📌 খুলনার রূপসায়ে আক্তার ঢালীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তার ছেলে জয় ঢালীর হত্যার মামলায় আসামিরা জামিনে বেরিয়ে আসার পর স্বজনরা আর মামলা করতে চান না। পুলিশ তদন্ত করছে ‘বি কোম্পানি’-এর সম্ভাব্য জড়িততার বিষয়টি
খুলনার রূপসায় উপজেলায় দুর্ভাগ্য পরিবারের আরেক সদস্য নিহত হওয়ার পর স্বজনরা হত্যার মামলা ছেড়ে দিচ্ছেন পুলিশের উপর। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় আক্তার ঢালীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তার ছেলে জয় ঢালীর হত্যার মামলায় আসামিরা জামিনে বেরিয়ে আসার পর পরিবার আর মামলা করতে চায় না। তারা মনে করেন, পুলিশ এবার ঘটনাটি তদন্ত করে দেখবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 খুলনার রূপসায়ে আক্তার ঢালীকে গুলি করে হত্যা করা হয়; তার ছেলে জয় ঢালীকে আগে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়েছিল
- 📌 স্বজনরা মনে করেন, ‘বি কোম্পানি’ নামের গোষ্ঠীর লোকজন আক্তার ঢালীর হত্যায় জড়িত থাকতে পারে
- 📌 জয় ঢালীর হত্যা মামলায় ১৩ জন আসামি জামিনে বেরিয়ে আসার পর স্বজনরা আর মামলা করতে চান না
- 📌 আক্তার ঢালীর স্ত্রী নাসিমা বেগম বলেন, ‘আল্লাহ আমারে কী দৃশ্য দেখাল। ছেলে গেল, এবার ওর বাবাও গেল…’
- 📌 পুলিশ সুপার বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ‘বি কোম্পানির’ সদস্যরা জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
খুলনার রূপসায় উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের দুর্জনীমহল গ্রামে আক্তার ঢালীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তার ছেলে জয় ঢালীকে গত ১৫ আগস্ট কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়েছিল। স্বজনরা মনে করেন, এই দুটি হত্যার মধ্যে সম্ভাব্য যোগসূত্র রয়েছে। আক্তার ঢালীর পাঁচজন স্বজন জানান, তারা মনে করেন ‘বি কোম্পানি’ নামের একটি পরিচিত গোষ্ঠীর লোকজন আক্তার ঢালীর হত্যায় জড়িত থাকতে পারে। তবে তারা আর মামলা করতে চান না। আক্তার ঢালীর ভাতিজা লিটু ঢালী বলেন, ‘আমরা আর মামলা করতে চাই না। ভাইয়ের হত্যা মামলায় আসামি ধরা পড়ে আবার জামিনে বেরিয়ে আসে। আমরা আর ঝামেলায় যেতে চাই না। যা পারে এবার পুলিশ করবে, আমরা মামলা করব না।’
জয় ঢালীর হত্যা মামলায় নাসিমা বেগম বাদী হয়ে ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় গ্রেপ্তার আসামিরা জামিনে বের হয়ে এসেছেন। খুলনার পুলিশ সুপার (এসপি) সরকার ওমর ফারুক জানান, জয় ঢালীর হত্যা মামলার আসামি, জামিনে থাকা ব্যক্তিরা এবং হুমকির বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আগের হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র আছে বলে আমরা মনে করছি। প্রাথমিক তদন্তে বি কোম্পানির সদস্যরা জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।’
আক্তার ঢালীর স্ত্রী নাসিমা বেগম বলেন, ‘আমি কী করব, কী করার আছে আমার। আল্লাহ আমারে কী দৃশ্য দেখাল। কোনো সময় লাগছে না। এক-দুই মিনিটের মধ্যে সব ক্লিয়ার করে দিচ্ছে। ছেলে গেল, এবার ওর বাবাও গেল…’ তিনি জানান, আক্তার ঢালী সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে সেনের বাজার বাসস্ট্যান্ডে কাজ করতে যান। বেলা আড়াইটার দিকে বাড়িতে ফিরে আসেন। গতকালও তিনি রাস্তার পাশে রাখা কাঠের বেঞ্চে বসে ছিলেন।
একজন বয়স্ক প্রতিবেশী বলেন, ‘তখন মাগরিবের নামাজ পড়ে কেউ বের হয়েছে, কেউ হয়নি। নামাজ শেষে আমি ডাক্তারের কাছে যাচ্ছিলাম। এমন সময় দেখি, চার-পাঁচটা মোটরসাইকেল, প্রতিটায় দু-তিনজন করে মানুষ। কারও হেলমেট পরা, কারও হেলমেট নেই। একটু পরেই গুলির শব্দ শুনতে পাই। এরপর চিৎকার-চেঁচামেচি। আসলে এখন যা হচ্ছে, এসব মানা যায় না।’
"আমরা আর মামলা করতে চাই না। যা পারে এবার পুলিশ করবে, আমরা মামলা করব না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খুলনার রূপসায় উপজেলা, দুর্জনীমহল গ্রাম, আইচগাতি ইউনিয়ন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আক্তার ঢালী, নাসিমা বেগম, লিটু ঢালী, পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০০ গজ (আক্তার ঢালীর বাড়ি থেকে জয় ঢালীর বাড়ির দূরত্ব), ১৫ আগস্ট (জয় ঢালীর হত্যা), ১৩ জন (মামলায় আসামি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!