📌 মানিকগঞ্জের দিঘী জেলেপাড়ায় মাছ ধরার পেশায় জীবিকা নির্বাহকারী পরিবারগুলো সারা বছর টানাটানির মধ্য দিয়ে বসবাস করে। কিন্তু দুর্গাপূজার সময় এই দরিদ্র পরিবারগুলোও উৎসবের আনন্দে ভরে ওঠে, সীমিত অর্থের মধ্যে পরিবারের সদস্যদের আনন্দে ভাগ করে নেওয়ার চেষ্টা করে
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার দিঘী ইউনিয়নের দিঘী জেলেপাড়ায় মাছ ধরার পেশায় জীবিকা নির্বাহকারী পরিবারগুলো সারা বছর টানাটানির মধ্য দিয়ে বসবাস করে। নদী, খাল-বিল ও অন্যের জলাশয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা এই পরিবারগুলোর জীবন প্রকৃতির ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। তবে দুর্গাপূজার সময় এই দরিদ্র পরিবারগুলোর চিত্র সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়ে যায়। সীমিত অর্থের মধ্যে পরিবারের সদস্যদের আনন্দে ভাগ করে নেওয়ার চেষ্টা করে এই বাসিন্দারা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দিঘী জেলেপাড়ার অধিকাংশ পরিবার মাছ ধরার পেশায় জীবিকা নির্বাহ করে, সারা বছর টানাটানির মধ্য দিয়ে বসবাস করে
- 📌 দিঘী মাঝিপাড়ার গৌড় রাজবংশী (৪৫) দিনে ৭০০-৮০০ টাকা আয় করে পরিবার চালিয়ে থাকে, দুর্গাপূজায় পরিবারের সদস্যদের জন্য নতুন পোশাক ও পূজার উপকরণ কিনেছেন
- 📌 জেলেপাড়ায় প্রায় ২০০ পরিবারের বসবাস, অধিকাংশ পরিবার দরিদ্র এবং শিক্ষার সুযোগ সীমিত
- 📌 মাছের ব্যবসায় ঋণের জালে আটকে পড়া পরিবারগুলো পূজার সময়ও ঋণের বোঝা মেটাতে কষ্ট পাচ্ছে
- 📌 দিঘী মাঝিপাড়ার বাসিন্দারা দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আচার পালন নয়, এটি পারিবারিক মিলন ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করার সময়
- 📌 দিঘী কালীবাড়ি মন্দির কমিটির সভাপতি ভোলানাথ হালদার জানান, পূজা উপলক্ষে ২০০ পরিবার থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা অনুদান নির্ধারণ করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
দিঘী জেলেপাড়ায় মাছ ধরার পেশায় জীবিকা নির্বাহকারী পরিবারগুলো সারা বছর নদী, খাল-বিল ও অন্যের জলাশয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। কেউ নিজের ধরা মাছ বাজারে বিক্রি করেন, কেউ পাইকারি বাজার থেকে মাছ কিনে খুচরা বাজারে বিক্রি করেন। তবে এই পেশায় জীবিকা নির্বাহের পাশাপাশি পরিবারগুলো সারা বছর টানাটানির মধ্য দিয়ে বসবাস করে।
দিঘী মাঝিপাড়ার গৌড় রাজবংশী (৪৫) প্রতিদিন ভোরে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার মাছ কিনে ভ্যানে করে বিভিন্ন গ্রামে বিক্রি করেন। তিনি দিনে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় করে তিন সদস্যের পরিবার চালিয়ে থাকেন। দুর্গাপূজার সময় তিনি পরিবারের সবার জন্য নতুন পোশাক ও পূজার উপকরণ কিনেছেন। জেলেপাড়ায় প্রায় ২০০ পরিবারের বসবাস রয়েছে, যার অধিকাংশ পরিবারই দরিদ্র এবং শিক্ষার সুযোগ সীমিত। বংশপরম্পরায় মাছ ধরা এই পরিবারগুলোর জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
মাছের ব্যবসায় ঋণের জালে আটকে পড়া পরিবারগুলো পূজার সময়ও ঋণের বোঝা মেটাতে কষ্ট পাচ্ছে। জেলেপাড়ার প্রবীণ জেলে কৃষ্ণ রাজবংশী (৯০) বলেছেন, ‘মাছ ধরা পেশায় এখন আর আগের মতো আয় নেই। পরিবার-পরিজন নিয়ে কোনোরকমে টিকে আছি। পূজায় বিভিন্ন কেনাকাটায় এবং ধর্ম পালনে টাকাপয়সা খরচ হয়। কষ্ট হলেও এই পূজায় পরিবারের সবার মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করি।’
দিঘী মাঝিপাড়ার বাসিন্দারা দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আচার পালন নয়, এটি পারিবারিক মিলন ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করার সময়। দিঘী কালীবাড়ি মন্দির কমিটির সভাপতি ভোলানাথ হালদার জানান, ‘পূজা উপলক্ষে আমাদের মহল্লার ২০০ পরিবার থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা অনুদান নির্ধারণ করা হয়েছে। এই অনুদানের অর্থ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরি ও সাজসজ্জা, পূজা ও আচার অনুষ্ঠান, বিদ্যুৎ ও আলোকসজ্জা এবং আপ্যায়নে ব্যয় হয়।’
"মাছ ধরা পেশায় এখন আর আগের মতো আয় নেই। পরিবার-পরিজন নিয়ে কোনোরকমে টিকে আছি। পূজায় বিভিন্ন কেনাকাটায় এবং ধর্ম পালনে টাকাপয়সা খরচ হয়। কষ্ট হলেও এই পূজায় পরিবারের সবার মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দিঘী জেলেপাড়া, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা, দিঘী ইউনিয়ন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: গৌড় রাজবংশী (৪৫), মন্টু রাজবংশী (৩৮), কৃষ্ণ রাজবংশী (৯০), ভোলানাথ হালদার, শিশুরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০-২৫ হাজার টাকা (মাছের ক্রয়), ৭০০-৮০০ টাকা (দৈনিক আয়), ২০০ পরিবার, ১ হাজার ৭০০ টাকা (পূজা অনুদান)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!