📌 কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় পাঁচ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে রোপিত আমন ধানের মাজরা পোকা আক্রমণে কৃষকরা বিপদগ্রস্ত। কীটনাশক ও পার্চিং পদ্ধতি সত্ত্বেও পোকা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা দেখা দিয়েছে।
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় আমন ধানের মাজরা পোকা আক্রমণে কৃষকদের বিপদে পড়েছে। পাঁচ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে রোপিত ধানের শীষ বের হওয়ার পর পোকার আক্রমণ শুরু হওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কীটনাশক প্রয়োগ ও পার্চিং পদ্ধতি সত্ত্বেও পোকা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা দেখা দিয়েছে, যা ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা জাগিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় পাঁচ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে আমন ধানের মাজরা পোকা আক্রমণে কৃষকরা বিপদগ্রস্ত
- 📌 কীটনাশক ও ডালপালা পুঁতে পার্চিং পদ্ধতি সত্ত্বেও পোকা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা
- 📌 চান্দলা ইউনিয়নের মফিজ মিয়া বলেন, ‘ধানের শীষ বের হওয়ার আগমুহূর্তে পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে’
- 📌 উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: আবদুল মতিন বলেছেন, ‘কৃষকদের অনুমোদিত কীটনাশক বিকেলের পর প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে’
- 📌 চলতি মৌসুমে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল পাঁচ হাজার ৪৮০ হেক্টর, কিন্তু আবাদ হয়েছে ৩১ হেক্টর বেশি
📰 বিস্তারিত
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে পাঁচ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় শুরুতে বাম্পার ফলনের আশা জাগলেও ধানের কাইচ থোড় আসার সময়ে মাজরা পোকাসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকার আক্রমণে কৃষকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। বারবার কীটনাশক প্রয়োগ করেও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার না পাওয়ায় ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন তারা।
সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠ পরিদর্শন করে দেখা যায়, পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় কৃষকরা কীটনাশক প্রয়োগের পাশাপাশি জমিতে ডালপালা পুঁতে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। তবে অনেক কৃষকের অভিযোগ, এসব চেষ্টা করেও পোকার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।
চান্দলা ইউনিয়নের বড়ধুশিয়া এলাকার কৃষক মফিজ মিয়া বলেন, ‘ধানের শীষ বের হওয়ার আগমুহূর্তে পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। নিয়ম মেনে কীটনাশক প্রয়োগ করেও তেমন সুফল মিলছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে বড় ধরনের লোকসান হতে পারে।’ সিদলাই ইউনিয়নের কৃষক হারুন মিয়া একই উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, জমিতে ডালপালা পুঁতে ও পলিথিন বেঁধে পোকা দমনের চেষ্টা করেও উপদ্রব ঠেকানো যাচ্ছে না।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল পাঁচ হাজার ৪৮০ হেক্টর জমি। কিন্তু কৃষকদের আগ্রহে আবাদ হয়েছে পাঁচ হাজার ৫১১ হেক্টর, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩১ হেক্টর বেশি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: আবদুল মতিন বলেন, ‘কিছু এলাকায় মাজরা পোকার উপদ্রব দেখা দিয়েছে। এ সমস্যা নিয়ন্ত্রণে কৃষকদের অনুমোদিত কীটনাশক সঠিক নিয়মে ও সহনীয় মাত্রায় বিকেলের পর প্রয়োগের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের পরামর্শ ও তদারকি করছেন।’
"ধানের শীষ বের হওয়ার আগমুহূর্তে পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। নিয়ম মেনে কীটনাশক প্রয়োগ করেও তেমন সুফল মিলছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে বড় ধরনের লোকসান হতে পারে।"
"জমিতে ডালপালা পুঁতে ও পলিথিন বেঁধে পোকা দমনের চেষ্টা করেও উপদ্রব ঠেকানো যাচ্ছে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা, কুমিল্লা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মফিজ মিয়া (চান্দলা ইউনিয়ন), হারুন মিয়া (সিদলাই ইউনিয়ন), মো: আবদুল মতিন (কৃষি কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫১১ হেক্টর (আবাদকৃত জমি), ৪৮০ হেক্টর (লক্ষ্যমাত্রা), ৩১ হেক্টর (অতিরিক্ত আবাদ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!