📌 খুলনা শহরে মাদক ব্যবসা ও অপরাধী গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বে ১৫ ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। পুলিশ তদন্ত করছে, কিন্তু এখনো মামলা হয়নি। নিহতদের মধ্যে একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য ছিলেন, অন্যজন মাদক বিক্রেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন
খুলনা মহানগরে মাদক ব্যবসা ও অপরাধী গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বে ১৫ ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, কিন্তু এখনো কোনো মামলা করা হয়নি। পুলিশ তদন্ত করছে, তবে নিহতদের পরিবারকে এজাহার দিতে বলা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুটি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে সম্ভাব্য যোগসূত্র থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 খুলনা শহরে ১৫ ঘণ্টার ব্যবধানে গুলি করে দুটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে — প্রথমে তাওহিদুল ইসলাম তুষার (৩২) নিহত হন, পরে খুশি (২৫) মারা যান
- 📌 দুটি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে মাদক ব্যবসা ও অপরাধী গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বের সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে পুলিশ
- 📌 নিহত তাওহিদুল ইসলাম তুষার ছিলেন খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ গ্রুপের সদস্য, অন্যজন খুশি মাদক বিক্রেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন
- 📌 খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, পরিবারকে এজাহার দিতে বলা হয়েছে, না আসলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে
- 📌 গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুলনা মহানগরে ৩৩টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, এর মধ্যে ৩১টি রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
গত বৃহস্পতিবার ভোরে খুলনা শহরের পূর্ব বানিয়াখামার এলাকায় তাওহিদুল ইসলাম তুষার (৩২) নামের একজন যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই দিন সন্ধ্যায় জিন্নাহপাড়া এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয় খুশি (২৫) নামের এক গৃহবধূকে। দুটি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে মাদক ব্যবসার বিরোধকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ড দুটি ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (খুলনা জোন) শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, দুটি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পুলিশ তথ্য সংগ্রহ করছে। তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যরা এজাহার দিতে আসার কথা জানিয়েছেন। তাঁরা না এলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করতে পারে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত তাওহিদুল ইসলাম তুষার ছিলেন খুলনার অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ গ্রুপের সদস্য। অন্যদিকে খুশি বাবু গ্রুপের হয়ে মাদক বিক্রি করতেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, খুশির পরিবারের দাবি, তাঁরা মাদক ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। তবে মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেওয়া, বাবু গ্রুপের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে অন্য কোনো গোষ্ঠীর সঙ্গে নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলা কিংবা অন্য কোনো পক্ষের সঙ্গে বিরোধের জেরে খুশি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর বিরোধের সন্দেহ পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, খুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় বি-কোম্পানি, পলাশ গ্রুপ, হুমা বাহিনী, আরমান গ্রুপ, শাকিল গ্রুপ, নাসিম গ্রুপ, আশিক বাহিনী, নূর আজিম গ্রুপ ও টেংকি শাওন গ্রুপের নাম আলোচনায় এসেছে। এসব গোষ্ঠীর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও প্রতিশোধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আছে।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলের পাশে আশিকের বোনের বাসা। হত্যাকাণ্ডের কিছু সময় পর একদল লোক ওই বাসায় গিয়ে টেলিভিশন ও কিছু আসবাব ভাঙচুর করে। আশিক গ্রুপকে দায়ী করে ওই হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবার আশিক গ্রুপকে ফাঁসাতে বাবু গ্রুপের সদস্যরা ওই বাসায় হামলা চালিয়ে থাকতে পারেন, এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
"পরিবারের সদস্যরা আজ শুক্রবার আসার কথা জানিয়েছেন। তাঁরা না এলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করতে পারে।"
"দুটি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পুলিশ তথ্য সংগ্রহ করছে। কারা ঘটনা দুটি ঘটিয়ে থাকতে পারে, সে বিষয়ে মোটামুটি তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খুলনা শহর (পূর্ব বানিয়াখামার ও জিন্নাহপাড়া এলাকা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তাওহিদুল ইসলাম তুষার (৩২), খুশি (২৫), সহকারী পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ ঘণ্টা (ব্যবধান), ৩২ বছর (তাওহিদুল ইসলামের বয়স), ২৫ বছর (খুশির বয়স), ৩৩টি হত্যাকাণ্ড (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর), ৩১টি রহস্য উদ্ঘাটন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!