📌 মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় ভোরের আলোতে শতাধিক মৎস্যশিকারি পলো দিয়ে মাছ শিকারে অংশ নেন। এই ঐতিহ্যবাহী পলোবাইচে বন্ধু-স্বজনদের সঙ্গে মিলিত হওয়া এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীরা উচ্ছ্বসিত। জলাশয় ও দেশি মাছ রক্ষার আহ্বান জানানো হয়
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে পলো হাতে নেমে পড়েন নানা বয়সী মৎস্যশিকারিরা। এই ঐতিহ্যবাহী পলোবাইচে মাছ শিকারের আনন্দ, হাসি-আড্ডা এবং বন্ধু-স্বজনদের মিলনমেলায় ভরপুর হয়। শুক্রবার ভোরে বানিয়াজুরী ইউনিয়নের তরা, মির্জাপুর ও রাথুরা চকের জলাশয়ে শতাধিক শৌখিন মৎস্যশিকারি পলো দিয়ে মাছ শিকারে অংশ নেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় ৩০০-এরও বেশি মৎস্যশিকারি পলোবাইচে অংশ নেন
- 📌 ইছামতী শাখা নদীতে তিন কিলোমিটার পথে বসে পলোবাইচের আয়োজন
- 📌 পলো দিয়ে মাছ ধরার ঐতিহ্য ধরে রাখতে জলাশয় ও দেশি মাছ রক্ষার আহ্বান
- 📌 মৎস্যশিকারিরা বলেন, বন্ধু-স্বজনদের সঙ্গে দেখা এবং ঐতিহ্য ধরে রাখার আনন্দ অন্য রকম
- 📌 বেসরকারি সংস্থা বারসিকের সমন্বয়কারী বলেন, কারেন্ট জাল ও পোনা মাছ ধরা দেশি মাছের সংখ্যা কমাচ্ছে
📰 বিস্তারিত
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়নের তরা, মির্জাপুর ও রাথুরা চকের জলাশয়ে ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে পলো হাতে নেমে পড়েন শতাধিক মৎস্যশিকারি। এই ঐতিহ্যবাহী পলোবাইচে মাছ শিকারের পাশাপাশি বন্ধু-স্বজনদের সঙ্গে মিলিত হওয়া এবং পুরোনো ঐতিহ্যের অংশ হতে পেরে অংশগ্রহণকারীরা উচ্ছ্বসিত। একই দিন উপজেলার ইছামতী শাখা নদীতেও বসে পলোবাইচের আসর। উথুলী ইউনিয়নের বারাদিয়া এলাকা থেকে শুরু হয়ে করজনা সেতু এলাকা পেরিয়ে ঘিওরের ঠাকুরকান্দি গ্রামের কাছে গিয়ে শেষ হয় প্রায় তিন কিলোমিটার নদীপথের এই আয়োজন। এতে অংশ নেন অন্তত ৩০০ মৎস্যশিকারি।
পলোবাইচের খবর ছড়িয়ে দিতে কোথাও হাটবাজারে ঢাকঢোল পেটানো হয়, কোথাও মাইকিং করা হয়। খবর পেয়ে পলো হাতে নির্ধারিত স্থানে হাজির হন বিভিন্ন এলাকার মানুষ। মাছ ধরার পাশাপাশি বন্ধু-স্বজনদের সঙ্গে মিলিত হওয়া এবং পুরোনো ঐতিহ্যের অংশ হতে পেরে অংশগ্রহণকারীরা উচ্ছ্বসিত। মৎস্যশিকারি ইসলাম খান বলেন, ‘পলো দিয়ে মাছ ধরার আনন্দ অন্য রকম। এখানে মাছ পাওয়ার পাশাপাশি বন্ধু-স্বজনদের সঙ্গে দেখা হয়, সবাই মিলে আনন্দ করা যায়। এই ঐতিহ্য যেন হারিয়ে না যায়।’
ঘিওরের প্রবীণ বাসিন্দা বারেক মিয়া বলেন, ‘আগে জলাশয়ে দেশি মাছের প্রাচুর্য ছিল। পলো নিয়ে নামলে অনেকেই বড় মাছ পেতেন। বিভিন্ন গ্রামের মানুষ দল বেঁধে আসতেন। এখন অনেক জায়গায় মাছ কমে গেছে, তবু মানুষ ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।’ ঘিওরের প্রাকৃতিক কৃষিকেন্দ্রের পরিচালক দেলোয়ার জাহান বলেন, ‘পলোবাইচ আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির অংশ। এই আয়োজন টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি জলাশয় ও দেশি মাছ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে।’
"পলো দিয়ে মাছ ধরার আনন্দ অন্য রকম। এখানে মাছ পাওয়ার পাশাপাশি বন্ধু-স্বজনদের সঙ্গে দেখা হয়, সবাই মিলে আনন্দ করা যায়। এই ঐতিহ্য যেন হারিয়ে না যায়।"
বেসরকারি কৃষি, পরিবেশ ও মৎস্য গবেষণা সংস্থা বারসিকের মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল রায় বলেন, ‘পলোবাইচের ঐতিহ্য ধরে রাখতে জলাশয় ও দেশি মাছের প্রজননক্ষেত্র রক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কারেন্ট জালের ব্যবহার, পোনা মাছ ধরা, পানি সেচে মাছনিধন ও বিষ প্রয়োগের কারণে দেশি মাছের সংখ্যা ও বৈচিত্র্য কমছে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা, বানিয়াজুরী ইউনিয়ন (তরা, মির্জাপুর, রাথুরা চক), ইছামতী শাখা নদী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মৎস্যশিকারি ইসলাম খান, মৎস্যশিকারি মাহফুজ ভূঁইয়া, বারেক মিয়া, দেলোয়ার জাহান, বিমল রায়, বানিয়াজুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস আর আনসারী বিলটু
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০০ জন মৎস্যশিকারি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!