📌 সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধ রাতে আবার ভেঙে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা জেনারেটরের আলোয় রিং বাঁধ নির্মাণে অংশ নেন। জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে সমন্বয় করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধ রাতের গভীরে আবার ভেঙে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা জেনারেটরের আলোয় মোনাজাত ও শ্রমে রিং বাঁধ নির্মাণে জড়িয়ে পড়েন। জোয়ারের পানি বাঁধ ছুঁই ছুঁই করছিলে এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধ রাতে আবার ভেঙে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা জেনারেটরের আলোয় রিং বাঁধ নির্মাণে অংশ নেন।
- 📌 সোমবার রাতে মূল বাঁধের বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জিও টিউব দিয়ে রিং বাঁধ তৈরি করে পানি ঠেকানোর চেষ্টা চালায়।
- 📌 স্বেচ্ছাশ্রমে চার শতাধিক মানুষ দিনভর বাঁধ সংস্কারের কাজে অংশ নেন, কিন্তু সন্ধ্যায় সংস্কার করা অংশ আবার ধসে পড়ে।
- 📌 আশাশুনি উপজেলা সহকারী কমিশনার মিঠুন মৈত্র বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ অংশের বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
- 📌 রাত আটটার দিকে এলাকায় পরিদর্শনে আসেন মিঠুন মৈত্র এবং বাঁধের অবস্থা দেখেন।
📰 বিস্তারিত
সোমবার মধ্যরাতে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাহুনিয়া-শ্রীপুর এলাকায় কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধে আবার ভাঙন ঘটে। দিনভর মাটি, বস্তা ও জিও ব্যাগ দিয়ে মূল বেড়িবাঁধ রক্ষার চেষ্টা করা হলেও সন্ধ্যার পর সংস্কার করা অংশ আবার ধসে পড়ে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মূল বাঁধের বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এরপর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) মূল বাঁধের পেছনে জিও টিউব দিয়ে রিং বাঁধ তৈরি শুরু করে। সেই বাঁধ দিয়েই কোনো রকমে জোয়ারের পানি ঠেকানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সোমবার দিনভর চার শতাধিক মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ রক্ষার কাজে অংশ নেন। মাটি ও অন্য উপকরণ দিয়ে ধসে যাওয়া অংশ সংস্কারের চেষ্টা করা হলেও সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সংস্কার করা অংশের বড় একটি অংশ আবার নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এরপর স্থানীয় মসজিদগুলো থেকে মাইকিং করে বাঁধ ঝুঁকিতে পড়ার কথা জানানো হয়। সবাইকে ঝুড়ি, কোদাল ও বস্তা নিয়ে বেড়িবাঁধে আসতে বলা হয়। খবর পেয়ে রাতেই আবার বাঁধে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জেনারেটরের আলোয় চলে মাটি ফেলা ও রিং বাঁধ তৈরির কাজ।
বাসিন্দা আবু সালেহ বলেন, ‘রাতে গ্রামের মানুষ বেরিয়ে এসে আবার শ্রম দিয়ে পাশের রিং বাঁধ নির্মাণের কাজ করেছেন। বস্তায় মাটি ভরে রিং বাঁধে দেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের জিও টিউবের ওপর মাটির বস্তা দিয়ে কোনো রকমে রাত পার করছি। জোয়ারের সময় বাঁধের ওপর সবাই মিলে মোনাজাত করে আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়েছি।’ আরেক বাসিন্দা কেরামত আলী বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে মোনাজাত করছিলাম এবং বাঁধের ওপর দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়েছি। জেনারেটরের আলোয় কাজ করা হচ্ছিল।’
"বাঁধের যে অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে, সেখানে রিং বাঁধ দেওয়া হলেও সেটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা, প্রতাপনগর ইউনিয়ন, কুড়িকাহুনিয়া-শ্রীপুর এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবু সালেহ, কেরামত আলী, মিঠুন মৈত্র (আশাশুনি উপজেলা সহকারী কমিশনার), রাশিদুল ইসলাম (পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী), আবু দাউদ ঢালী (প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: চার শতাধিক (স্বেচ্ছাশ্রমে অংশগ্রহণকারী), সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা (ভাঙন ঘটা সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!