📌 কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় ২০০ রবিদাস পরিবার শারদীয় দুর্গাপূজায় আনন্দ থেকে বঞ্চিত। দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী এই পরিবারগুলো সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোনো সহায়তা পায়নি। রবিদাস সম্প্রদায়ের সাধারণ সম্পাদক অনিল রবিদাস জানান, অন্যান্য বছর সরকারি সহায়তা পেলেও এবার তা পায়নি
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় ২০০ রবিদাস পরিবার শারদীয় দুর্গাপূজার আনন্দ থেকে বঞ্চিত। দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী এই পরিবারগুলো সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোনো সহায়তা পায়নি, ফলে পূজার আনন্দ তাদের কাছে অদৃশ্য হয়ে গেছে। রবিদাস সম্প্রদায়ের সদস্যরা দাবি করছেন, তাদের প্রতি অবহেলা অব্যাহত রয়েছে এবং এ বছর কোনো সহযোগিতা পায়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ২০০ রবিদাস পরিবার পূজার আনন্দ থেকে বঞ্চিত
- 📌 এই পরিবারগুলোর মধ্যে ৬৩ বছর বয়সী ভুলুয়া রবিদাস বলেছেন, ‘আমাদের ব্যবসা অচল, ছেলেমেয়েদের নতুন জামা-কাপড় কিনতে পারি না’
- 📌 ৫৫ বছর বয়সী জোসনা রবিদাস বলেছেন, ‘তিনবেলা পেটভরে খাওয়াই কষ্টকর, সেখানে পূজার কী আছে!’
- 📌 রবিদাস সম্প্রদায়ের সাধারণ সম্পাদক অনিল রবিদাস জানান, ‘অন্যান্য বছর চাল, কাপড় ও ধুতি পেলেও এবার কোনো সহযোগিতা পাইনি’
- 📌 উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা খন্দকার মো. ফিজানুর রহমান বলেছেন, ‘রবিদাস সম্প্রদায়ের জন্য সরকারিভাবে কোনো বরাদ্দ নেই’
- 📌 উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম আরিফ জানান, ‘রবিদাস পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে, দুস্থদের সহায়তা করা হবে’
📰 বিস্তারিত
উলিপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার প্রায় আটশত রবিদাস পরিবারের মধ্যে ২০০টি পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। এই পরিবারগুলো দীর্ঘদিন থেকে অতি কষ্টে সংসার চালাচ্ছে। শারদীয় দুর্গাপূজার সময় অন্যান্য বছরগুলোতে বিভিন্ন সহায়তা পেলেও এ বছর সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোনো সহায়তা পায়নি।
রোববার দুপুরে পৌরসভার তেঁতুলতলা এলাকায় রবিদাস সম্প্রদায়ের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পূজার আনন্দের কোনো ছাপ নেই। ৬৩ বছর বয়সী ভুলুয়া রবিদাস বলেন, ‘উৎসব শুরু হলেও আমাদের মতো পরিবারগুলোর মাঝে তা নেই। আমাদের ব্যবসা প্রায় অচল, যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার পরিচালনা করি। বছরের অন্য দিনগুলো যেমন, পূজার দিনগুলোও আমাদের কাছে তেমন। আমরা সব সময় সমাজে অবহেলিত। অন্য বছরগুলোতে প্রশাসন আমাদের সহযোগিতা করলেও এবার কোনো সহযোগিতা পাইনি। আমরা সব সময় বৈষম্যের শিকার।’
৫৫ বছর বয়সী জোসনা রবিদাস বলেন, ‘তিনবেলা পেটভরে খাওয়াই কষ্টকর। সেখানে আবার পূজার কী আছে! আজ পূজার দ্বিতীয় দিন চললেও আমাদের ঘরে আনন্দ নেই।’ ধামশ্রেনী ইউনিয়নের ইন্দারার পাড় এলাকার ৭৭ বছর বয়সী চৈতা রবিদাস এবং বজরা ইউনিয়নের বাবুর হাট এলাকার কার্তিক রবিদাসসহ অনেকে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, টাকার অভাবে পূজার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছে তাদের।
রবিদাস সম্প্রদায়ের সাধারণ সম্পাদক অনিল রবিদাস বলেন, ‘অন্যান্য বছর সরকারিভাবে আমরা চাল, কাপড়, ধুতি ও লুঙ্গি পেলেও এবার কোনো সহযোগিতা পাইনি। আমাদের সম্প্রদায়ের অনেক দরিদ্র পরিবার আছে, তারা খুবই কষ্টে সংসার চালাচ্ছে। দুর্গাপূজায় কোনো ধরনের সহযোগিতা পেলে পরিবারগুলো উপকৃত হতো।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) খন্দকার মো. ফিজানুর রহমান জানান, ‘রবিদাস সম্প্রদায়ের জন্য সরকারিভাবে পৃথক কোনো বরাদ্দ নেই। তবে ইউএনও স্যার দুস্থ রবিদাস পরিবারের মধ্যে কাপড় বিতরণ করবেন বলে শুনেছি।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম আরিফ বলেন, ‘রবিদাস সম্প্রদায়ের পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে দুস্থদের সহায়তা করা হবে।’
"উৎসব শুরু হলেও আমাদের মতো পরিবারগুলোর মাঝে তা নেই। আমাদের ব্যবসা প্রায় অচল; যা আয় হয়, তা দিয়ে কোনো রকম সংসার পরিচালনা করি। আমরা সব সময় সমাজে অবহেলিত।"
"তিনবেলা পেটভরে খাওয়াই কষ্টকর। সেখানে আবার পূজার কী আছে!"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: উলিপুর উপজেলা, কুড়িগ্রাম; ধামশ্রেনী ইউনিয়ন, বজরা ইউনিয়ন, তেঁতুলতলা এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ভুলুয়া রবিদাস (৬৩), জোসনা রবিদাস (৫৫), চৈতা রবিদাস (৭৭), কার্তিক রবিদাস, অনিল রবিদাস, খন্দকার মো. ফিজানুর রহমান, এ টি এম আরিফ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০০ (রবিদাস পরিবার), ১৩ (ইউনিয়ন), ১ (পৌরসভা), ৬৩ (ভুলুয়া রবিদাসের বয়স), ৫৫ (জোসনা রবিদাসের বয়স), ৭৭ (চৈতা রবিদাসের বয়স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!