📌 মধুমতী নদীর ৪০ বছরের অব্যাহত ভাঙনে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় শত শত পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। এক কিলোমিটার এলাকায় ১৫-২০টি বাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। স্থানীয়রা দাবি, সরকার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
মধুমতী নদীর অব্যাহত ভাঙনে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার মানচিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। চার দশক ধরে চলা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি-বাড়ি, ফসলি জমি, দোকানপাট ও রাস্তাঘাট ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়রা দাবি, সরকারের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া এই দুর্যোগের শিকার হচ্ছে শত শত পরিবার।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মধুমতী নদীর ৪০ বছরের ভাঙনে মহম্মদপুরের মানচিত্র বদলে গেছে; ১৫-২০টি পরিবারের বাড়ি-বাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে
- 📌 চরপুকুরিয়া থেকে চরগয়েশপুর পর্যন্ত এক কিলোমিটার এলাকায় বসতভিটা ধ্বংস; শত শত একর ফসলি জমি ও গাছপালা হারিয়ে গেছে
- 📌 স্থানীয়রা দাবি, সরকার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না; জিও ব্যাগ ফেলার মতো প্রাথমিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও তা যথেষ্ট নয়
- 📌 মধুমতী নদীর দৈর্ঘ্য মাগুরা মহম্মদপুরে ২৮ কিলোমিটার; বাবুখালী থেকে পলাশবাড়িয়া পর্যন্ত এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বেশি
- 📌 ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের সহায়তা ও নদীভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
মহম্মদপুর উপজেলার জাঙ্গালীয়া গ্রামের শাহিদুল ও তার স্ত্রী হালিমা খাতুনের স্বপ্নের বাড়ি মধুমতী নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। তিন সন্তানের মাথা গোঁজার জন্য জমানো মূলধনে ইটের গাঁথুনিও শেষ করেছিলেন তারা, কিন্তু সেই স্বপ্নের ভিটা আর নেই। শাহিদুলের দুই ভাই সরোয়ার মোল্লা ও শফিকুল ইসলামের পরিবারও একই দুর্ভাগ্যের শিকার। শফিকুলের স্ত্রী সুরমা খাতুন বলেন, ‘মধুমতী আমাদের সবকিছু কেড়ে নিয়ে নিঃস্ব করে দিয়েছে। এখন খোলা মাঠে বা গাছতলায় থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই আমাদের।’
মাগুরার মহম্মদপুরে মধুমতী নদীর ভাঙনে চরপুকুরিয়া থেকে চরগয়েশপুর পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় ১৫ থেকে ২০টি পরিবারের বসতভিটা ও ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। চার দশক ধরে চলা এই ভাঙনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, দোকানপাট ও রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা নেহার বেগম (৬৫) বলেন, ‘বাপের দেওয়া একটু জমিও নদী খাইয়া গেছে। এখন কী করবো, বাবা?’
দীর্ঘ ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে মধুমতীর অব্যাহত ভাঙনে বদলে যাচ্ছে মহম্মদপুর উপজেলার ভূচিত্র। এ বছর চুড়ারগাতি তালতলা বাজারসংলগ্ন এলাকা, চরগয়েশপুর, বসুরধুলজুড়ী, ভোলানাথপুর, জাঙ্গালীয়া, হরেকৃষ্ণপুর, ঝামা ও দেউলী এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বেশি দেখা দিয়েছে। বসতবাড়ি ছাড়াও এসব এলাকার শত শত একর ফসলি জমি, গাছপালা, দোকানপাট ও রাস্তাঘাট বিলীন হয়েছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে স্থানীয় স্কুল, মসজিদ, মন্দির ও গোরস্তান।
মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রী বলেন, ‘ভাঙনকবলিত ঝুঁকিপূর্ণ কিছু এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় ও নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিস্তারিত অবহিত করা হয়েছে।’ মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) সন্তোষ কর্মকার বলেন, ‘ইউএনওর মাধ্যমে ভাঙনকবলিত চুড়ারগাতি ও চরগয়েশপুর এলাকার বিষয়ে অবগত হয়েছি। ঝামা ও হরেকৃষ্ণপুর এলাকায় জিও ব্যাগের মাধ্যমে প্রাথমিক অবস্থায় ভাঙন রোধের চেষ্টা করছি। জনগণের এই দুর্ভোগের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে।’
"মধুমতী আমাদের সবকিছু কেড়ে নিয়ে নিঃস্ব করে দিয়েছে। এখন খোলা মাঠে বা গাছতলায় থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই আমাদের"
"আমার এ দীর্ঘ জীবনে চুড়ারগাতিতে নদী রক্ষায় সরকার বা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে কোনো দিন জিও ব্যাগ ফেলা বা অন্য কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখিনি। অথচ প্রতিবছর একরের পর একর জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মহম্মদপুর উপজেলা, মাগুরা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শাহিদুল, হালিমা খাতুন, সুরমা খাতুন, নেহার বেগম, জিয়াউর রহমান, বেদবতী মিস্ত্রী, সন্তোষ কর্মকার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫-২০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত, ৪০ বছরের ভাঙন, ২৮ কিলোমিটার নদীর দৈর্ঘ্য, ৬৫ বছর বয়সী নেহার বেগম, ৭০ বছর বয়সী জিয়াউর রহমান
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!