📌 খুলনা জেলা ও মহানগরিতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে শতাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। মাদক ব্যবসা, আধিপত্য বিস্তার ও রাজনৈতিক বিরোধের পাশাপাশি কিশোর গ্যাংদের দৌরাত্ম্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও অবনত করেছে। নাগরিকরা আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছেন
খুলনা জেলা ও মহানগরীতে মাদক ব্যবসা, রাজনৈতিক বিরোধ ও কিশোর গ্যাংদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমাগত অবনতির মুখে পড়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এখন পর্যন্ত শতাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে অনেকেই রাজনৈতিক ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আক্তার ঢালী (৬০) ও তার ছেলে জয় ঢালী নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। আক্তার ঢালী বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
- 📌 গত ১৫ আগস্ট থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত খুলনা ও দৌলতপুরে অন্তত ৫ জনের নৃশংস হত্যা হয়েছে, যার মধ্যে ৩ জন রাজনৈতিক নেতা ও ২ জন সাধারণ নাগরিক।
- 📌 খুলনা জেলা ও মহানগরিতে ৯টি সন্ত্রাসী গ্রুপ ও ৫টি কিশোর গ্যাং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে রয়েছে।
- 📌 পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, আধিপত্য বিস্তার ও রাজনৈতিক বিরোধ এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ।
- 📌 নগরবাসীরা আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছেন। বেপরোয়া অপরাধীরা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন তারা।
📰 বিস্তারিত
খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার আইচগাতী ইউনিয়নে ৫ অক্টোবর রাতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আক্তার ঢালী (৬০)কে গুলি করে হত্যা করা হয়। তার ছেলে জয় ঢালীকে গত ১৫ আগস্ট নৃশংসভাবে গলাকেটে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল।
এই ঘটনাগুলো খুলনার জন্য নিত্য-নৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ৪ অক্টোবর খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার ফরমাইজখানা এলাকায় পূর্ব-বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (পিবিসিপি) নেতা মো. নাসিমুল করিম (৫৫)কে গুলি করে হত্যা করা হয়।
গত ১২ সেপ্টেম্বর দৌলতপুর থানার কুলিবাগান বটতলায় একটি অফিসের সামনে জলিল মুন্সি (৩৫) নামের যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়। তার তিন দিন আগে ৯ সেপ্টেম্বর রাতে নগরীর তালুকদার কমিউনিটি সেন্টারের কাছে মোস্তাকিন (২৮) নামের যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে রয়েছে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, প্রতিশোধ, পারিবারিক কলহ, রাজনৈতিক বিরোধ ও কিশোর গ্যাংদের দৌরাত্ম্য। এসব ঘটনার সাথে ৯টি সন্ত্রাসী গ্রুপের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে পুলিশ। এ গ্রুপগুলোর মধ্যে রয়েছে রনি চৌধুরীর বি কোম্পানি, শেখ পলাশের পলাশ গ্রুপ, হুমায়ুন কবীরের হুমা বাহিনী, আশিক বাহিনী, নূর আজিম গ্রুপ, ট্যাংকি শাওন গ্রুপ, আরমান গ্রুপ, শাকিল গ্রুপ ও নাসিম গ্রুপ।
এছাড়া, খুলনা মহানগরীতে ৫টি কিশোর গ্যাং — টিপসি বয়েজ, ডেঞ্জার বয়েজ, গোল্ডেন বয়েজ, কিং অব রূপসা ও টাইগার টিম — তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত।
পুলিশ ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি ৬) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, তারা দেশীয় অস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও মাদকসহ অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। তবে নাগরিকরা মনে করছেন, অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এবং দ্রুত তাদের দমন করা প্রয়োজন।
"এক সময়ের শান্তির নগরী খুলনা এখন আতঙ্কের নগরীতে পরিণত হয়েছে। বাইরে বের হলে মনের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করে। খুলনায় একের পর এক হত্যাকাণ্ড, ছিনতাই ও নীরব চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে। যেন কোনোভাবেই সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।"
আরাফাত হোসেন, বয়রা এলাকার বাসিন্দা
অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার, খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আর আগের মতো ফিরে আসেনি। তিনি আরও বলেন, মাদকের ব্যবসা লাগামছাড়া এবং কিশোররা এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খুলনা জেলা ও মহানগরী (রূপসা উপজেলা, দৌলতপুর, দিঘলিয়া)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আক্তার ঢালী (৬০), জয় ঢালী, মো. নাসিমুল করিম (৫৫), জলিল মুন্সি (৩৫), মোস্তাকিন (২৮), আরাফাত হোসেন, অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০, ৫৫, ৩৫, ২৮, ৫ (অক্টোবর), ১৫ (আগস্ট), ৪ (অক্টোবর), ১২ (সেপ্টেম্বর), ৯ (সেপ্টেম্বর), ৯টি সন্ত্রাসী গ্রুপ, ৫টি কিশোর গ্যাং
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!