📌 কটিয়াদীতে এক নারীকে 'মেয়েধরা' সন্দেহে মারধর করে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। একই সময়ে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইলমা (৭) উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে উত্তেজিত জনতা নারীর বিরুদ্ধে মারধর চেষ্টা করে
কটিয়াদীতে ‘মেয়েধরা’ সন্দেহে এক নারীকে মারধর করে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনায় উত্তেজিত জনতা ওই নারীর বিরুদ্ধে মারধর চেষ্টা করে। একই সময়ে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইলমা (৭) উদ্ধার করা হয়। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ঘটনাটি ঘটে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কটিয়াদীতে ‘মেয়েধরা’ সন্দেহে নারীকে মারধর করে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে
- 📌 শিক্ষার্থী ইলমা (৭) উদ্ধার করা হয়, তার বাবা দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার কথা বলা হয়েছিল
- 📌 নারী প্রিয়া (২৫) বাজিতপুরের দিঘীরপাড়ের বাসিন্দা দাবি করেছেন, তবে পরিচয় যাচাই চলছে
- 📌 ঘটনাস্থলে উত্তেজিত জনতা ওই নারীকে মারধর করে বিদ্যালয়ে আটকে রাখে
- 📌 পুলিশের গাড়ির গ্লাস ভেঙে গেছে এবং ৩-৪ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন
📰 বিস্তারিত
বুধবার (৭ অক্টোবর) পৌনে ১২টার দিকে কটিয়াদী পৌর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বেথৈর গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৬৩ নম্বর বেথৈর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে কালো বোরকা পরা এক নারী কয়েকজন শিক্ষার্থীর নাম ধরে ডাকাডাকি ও কথাবার্তা বলতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি ইলমা নামের এক শিক্ষার্থীকে ফুসলিয়ে বিদ্যালয়ের বাইরে নিয়ে যান। বিষয়টি কয়েকজন শিক্ষার্থীর নজরে পড়লে তারা ওই নারীর পিছু নেয়। পরে তারা দেখতে পায়, ইলমাকে একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা দৌড়ে গিয়ে বিষয়টি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও দপ্তরি শহিদুল্লাহকে জানায়।
খবর পেয়ে শিশুটির পরিবারের সদস্যরাও খোঁজ শুরু করেন। পরে শিশুটির বাবা বিদ্যালয় থেকে দুই কিলোমিটার দূরে পিপুলিয়া এলাকায় গিয়ে অটোরিকশাটির সন্ধান পান। এ সময় স্থানীয় লোকজন ওই নারীর পরিচয় ও শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছেন। পরে উত্তেজিত জনতা ওই নারীকে মারধর করে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসে এবং সেখানে আটকে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
শিক্ষার্থী ইলমা জানায়, ওই নারী তাকে তার বাবা দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন। এ সময় তিনি ইলমাকে কানের দুল খুলে দিতে বলেন। বেথৈর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা কিশো আর সুলতানা বলেন, ‘দুপুরে নিচের শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরছিল এবং পরের শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসছিল। বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভা ও শিক্ষা অফিসের একজন কর্মকর্তার আসার বিষয় নিয়ে আমরা দাপ্তরিক আলোচনায় ছিলাম। পরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জানতে পারি, এক নারী এসে এক শিক্ষার্থীকে নিয়ে যাচ্ছেন। এরপর আমরা দ্রুত খোঁজ শুরু করি।’
পুলিশ হেফাজতে থাকা অভিযুক্ত নারী প্রিয়া (২৫) নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন, তবে স্কুল থেকে শিশুকে কেনো নিয়ে আসা হয়েছে এই প্রশ্নে নীরব থাকেন। কটিয়াদী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ বলেন, ‘খবর পেয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁকে থানায় নিয়ে আসার সময় উত্তেজিত জনতা ফের মারধরের চেষ্টা করে। এ সময় ৩-৪ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশের গাড়ির একটি গ্লাসও ভেঙে গেছে।’
"দুর্ঘটনায় বাবা আহত, তাই তাকে নিয়ে যাচ্ছি" — ইলমা জানিয়েছেন, কিন্তু নারী কানের দুল খুলে দিতে বলেছিলেন
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কটিয়াদী, কিশোরগঞ্জ; বেথৈর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিপুলিয়া এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রিয়া (২৫), ইলমা (৭), কিশো আর সুলতানা, এসআই মাসুদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ অক্টোবর, ৯ নম্বর ওয়ার্ড, ৬৩ নম্বর বিদ্যালয়, ২৫ বছর, ৭ বছর, ১২:০০ টা, ৩-৪ জন পুলিশ সদস্য
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!