📌 কিশোরগঞ্জ পৌরসভায় ৬১ লাখ টাকার অনিয়মের অভিযোগে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অডিট আপত্তির নথি পাওয়া যায়নি। নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে কাজ কম করে বিল উত্তোলন ও ভুয়া প্রাক্কলনের অভিযোগ তোলা হলেও, কোনো দাপ্তরিক নথি বা সুনির্দিষ্ট প্রকল্প তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। পৌরসভার কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, অভিযোগগুলো বিভ্রান্তিকর এবং প্রকৌশলীকে এককভাবে দায়ী করা অন্যায়
কিশোরগঞ্জ পৌরসভায় উন্নয়নকাজে ৬১ লাখ টাকার অনিয়মের অভিযোগে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অডিট আপত্তির কোনো দাপ্তরিক নথি পাওয়া যায়নি। বেসরকারি মিডিয়ায় প্রকাশিত এই অভিযোগে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলামকে লক্ষ্য করে কাজ কম করে বিল উত্তোলন ও নকশাবহির্ভূত নির্মাণের অভিযোগ তোলা হলেও, কোনো প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট তথ্য বা অডিট আপত্তির নথি পাওয়া যায়নি। পৌরসভার কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, অভিযোগগুলো বিভ্রান্তিকর এবং প্রকৌশলীকে এককভাবে দায়ী করা অন্যায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কিশোরগঞ্জ পৌরসভায় ৬১ লাখ টাকার অনিয়মের অভিযোগে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অডিট আপত্তির কোনো দাপ্তরিক নথি পাওয়া যায়নি।
- 📌 পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে কাজ কম করে বিল উত্তোলন, নকশাবহির্ভূত নির্মাণ ও ভুয়া প্রাক্কলনের অভিযোগ তোলা হলেও, কোনো প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট তথ্য বা অডিট আপত্তির নথি পাওয়া যায়নি।
- 📌 পৌরসভার কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, অভিযোগগুলো বিভ্রান্তিকর এবং প্রকৌশলীকে এককভাবে দায়ী করা অন্যায়।
- 📌 ২৮ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদনে ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরের অডিট রিপোর্টের বরাত দিয়ে অভিযোগ করা হলেও, কোনো প্রকল্পের স্থান বা অডিট আপত্তির স্মারক নম্বর উল্লেখ করা হয়নি।
- 📌 পৌরসভার কর্মকর্তারা বলেছেন, উন্নয়নকাজের প্রচলিত প্রক্রিয়ায় একাধিক পর্যায়ের কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা থাকায় শুধু একজনকে দায়ী করা যাবে না।
📰 বিস্তারিত
কিশোরগঞ্জ পৌরসভায় উন্নয়নকাজে ৬১ লাখ টাকার অনিয়মের অভিযোগে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অডিট আপত্তির কোনো দাপ্তরিক নথি পাওয়া যায়নি। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ও একটি পত্রিকায় প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে কাজ কম করে বিল উত্তোলন, নকশাবহির্ভূত নির্মাণ ও ভুয়া প্রাক্কলনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে যে অডিট আপত্তির কথা বলা হয়েছে, সেই আপত্তির দাপ্তরিক নথি খুঁজতে গিয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পৌরসভার হিসাব শাখা, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উল্লিখিত অভিযোগসংবলিত কোনো অডিট আপত্তির চিঠি পৌরসভায় পাওয়া বা নিবন্ধিত হওয়ার তথ্য তাদের কাছে নেই।
