঁকি আরও বাড়ে।
সিংগাইর উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সিংগাইর-মানিকনগর-সিরাজপুর হাট সড়কটির মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২০ কিলোমিটার। ২০২২-২৩ অর্থবছরে মানিকনগর পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার সড়ক পাকা করার কাজ হালনাগাদ করা হয়েছিল। তবে মানিকনগর থেকে সিরাজপুর বাজার পর্যন্ত অংশের কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ওই অংশের কার্পেটিং উঠে গিয়ে সড়কটি খানাখন্দে ভরে গেছে।
স্থানীয় সাইফুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টি হলে সড়কটি খালে পরিণত হয়। মোটরসাইকেল নিয়ে চলাচলের সময় জামাকাপড় ভিজে যায়। তিনি দ্রুত সড়ক সংস্কারের দাবি জানান। স্থানীয় নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অর্ণা তাবাচ্ছুম বলেন, সড়কের খানাখন্দের কারণে সময়মতো বিদ্যালয়ে পৌঁছানো যায় না। বর্ষায় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। স্কুল ড্রেস নোংরা হয়ে যায়। আর গরমের দিনে প্রচুর ধূলাবালি।
অটোরিকশাচালক আমির হোসেন বলেন, ভাঙা সড়কে গাড়ি চালিয়ে যে আয় হয়, তার বড় অংশই গাড়ি মেরামতে চলে যায়। গর্তে পড়ে প্রায়ই গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়। আর যাত্রীদের অবস্থাও আমার গাড়ির মত হয়ে পড়ে। চকপালপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ শহিদুর রহমান বলেন, সড়ক দিয়ে অটোরিকশায় চললে মনে হয় পাহাড়ি পথে উঠানামা করছি। গাড়ির ঝাঁকুনিতে কোমরে ব্যথা হয়ে যায়। বয়স্ক মানুষের কষ্ট আরও বেশি। আর নারী ও শিশুরা আরো বেশি বিপদে পড়েন।
স্থানীয় মশিউর রহমান দুলাল বলেন, সড়কের দুই পাশে ১০ থেকে ১৫টি স্কুল-মাদরাসা রয়েছে। প্রতিদিন এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই পথ ব্যবহার করে। অসুস্থ রোগীদের ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় নেওয়ার ক্ষেত্রেও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ভাঙাচোরা পথের কারণে রোগী পরিবহনে বাড়তি সময় ও ভোগান্তি হচ্ছে। সড়কটি মানিকগঞ্জসহ আশপাশের পাঁচ-ছয়টি উপজেলার মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ পথ। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব রয়েছে। সড়কের দুরবস্থায় স্থানীয় অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়ছে।
"সড়ক দিয়ে অটোরিকশায় চললে মনে হয় পাহাড়ি পথে উঠানামা করছি। গাড়ির ঝাঁকুনিতে কোমরে ব্যথা হয়ে যায়। বয়স্ক মানুষের কষ্ট আরও বেশি। আর নারী ও শিশুরা আরো বেশি বিপদে পড়েন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মানিকনগর থেকে সিরাজপুর হাট (মানিকগঞ্জ, সিংগাইর উপজেলা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাইফুল ইসলাম, অর্ণা তাবাচ্ছুম, আমির হোসেন, মোহাম্মদ শহিদুর রহমান, মশিউর রহমান দুলাল, মুস্তাফিজুর রহমান, মো. গোলাম সামদানী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯ কিলোমিটার (সড়কের দৈর্ঘ্য), ২০ কিলোমিটার (মোট সড়ক দৈর্ঘ্য), ১০-১৫টি (স্কুল-মাদরাসা), ২০-২৫ মিনিট (বিলম্বিত সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!