📌 কুমিল্লার পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা কুমিল্লা হাউজিং এস্টেটে ছয় দশক পর বাণিজ্যিক স্থাপনা ও মার্কেট গড়ে উঠেছে। আবাসিক প্লটে দোকান, গুদাম, সরকারি কার্যালয়সহ মাদক নিরাময় কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই, মাঠ-দিঘি অরক্ষিত, চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ ও সিটি কর্পোরেশন দায়িত্বের বিতর্কে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না
কুমিল্লার কুমিল্লা হাউজিং এস্টেট, যা সরকারি কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষের জন্য পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল, বর্তমানে বাণিজ্যিক পাড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৬১-৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রকল্পে ৫৬০টি প্লটের মধ্যে ২০টি বাণিজ্যিক ও ৩টি শিল্প প্লট থাকলেও, সরেজমিনে দেখা যায়, আবাসিক প্লটগুলোতে একের পর এক দোকান, মার্কেট ও গুদাম গড়ে উঠেছে। এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই, মাঠ ও দিঘি অরক্ষিত, এবং মাদক সেবনের ঘটনাও ঘটছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১০৩ একর জমির উপর** কুমিল্লা হাউজিং এস্টেটে ৫৬০টি প্লটের মধ্যে ২০টি বাণিজ্যিক ও ৩টি শিল্প প্লট থাকলেও, বর্তমানে **৩৬টি দোকান** চার নম্বর সেকশনের প্রধান সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে।
- 📌 **গোলমার্কেট এলাকায়** একটি আবাসিক প্লটে **১৪টি দোকানের মার্কেট** নির্মিত হয়েছে, যেখানে রেস্তোরাঁ, কফি শপ ও চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।
- 📌 **আবাসিক ভবনের নিচতলায়** দোকান গড়ে উঠেছে, এবং **সাতটি দোকান** জামে মসজিদের বিপরীতে একটি প্লটে নির্মিত হয়েছে।
- 📌 **মাঠ ও দিঘি অরক্ষিত** — দিঘির চারপাশ ঝোপঝাড়ে ভরা, মাঠে কোনো সীমানাপ্রাচীর নেই। সন্ধ্যায় মাদক সেবন ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে।
- 📌 **গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ** দায়িত্বের বিতর্কে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না। কর্মকর্তারা বলছেন, লোকবলসংকট ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট না থাকায় নোটিশের তোয়াক্কা করা যাচ্ছে না।
- 📌 **বাসিন্দাদের অভিযোগ**, গত এক মাসে **তিনটি ফ্ল্যাটে চুরি** হয়েছে। পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম নেই, নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা নেই।
📰 বিস্তারিত
কুমিল্লা হাউজিং এস্টেটের প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৬১-৬২ সালে। প্রকল্পটি চারটি সেকশনে বিভক্ত, যেখানে ৫৬০টি প্লটের মধ্যে ২০টি বাণিজ্যিক ও ৩টি শিল্প প্লট ছিল। তবে বর্তমানে আবাসিক প্লটগুলোতে বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে উঠেছে। চার নম্বর সেকশনের প্রধান সড়কের দুই পাশে **৩৬টি দোকান** রয়েছে, যেখানে টংদোকান থেকে স্থায়ী মার্কেটসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। গোলমার্কেট এলাকায় একটি আবাসিক প্লটে **১৪টি দোকানের মার্কেট** নির্মিত হয়েছে, যেখানে রেস্তোরাঁ, কফি শপ ও চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।
এই এলাকায় **মাদক নিরাময় কেন্দ্র** ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ও রয়েছে। আবাসিক ভবনের নিচতলায় দোকান গড়ে উঠেছে, এবং জামে মসজিদের বিপরীতে একটি প্লটে **সাতটি দোকান** নির্মিত হয়েছে। প্লটের মালিকের স্ত্রী জরিনা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আগে সেখানে দোকান ছিল না। অন্যের দেখাদেখি আমরাও মার্কেট করেছেন। নির্মাণের সময় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কেউ বাধা দেননি বা নোটিশও দেননি।’
এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। তিন নম্বর সেকশনের বাসিন্দা মো. আনোয়ারুল হক বলেন, ‘গত এক মাসে আমার ভবনে **তিনটি ফ্ল্যাটে চুরি** হয়েছে। প্রবেশপথে কোনো গেট বা নিরাপত্তারক্ষী নেই। পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম নেই, ফলে চুরি ও ছিনতাইয়ের আশঙ্কা নিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে।’ বাসিন্দা উম্মে সালমা অভিযোগ করেন, ‘আবাসিক প্লট ও ভবনের নিচতলায় দোকানপাট গড়ে ওঠায় এলাকার সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। মাঠে খেলাধুলার পরিবেশ নেই।’
গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা বলছেন, লোকবলসংকট ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট না থাকায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। একটি কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ‘নিয়মনীতি না মেনে বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে উঠছে। আমরা নোটিশ দিচ্ছি, কিন্তু নির্মাণকাজ বন্ধ হয় না। পরে বিষয়টি ঢাকার প্রধান কার্যালয়কে জানাতে হয়। ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসে ব্যবস্থা নিয়েছেন—আমার দীর্ঘ কর্মজীবনে এমন ঘটনা দেখিনি।’
"দোকান তুলেছি, আরও তুলব। আপনি এ বিষয়ে আর কল দেবেন না। আমার কোনো অনুমতি লাগে না স্থাপনা তুলতে।"
— কামাল হোসেন, মার্কেট নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুমিল্লা হাউজিং এস্টেট (১০৩ একর জমি), কুমিল্লা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জরিনা বেগম (প্লট মালিকের স্ত্রী), মো. আনোয়ারুল হক (বাসিন্দা), কামাল হোসেন (মার্কেট নির্মাণকারী), গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০৩ একর জমি, ৫৬০টি প্লট, ২০টি বাণিজ্যিক প্লট, ৩টি শিল্প প্লট, ৩৬টি দোকান (চার নম্বর সেকশন), ১৪টি দোকানের মার্কেট (গোলমার্কেট)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!