গত ২৮ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদনে ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরের অডিট রিপোর্টের বরাত দিয়ে বলা হয়, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তবে প্রতিবেদনে এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রকল্প, স্থান, ওয়ার্ড কিংবা অডিট আপত্তির স্মারক নম্বর উল্লেখ করা হয়নি। প্রতিবেদনে ৬৫ মিটার ড্রেন নির্মাণের পরিবর্তে ৫৫ মিটার নির্মাণ করে অতিরিক্ত ১ লাখ ৩৩ হাজার টাকা উত্তোলনের অভিযোগও করা হয়েছে। কিন্তু কোন ওয়ার্ডে, কোন প্রকল্পের আওতায় এবং কোন সময়ে ওই ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে সে তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, বিগত সময়ে ৬৫ মিটারের নির্দিষ্ট কোনো ড্রেন প্রকল্পের তথ্য তাঁদের জানা নেই। তাঁর ভাষ্য, মাঠপর্যায়ে জনগণের চাহিদা ও বাস্তব পরিস্থিতির ভিত্তিতে কোনো কোনো কাজের দৈর্ঘ্যে কিছুটা কমবেশি হতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট প্রকল্পের তথ্য ছাড়া এ ধরনের অভিযোগ বিভ্রান্তিকর। এছাড়া প্রতিবেদনে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ১৫ লাখ ৮৪ হাজার টাকার স্লাব নির্মাণ এবং পুরোনো সড়কের নিচে সলিং দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে। তবে পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. জুয়েল হক বলেন, অভিযোগে কোনো ওয়ার্ড, প্রকল্প বা নির্দিষ্ট কাজের স্থান উল্লেখ করা হয়নি। শুধু আনুমানিক ভাউচারের কথা বলা হয়েছে। তাঁর দাবি, বর্তমান নির্মাণকাজের প্রক্রিয়া ও কারিগরি তদারকির কারণে এভাবে অনিয়ম করার সুযোগ নেই।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে জরুরি মেরামতকাজে প্রায় ৩১ লাখ টাকার অনিয়মের অভিযোগও করা হয়েছে। এ বিষয়ে সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, পৌরসভার দৈনন্দিন প্রয়োজন ও জরুরি পরিস্থিতিতে প্রশাসক বা মেয়রের অনুমোদন নিয়ে নিয়ম মেনে ক্ষুদ্র ভাউচারের মাধ্যমে এসব কাজ করা হয়। তাঁর দাবি, এ ধরনের কাজকে টেন্ডারভুক্ত নিয়মিত উন্নয়নকাজের সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই।
অভিযোগগুলোর মূল ভিত্তি হিসেবে যে অডিট আপত্তির কথা বলা হয়েছে, তার সত্যতা যাচাই করতে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি নতুন দায়িত্বে যোগ দিয়েছেন। এ ধরনের অডিট আপত্তির বিষয়ে তাঁর জানা নেই। বিষয়টি সম্পর্কে পূর্বের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব ভালো বলতে পারবেন। পূর্বে দায়িত্বে থাকা পৌর নিবার্হী কর্মকর্তা ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা হাসান জাকিরের কাছে অডিট আপত্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এধরনের অডিট আপত্তির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, দাপ্তরিক নিয়ম অনুযায়ী অডিট আপত্তির চিঠি পৌরসভায় এলে তা হিসাব শাখায় নিবন্ধিত হওয়ার কথা।
“আমি অডিট আপত্তির নিউজটি আমার সহকর্মীর কাছ থেকে পেয়ে করেছি। বিস্তারিত তিনি ভালো বলতে পারবেন।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কিশোরগঞ্জ পৌরসভা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. রফিকুল ইসলাম (নির্বাহী প্রকৌশলী), মিজানুর রহমান (সহকারী প্রকৌশলী), মো. জুয়েল হক (উপ-সহকারী প্রকৌশলী), সৈয়দ শফিকুর রহমান (নির্বাহী কর্মকর্তা), হাসান জাকির (পূর্ব দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬১ লাখ টাকা, ২৮ জুলাই, ২০২২-২৩ অর্থবছর, ২০২৩-২৪ অর্থবছর, ৬৫ মিটার, ৫৫ মিটার, ১ লাখ ৩৩ হাজার টাকা, ১৫ লাখ ৮৪ হাজার টাকা, ৩১ লাখ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!