📌 কটিয়াদী উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের গ্রামে এনজিও পরিচয়ে ৫ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে সংঘবদ্ধ একটি প্রতারক দল। ভুক্তভোগীরা প্রতারণার বিষয়টি সরকারের কাছে উঠিয়ে দাবি জানিয়েছেন
কটিয়াদী উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামে এনজিও পরিচয়ে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের হাতে কমপক্ষে ৫ লাখ টাকা চুরি হয়ে গেছে। গ্রামের সহজ-সরল নারীদের আকৃষ্ট করে ঋণ ও সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে তারা। ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা সরকারের কাছে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে সংঘবদ্ধ প্রতারক দল, যার মধ্যে ৫০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে চুরি করা হয়েছে।
- 📌 প্রতারণাকারী দল জয়িতা ফাউন্ডেশন পরিচয় দিয়ে মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে ১০ হাজার টাকা বছরে লাভ বলে প্রলোভন দিয়েছে।
- 📌 ২০ আগস্ট থেকে ঘটনা ঘটতে শুরু করে, ভুক্তভোগীরা ২০-৩০ জন নারীকে একত্রিত করে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারলেও তাদের সন্ধান পাওয়ায় ব্যর্থ হয়েছে।
- 📌 নার্গিস আক্তার (শহীদ মিয়ার স্ত্রী), সেলিনা (সুকেল মিয়ার স্ত্রী), রোজিনা সহ ১০-২০ জন নারী ভুক্তভোগী। তারা প্রতারণাকারীদের আইনের আওতায় আনা ও টাকা উদ্ধার করার দাবি জানিয়েছেন।
- 📌 প্রতারণাকারীদের নাম আতিক হাসান ও জহিরুল ইসলাম। তাদের ফোন নম্বর ০১৯৩৩৭৭৬৩২৭ ও ০১৯১৮৩৭০৬১৩ বন্ধ রয়েছে।
📰 বিস্তারিত
কটিয়াদী উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামে সংঘবদ্ধ একটি প্রতারক দল এনজিও পরিচয়ে গ্রামের সহজ-সরল নারীদের আকৃষ্ট করে টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে। ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা চরম হতাশায় পড়েছেন। তারা কষ্টে জমানো টাকা হারিয়ে দুচোখ অন্ধকারে বিলাপ করছেন।
প্রতারণাকারীরা নিজেদের জয়িতা ফাউন্ডেশনের কর্মী পরিচয় দিয়ে মোবাইলে ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করত। তারা ঋণ, টাকা, গরু ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার কথা বলে এবং সঞ্চয়ের নামে স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করত। প্রতারণাকারীরা প্রত্যেক লাখ টাকার জন্য বছরে ১০ হাজার টাকা লাভ দেওয়ার কথা বলে নারীদের আকৃষ্ট করত।
ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতারণাকারীরা তাদেরকে মানিকখালী বাজারের অফিসে যেতে বলে কাগজপত্র জমা দিতে। পরে সোমবার ২০-৩০ জন নারী অফিসে গিয়ে কাউকে পাননি। তাদের দেওয়া ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়ায় সবাই প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারল। এর মধ্যে নার্গিস আক্তার (শহীদ মিয়ার স্ত্রী) ৫০ হাজার, সেলিনা (সুকেল মিয়ার স্ত্রী) ৩০ হাজার, রোজিনা ৪০ হাজার টাকা সহ আরও অনেকের কাছ থেকে টাকা চুরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী নার্গিস আক্তার বলেছেন, “তিল তিল করে কষ্টে জমানো টাকা নিয়ে ওরা উধাও হয়ে গেছে। ফোন করলে নম্বর সব বন্ধ তাদের। এখন আমাদের সব শেষ হয়ে চিন্তার মধ্যে আছি।” অন্য এক ভুক্তভোগী সেলিনা বলেছেন, “ডিম-মুরগি বেচে জমানো টাকা দিলাম তাদের কথা বিশ্বাস কইরা। এনজিওর লোক তো এভাবেই আসে এলাকায়। আসল-নকল আমরা সাধারণ মানুষ চিনতে পারি না। আমরা টাকা উদ্ধার করার দাবি ও কঠিন বিচার চাই সরকারের কাছে।”
স্থানীয় মফিজুর রহমান সারুফ বলেছেন, “আমাকে পড়াশোনার জন্য ঢাকায় থাকতে হয়। জয়িতা ফাউন্ডেশনের এনজিও কর্মী পরিচয় দিয়ে আমার মায়ের কাছে অফিস ভাড়া নিতে আসে। পরে সকল কাগজপত্র দিয়ে সোমবার দিন চুক্তিবদ্ধ হওয়ার কথা থাকলেও তারা আসেনি। ওই দিন সেখানে আরও নারী-পুরুষ আসে তাদের খোঁজে। কিন্তু একপর্যায়ে সবাই তাদের প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারি। এদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। বিভিন্ন এলাকায় এরা সংঘবদ্ধ হয়ে প্রতারণা করে আসছে হয়তো।”
করগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাদিম মোল্লা বলেছেন, “এ বিষয়ে ঘটনার পর একজন ভুক্তভোগী আমাকে মৌখিকভাবে অবগত করেছেন। বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখব। পাশাপাশি আর কখনো যাতে এলাকায় এমন প্রতারণা না হয়, মানুষকে সচেতন করব।
কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেছেন, “এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে প্রলোভনের মাধ্যমে একটি চক্র এনজিও পরিচয় ব্যবহার করে অপকর্ম করছে। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন ও সজাগ থাকা জরুরি। অভিযোগের বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব।”
"তিল তিল করে কষ্টে জমানো টাকা নিয়ে ওরা উধাও হয়ে গেছে। ফোন করলে নম্বর সব বন্ধ তাদের। এখন আমাদের সব শেষ হয়ে চিন্তার মধ্যে আছি।"
"ডিম-মুরগি বেচে জমানো টাকা দিলাম তাদের কথা বিশ্বাস কইরা। এনজিওর লোক তো এভাবেই আসে এলাকায়। আসল-নকল আমরা সাধারণ মানুষ চিনতে পারি না। আমরা টাকা উদ্ধার করার দাবি ও কঠিন বিচার চাই সরকারের কাছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: করগাঁও ইউনিয়ন, কটিয়াদী উপজেলা, কিশোরগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নার্গিস আক্তার, সেলিনা, মফিজুর রহমান সারুফ, নাদিম মোল্লা, রফিকুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ লাখ টাকা, ৫০ হাজার টাকা, ৩০ হাজার টাকা, ৪০ হাজার টাকা, ১০ হাজার টাকা, ২০-৩০ জন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!