📌 গাজীপুরের কারখানায় কর্মরত মামুন রেজা লেগুনায় উঠে জ্ঞান হারিয়ে পায় দুর্বৃত্তদের হাতে। হাত-পা ও চোখ বাঁধা অবস্থায় তাঁকে মাইক্রোবাসে করে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ঘটনাটি ঘটে গাজীপুরের সফিপুর বাজার থেকে
গাজীপুরের একটি কারখানায় কর্মরত মামুন রেজা সফিপুর বাজার থেকে লেগুনায় উঠে জ্ঞান হারান। জ্ঞান ফিরে দেখেন তিনি হাত-পা ও চোখ বাঁধা অবস্থায় মাইক্রোবাসে বসা। দুর্বৃত্তরা তাঁকে নির্যাতন করে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ঘটনাটি ঘটে গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাজীপুরের সফিপুর বাজার থেকে লেগুনায় উঠে জ্ঞান হারান মামুন রেজা, হাত-পা ও চোখ বাঁধা অবস্থায় পায় দুর্বৃত্তদের হাতে
- 📌 মাইক্রোবাসে বসিয়ে ২৫-৩০ মিনিটের মধ্যে জ্ঞান হারান মামুন, জ্ঞান ফিরে দেখেন নিজেকে অজানা গন্তব্যে যাচ্ছে
- 📌 দুর্বৃত্তরা ৫০ হাজার টাকা দাবি করলে মারধর করে, পরে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে প্রায় দুই ঘণ্টা নির্যাতন চালান
- 📌 মামুনের কাছ থেকে নেওয়া হয় ৫ হাজার টাকা, ২৫ হাজার টাকার মুঠোফোন এবং ইসলামী ব্যাংকের কার্ডসহ বিকাশ পিন
- 📌 মামুন রেজা সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার হায়দারপুর গ্রামের বাসিন্দা, গাজীপুরের একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন
📰 বিস্তারিত
গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সফিপুর বাজার থেকে চন্দ্রার উদ্দেশে লেগুনায় উঠেছিলেন মামুন রেজা। তিনি একাই ছিলেন। ৩-৪ মিনিট পর চালক আরও চারজন যাত্রী তোলেন। এরপর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই জ্ঞান হারান মামুন। জ্ঞান ফিরে দেখেন তিনি একটি মাইক্রোবাসের ভেতরে। হাত-পা ও চোখ বাঁধা অবস্থায় গাড়িটি অজানা গন্তব্যে ছুটছিল। মামুনের কথায়, গাড়িতে থাকা ব্যক্তিদের কাছে ছিল দেশীয় অস্ত্র ও পিস্তল।
মামুনের পরিবারের সদস্যদের ফোন করে টাকা চাইতে বলা হয়। তাঁদের নির্দেশে নিজের মুঠোফোন থেকে বাবা, চাচা, দুলাভাই ও বড় বোনকে ফোন করেন তিনি। প্রথমে পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরিবার টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় মামুনকে মারধর করা হয়। তাঁর হাঁটুতে ও গলায় আঘাত করা হয়। মুখে থাপ্পড় মেরেছে এবং বুকে, মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মারধর করা হয়। এখনো তাঁর শরীরে ব্যথা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন মামুন।
মামুনের দাবি, তাঁকে একটি সাদা রঙের কালো কাচের মাইক্রোবাসে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে মির্জাপুরের একটি ফাঁকা রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হয়। যাওয়ার আগে দুর্বৃত্তরা হুমকি দিয়ে বলে, ‘তুই মায়ের কোলে ফিরে যা। তোর মতো অনেক মামুনকে আমরা মেরেছি’।
"আমার হাঁটুতে ও গলায় আঘাত করেছে। মুখে থাপ্পড় মেরেছে। বুকে, মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মেরেছে। এখনো খুব ব্যথা করছে।"
মামুনের বাবা আছাব উদ্দিন বলেন, প্রথমে ফোন দিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাওয়া হয়। তিনি বুঝতে পারেননি কী ঘটেছে। কয়েকবার ফোন দেওয়ার পর বুঝতে পারেন ছেলে কোনো সমস্যায় পড়েছে। ঘটনাটি কামারখন্দ থানার বাইরে হওয়ায় সরাসরি তদন্ত করা সম্ভব নয়। তবে সংশ্লিষ্ট থানাকে বিষয়টি জানানো হবে এবং আইনি পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হবে বলে জানান কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাশমত আলী।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাজীপুরের সফিপুর বাজার, কামারখন্দ উপজেলা, হায়দারপুর গ্রাম, মির্জাপুরের ফাঁকা রাস্তা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মামুন রেজা, আছাব উদ্দিন, মো. হাশমত আলী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫-৩০ মিনিট (জ্ঞান হারানো), ৫০ হাজার টাকা (প্রথম দাবি), ২ লাখ টাকা (মুক্তিপণ), ৫ হাজার টাকা (নেওয়া), ২৫ হাজার টাকা (মুঠোফোনের মূল্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!