📌 কুমিল্লার দেবিদ্বারে পুলিশ তদন্তে গ্রেপ্তার আতঙ্কে ৫৬ বছর বয়সী হাসনা বেগম স্ট্রোক করে তিন দিন অচেতন থাকার পর মৃত্যুবরণ করেন। পরিবার অভিযোগ করে যে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিপক্ষের পক্ষে কাজ করেছেন। ঘটনায় আগে বাড়িঘর ভাঙচুর ও মারধর হয়
কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌর এলাকায় মামলার তদন্তে পুলিশের উপস্থিতি দেখে স্ট্রোক করে তিন দিন অচেতন থাকার পর ৫৬ বছর বয়সী হাসনা বেগম (৫৬) মৃত্যুবরণ করেছেন। পরিবারের দাবি, পুলিশ তদন্ত কর্মকর্তা আসামিপক্ষের পক্ষে কাজ করে মামলার তদন্তে দুর্বলতা দেখানোর ফলে এই ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কুমিল্লার দেবিদ্বারে পুলিশ তদন্তে গ্রেপ্তার আতঙ্কে ৫৬ বছর বয়সী হাসনা বেগম স্ট্রোক করে তিন দিন অচেতন থাকার পর মৃত্যুবরণ করেন
- 📌 ২০ সেপ্টেম্বর বাড়িঘর ভাঙচুর ও মারধর করে আক্তার হোসেন (৩৮) ও তাঁর ছেলে শুভ (৩৮) গুরুতর আহত হন, পায়ের ক্ষতস্থানে ৩৮টি সেলাই দিতে হয়
- 📌 তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) অজয় চক্রবর্তী বাদীপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দুর্বল বলে উল্লেখ করে সমঝোতার প্রস্তাব দেন
- 📌 মামলার বাদী আল আমিন দাবি করেন, পুলিশ তদন্ত কর্মকর্তা আসামিপক্ষের পক্ষে কাজ করছেন এবং মামলায় আঘাতের বিবরণ যথাযথভাবে উল্লেখ করা হয়নি
- 📌 ঘটনায় আসামিপক্ষের লোকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে পরিবারের সদস্যদের মারধর করে, পরে সামাজিক সালিস অনুষ্ঠিত হয়
📰 বিস্তারিত
কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌর এলাকার ভূষণা গ্রামের নেহাল কাজী বাড়ির আব্দুল আজিজের স্ত্রী হাসনা বেগম (৫৬) পুলিশ তদন্তে গ্রেপ্তার আতঙ্কে স্ট্রোক করে তিন দিন অচেতন থাকার পর মৃত্যুবরণ করেছেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া হয় তাঁকে, পরে আর্থিক সংকটের কারণে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর তাঁর মৃত্যু হয়।
হাসনা বেগমের মৃত্যুর পেছনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) অজয় চক্রবর্তীকে দায়ী করে পরিবার। মামলার বাদী আল আমিন বলেন, ‘আমার মা পুলিশ দেখে গ্রেপ্তার আতঙ্কে স্ট্রোক করে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তদন্ত কর্মকর্তা আমার ভাইকে বলেন, তাঁর বয়স হয়েছে, বৃদ্ধ মানুষের দাঁত এমনিতেই পড়ে যায়। মামলাও দুর্বল, সেখানে ফুলা জখমের কথা উল্লেখ আছে। ভ্যান চালিয়ে সংসার চালিয়ে তাঁরা কীভাবে মামলা চালাবেন, সে কথাও বলেন। তিনি আপস করে নিতে বলেন।’
২০ সেপ্টেম্বর ঘটনাটি ঘটে। বাড়ির পাশের গর্তের পানি সেচে মাছ ধরছিলেন আক্তার হোসেনের ছেলে মো. শুভ। একই বাড়ির ট্রাক্টরচালক নবী নেওয়াজ (৩৮) ও স্থানীয়দের সঙ্গে তাঁর বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। এতে নবী নেওয়াজ ছয়টি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ২০ থেকে ৩০ জন লোক নিয়ে শুভদের বাড়িতে হামলা চালান। বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও মারধর করে আক্তার হোসেন (৩৮) ও তাঁর ছেলে শুভ গুরুতর আহত হন। আক্তার হোসেনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত লাগে এবং তাঁর সামনের তিনটি দাঁত ভেঙে যায়। তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, পায়ের একটি ক্ষতস্থানে ৩৮টি সেলাই দিতে হয়।
ঘটনার পর গ্রামবাসী ধামতী গ্রামের আব্দুল কাদের (৪০) আটক করেন। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে। পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর আহত আক্তার হোসেনের ছোট ভাই আল আমিন বাদী হয়ে মামলা করেন। পরিবার অভিযোগ করে, মামলা দায়েরের পর প্রতিপক্ষের লোকজন প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে নবী নেওয়াজও আল আমিনকে মারধর করেন। সামাজিক সালিস অনুষ্ঠিত হয়, কিন্তু মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিপক্ষের পক্ষে কাজ করার অভিযোগ উঠে।
"আমার মা পুলিশ দেখে গ্রেপ্তার আতঙ্কে স্ট্রোক করে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তদন্ত কর্মকর্তা আমার ভাইকে বলেন, তাঁর বয়স হয়েছে, বৃদ্ধ মানুষের দাঁত এমনিতেই পড়ে যায়। মামলাও দুর্বল, সেখানে ফুলা জখমের কথা উল্লেখ আছে। ভ্যান চালিয়ে সংসার চালিয়ে তাঁরা কীভাবে মামলা চালাবেন, সে কথাও বলেন। তিনি আপস করে নিতে বলেন।"
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘অভিযোগ লিখেছেন বাদী। ওসির নির্দেশে মামলার তদন্তভার আমার ওপর পড়েছে। দাঁত ভাঙা বা কাটা-ছেঁড়ার বিষয় তদন্তে প্রমাণিত হলে চার্জশিটের প্রতিবেদনে তা উল্লেখ করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, বাদীকে ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাতে হয়—এ কথা বিবেচনায় নিয়ে মামলা চালানোর পরিবর্তে সমঝোতার বিষয়টি বিবেচনা করতে বলেছিলেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দেবিদ্বার পৌর এলাকা, ভূষণা গ্রাম, কুমিল্লা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হাসনা বেগম (৫৬), আল আমিন, আক্তার হোসেন (৩৮), নবী নেওয়াজ (৩৮), আব্দুল কাদের (৪০), এসআই অজয় চক্রবর্তী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৬ বছর বয়স, ৯ অক্টোবর, ১২ টা, ৮ অক্টোবর, ২০ সেপ্টেম্বর, ৩৮টি সেলাই, ২০-৩০ জন লোক, ৩৮ বছর বয়স
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!