📌 কুমারখালীতে রাত ৩টায় বটগাছের পতন ঘটে, যার ফলে একটি বাড়ি ভেঙে পড়ে, চারটি বিদ্যুৎ খুঁটি ভেঙে ১৫০ পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়। আহত হয়েছেন এক নারী। স্থানীয় প্রশাসন জরুরি ব্যবস্থা নিচ্ছে
কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভার এলঙ্গী এলাকায় গত রাত ৩টায় একটি বিশাল বটগাছের অপ্রত্যাশিত পতন ঘটে, যার ফলে একটি পাকা বাড়ি ভেঙে পড়ে, চারটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে যায় এবং প্রায় ১৫০টি পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। দুর্ঘটনায় আহত হন এক নারী। স্থানীয়রা গাছটি কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, কিন্তু রাতে গাছের পতন ঘটে যা বাসিন্দাদের জন্য চরম দুর্দশার সৃষ্টি করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাত ৩টায় কুমারখালীতে বিশাল বটগাছের পতন ঘটে, যার ফলে একটি পাকা বাড়ির অংশ ভেঙে পড়ে এবং চারটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে যায়।
- 📌 ১৫০টি পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে, ফ্রিজে থাকা খাবার নষ্ট হচ্ছে এবং সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
- 📌 আহত হন গৃহবধূ মিনি খাতুন, যিনি ঘুম থেকে জেগে দেখেন চাল ও বিদ্যুতের তার তার গায়ে চাপা পড়েছে।
- 📌 ক্ষতিগ্রস্ত ভ্যানচালক শহীদ শেখের বাড়ি ও চারটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে, যার ফলে পুরো এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
- 📌 শতবর্ষী শেওড়া গাছের গোড়া থেকে জন্ম নেওয়া এই বটগাছটি প্রায় তিন দশক ধরে এলাকার বাসিন্দাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
- 📌 পৌরসভার প্রশাসক ফারজানা আখতার জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
📰 বিস্তারিত
গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৩টার দিকে কুমারখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের এলঙ্গী এলাকায় একটি বিশাল বটগাছের পতন ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই গাছটি অতীতে একটি শতবর্ষী শেওড়া গাছের গোড়া থেকে জন্ম নেয়। স্থানীয় লোকমুখে প্রচলিত লোকবিশ্বাস ও অলৌকিক ধারণার কারণে বাসিন্দারা গাছটির গোড়ায় নিয়মিত পূজা ও মানত করতেন। তবে বন্যায় শেওড়া গাছটি মারা গেলে, তার গোড়া থেকে জন্ম নেয় এই বটগাছ। প্রায় তিন দশক ধরে এই গাছটি বিশাল মহীরুহে পরিণত হয় এবং এলাকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
সকালে গাছটি কাটার জন্য ১৮ জন শ্রমিক প্রস্তুত রাখা হয়েছিল, কিন্তু কুঠারের স্পর্শ ছাড়াই রাতে গাছটি উপড়ে পড়ে। পতনের ফলে একটি পাকা বাড়ির অংশ ও চারটি টিনের ঘর ভেঙে পড়ে। চারটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে এবং বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আহত গৃহবধূ মিনি খাতুন বলেন, “রাতে ঘুমিয়েছিলাম। কোনো বাতাস বা বৃষ্টি ছিল না। রাত ৩টার দিকে বিকট মড়মড় শব্দে ঘুম ভাঙলে চোখের পলকে ঘরের চাল ও বিদ্যুতের তার গায়ের ওপর এসে পড়ে। পরে প্রতিবেশীরা এসে উদ্ধার করেন।"
ক্ষতিগ্রস্ত ভ্যানচালক শহীদ শেখ বলেন, “সকালে গাছ কাটার কথা থাকলেও রাতেই সব শেষ হয়ে গেল। স্ত্রী আহত হয়েছে, ঘরবাড়ি চুরমার হয়ে গেছে। দিন আনি দিন খাই, ঘর মেরামত করার মতো সামর্থ্য আমার নেই। সরকারি সাহায্য না পেলে পরিবার নিয়ে পথে বসতে হবে।” স্থানীয় বাসিন্দা নয়ন শেখ জানান, চারটি খুঁটি ভেঙে পুরো এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে থাকা খাবার নষ্ট হচ্ছে এবং দেখা দিয়েছে তীব্র সুপেয় পানির সংকট।
কুমারখালী ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) আবাসিক প্রকৌশলী মো. গোলাম মোস্তফা জানান, “গাছ উপড়ে পড়ে চারটি খুঁটি ভেঙে অন্তত ১৫০টি পরিবার বিদ্যুৎহীন রয়েছে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। উপড়ে পড়া গাছটি অপসারণের পর জরুরি ভিত্তিতে লাইন পুনঃস্থাপনের কাজ শুরু হবে।”
কুমারখালী পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার জানান, “বিষয়টি আমি অবগত। পৌরসভার পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
"সকালে গাছ কাটার কথা থাকলেও রাতেই সব শেষ হয়ে গেল। স্ত্রী আহত হয়েছে, ঘরবাড়ি চুরমার হয়ে গেছে। দিন আনি দিন খাই, ঘর মেরামত করার মতো সামর্থ্য আমার নেই। সরকারি সাহায্য না পেলে পরিবার নিয়ে পথে বসতে হবে।"
"রাতে ঘুমিয়েছিলাম। কোনো বাতাস বা বৃষ্টি ছিল না। রাত ৩টার দিকে বিকট মড়মড় শব্দে ঘুম ভাঙলে চোখের পলকে ঘরের চাল ও বিদ্যুতের তার গায়ের ওপর এসে পড়ে। পরে প্রতিবেশীরা এসে উদ্ধার করেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুমারখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড, এলঙ্গী এলাকা, কুষ্টিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মিনি খাতুন (আহত), শহীদ শেখ (ক্ষতিগ্রস্ত), ফারজানা আখতার (পৌরসভার প্রশাসক), মো. গোলাম মোস্তফা (ওজোপাডিকো প্রকৌশলী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫০টি পরিবার বিদ্যুৎহীন, ১৮ জন শ্রমিক প্রস্তুত, ৪টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে, ৩ নম্বর ওয়ার্ড
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!