📅 ২ অক্টোবর ২০২৬, ১:৩১ অপরাহ্ণ এআই প্রযুক্তিতে যাচাই করা সর্বশেষ সঠিক বাংলা সংবাদ।
⚡ শেষ মুহূর্ত

৫৮ বছর বয়সেও বইয়ের সঙ্গে জীবন: মাগুরার সেলুনওয়ালা নরসুন্দর বাবলু কুমার বিশ্বাসের সাহিত্য ও জীবনযাপনের গল্প

৫৮ বছর বয়সেও বইয়ের সঙ্গে জীবন: মাগুরার সেলুনওয়ালা নরসুন্দর বাবলু কুমার বিশ্বাসের সাহিত্য ও জীবনযাপনের গল্প

📷 ছবি: প্রথম আলো

📡 নিউজ সোর্সগুলি:
🔗 প্রথম আলো ↗ ⚠ একক সোর্স
ℹ️ এই প্রতিবেদনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা একাধিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্লিখিত। মূল নিউজ সোর্সগুলি নিচে উল্লেখ করা হয়েছে।

📌 মাগুরার নরসুন্দর বাবলু কুমার বিশ্বাস (৫৮) চার দশক ধরে সেলুন চালিয়ে যাচ্ছেন। কাজের ফাঁকে তিনি বই পড়েন, সাহিত্য আলোচনা করেন এবং লোকসংগীত গান করেন। বইয়ের প্রতি তাঁর অটুট ভালোবাসা এবং জীবনের সহজসাধ্য সাফল্যের গল্প এখানে পড়ুন

মাগুরা শহরের একটি ছোট্ট টিনের চালার সেলুনে বসে বই পড়া, সাহিত্য আলোচনা করা এবং লোকসংগীত গান গাওয়া — এসবই নরসুন্দর বাবলু কুমার বিশ্বাসের (৫৮) দৈনন্দিন জীবনের অংশ। চার দশক ধরে কাঁচি-চিরুনি হাতে কাজের ফাঁকে তিনি বইয়ের সঙ্গে নিজেকে মিশিয়ে ফেলেছেন। বাবলু বলেন, ‘জীবনে কোনো বড় লোভ না করে মানুষের ভুলত্রুটি সহজভাবে মেনে নিয়ে পথ চলাটাই আসল বিষয়।’

🔴 মূল পয়েন্ট

  • 📌 মাগুরার নরসুন্দর বাবলু কুমার বিশ্বাস (৫৮) ১২ বছর বয়স থেকে কাঁচি-চিরুনি হাতে জীবিকার তাগিদে কাজ শুরু করেন এবং এখনও সেলুন চালিয়ে যাচ্ছেন।
  • 📌 বাবলুর সেলুনে ৩২টি বই রয়েছে, যার মধ্যে শরৎচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও সমরেশ বসুর বইয়ের সংগ্রহ রয়েছে।
  • 📌 বাবলু ১৫০টি বইয়ের সংগ্রহের শীর্ষে পৌঁছেছিলেন, কিন্তু বর্তমানে ৩২টি বই রয়েছে। তিনি গ্রাহকদের বই উপহার দিয়েছেন এবং পাঠাগারের জন্য ২৫টি বই দান করেছেন।
  • 📌 বাবলু শ্রীপুর উপজেলার বরিশাট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন।
  • 📌 বাবলু লোকসংগীতের সাধক বিজয় সরকারের গান মুখস্থ করেছেন এবং সেলুনে আসা গ্রাহকদের সঙ্গে সাহিত্য আলোচনা করেন।

📰 বিস্তারিত

মাগুরা শহরের ৩ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গলিতে অবস্থিত আবদুল গনি একাডেমির দেয়াল ঘেঁষে বাবলুর ছোট্ট টিনের চালার সেলুন। বাইরে ছোট একটি ব্যানারে লেখা ‘বাবলু সেলুন’। ভেতরে চারটি কাঠের চেয়ার, এক পাশে আয়না এবং আয়নার নিচের বেঞ্চে সাজানো কিছু বই। বাবলু বলেন, ‘আয়নার সামনে চিরুনি-কাঁচি। পাশে খোলা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বিপ্রদাস’ উপন্যাস। কাজের ফাঁকে বই পড়া আমার জীবনের অংশ।’

বাবলুর জন্ম শ্রীপুর উপজেলার বরিশাট গ্রামে। বাবা অশ্বিনী কুমার বিশ্বাস এবং মা মীরা রানী বিশ্বাস। সংসারে অভাব থাকলেও তিনি পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। ১২ বছর বয়সে জীবিকার তাগিদে কাঁচি-চিরুনি হাতে কাজ শুরু করেন। ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত শ্রীপুরের খামারপাড়া বাজারে কাজ করার পর ১৯৮৫ সালে মাগুরা শহরে চলে আসেন। সেখান থেকে তিনি ভায়না মোড়, কলেজের সামনে, আবদুল গনি একাডেমির মার্কেটসহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় সেলুন চালিয়েছেন। বর্তমানে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই ছোট্ট টিনের চালাতেই কর্মরত আছেন।

বাবলুর বইয়ের প্রতি টান ছিল ছোটবেলা থেকেই। ১৯৮৮-৮৯ সালের দিকে শরৎচন্দ্রের ‘রামের সুমতি’ পড়ে তিনি নিজের চারপাশের মানুষের গল্প খুঁজে পান। তিনি বলেন, ‘মনে হয়, শরৎচন্দ্র আমারই গল্প বলছেন বা আমার আশপাশের অনেক ঘটনা ও মানুষের কথাই বলেছেন।’ এরপর তিনি শরৎচন্দ্রের একের পর এক উপন্যাস পড়তে শুরু করেন। পাশাপাশি তিনি পড়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও সমরেশ বসুর বই। সর্বশেষ তিনি শরৎচন্দ্রের ‘শেষ প্রশ্ন’ পড়েছেন।

বাবলু বই পড়ার আনন্দ নিজের মধ্যে আটকে রাখেননি। একসময় তাঁর সংগ্রহে প্রায় ১৫০টি বই ছিল। সেলুনে আসা বইপ্রেমী গ্রাহক ও পরিচিতজনদের তিনি বিভিন্ন সময় বই উপহার দিয়েছেন। বর্তমানে তাঁর কাছে ৩২টি বই রয়েছে। মাগুরা সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেদী হাসান বলেন, বাবলু কয়েক বছর আগে তাঁদের বিদ্যালয়ের পাঠাগারের জন্য ২৫টি বই উপহার দিয়েছেন।

"জীবনে কোনো বড় লোভ না করে মানুষের ভুলত্রুটি সহজভাবে মেনে নিয়ে পথ চলাটাই আসল বিষয়। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, নিজের কথা বা আচরণের মাধ্যমে যেন কোনো মানুষ কষ্ট না পায়।"

📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ

  • 📍 স্থান: মাগুরা শহর, আবদুল গনি একাডেমির দেয়াল ঘেঁষে বাবলু সেলুন
  • 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নরসুন্দর বাবলু কুমার বিশ্বাস (৫৮)
  • 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩২টি বই, ২৫টি বই উপহার, ১৫০টি বইয়ের শীর্ষে পৌঁছেছিলেন

📡 মূল নিউজ সোর্সসমূহ

এই প্রতিবেদনটি নিচের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। মূল সংবাদ পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:

📤 শেয়ার করুন: 📘 Facebook 💬 WhatsApp 𝕏 Twitter 💼 LinkedIn ✈️ Telegram

💬 মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ করা হবে। ইমেইল প্রকাশিত হবে না।
🤖