📌 খুলনা শহরে চাঁদা দাবিতে ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকগুলোতে একের পর এক হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে। ভুক্তভোগীরা মামলা করছেন না বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছেন না। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন
খুলনা শহরে চাঁদা দাবিতে ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকগুলোতে একের পর এক হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অকার্যকরতা ও ভুক্তভোগীদের নীরবতার কারণে সন্ত্রাসীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 খুলনা শহরে চাঁদা দাবিতে ১২ দিন ধরে চয়নিকা ফার্মেসি বন্ধ রয়েছে। মালিক ভয়ে ব্যবসা চালাতে পারছেন না এবং মামলাও করেননি।
- 📌 ২৪ অক্টোবর রাতে বাবু খান রোডের সন্ধানী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলায় দুই চিকিৎসকের কক্ষ ও টেলিভিশন ভাঙচুর করা হয় এবং গুলিও করা হয়।
- 📌 ৩ নভেম্বর শামসুর রহমান রোডের আব্দুল্লাহ প্যাথলজিতে হামলাকারীরা ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
- 📌 খানজাহান আলী রোডের অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলায় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়া সন্ত্রাসী ব্যবস্থাপককে হুমকি দেন।
- 📌 খুলনা সদর থানার ওসি মো. লোকমান হোসেন জানান, ভুক্তভোগীরা মামলা করছেন না এবং পুলিশের সহযোগিতা নেই।
- 📌 আইনজীবী বাবুল হাওলাদার বলেন, গত কয়েক মাসে চাঁদাবাজি ও অপরাধের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। প্রশাসন ও সরকার উদাসীনতার কারণে সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
- 📌 রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমস্যা সমাধান করবেন না, তাহলে তারা আত্মসমর্পণ করবেন। কোনো বিকল্প নেই।’
📰 বিস্তারিত
খুলনা শহরে চাঁদা দাবিতে ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকগুলোতে একের পর এক হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগীরা মামলা করছেন না বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছেন না। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
২৪ অক্টোবর রাতে বাবু খান রোডের সন্ধানী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়। তারা দুই চিকিৎসকের কক্ষ, কাউন্টার ও একটি টেলিভিশন ভাঙচুর করে এবং গুলিও করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরদিন দুপুরে একই মালিকের অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র মহড়া দেয় দুর্বৃত্তরা। সেখানে উপস্থিত এক চিকিৎসকের ঘাড়ে পিস্তল ঠেকিয়ে হুমকি দেওয়া হয়। এই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে থানায় কোন অভিযোগ করা হয়নি।
৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় শামসুর রহমান রোডের আব্দুল্লাহ প্যাথলজি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এই ঘটনায়ও মামলা করা হয়নি। এর চার দিন পর শনিবার দুপুরে খানজাহান আলী রোডের অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে হামলা হয়। প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। সন্ত্রাসী বাহিনীর এক সদস্য ব্যবস্থাপককে হুমকি দেন বলে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লোকমান হোসেন জানান, ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে হামলার ঘটনায় কেউ কোন অভিযোগ করেনি। সন্ধানীর ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে এবং দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খানজাহান আলী রোডের অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলার ঘটনায়ও কর্তৃপক্ষ থানায় কোন অভিযোগ করেনি। তিনি বলেন, হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তারা সম্প্রতি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে নগরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন।
"এখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যে কর্মকর্তারা আছেন, হয় তাঁরা এ সমস্যার সমাধান করবেন, না হয় তাঁরা আত্মসমর্পণ করে চলে যাবেন। এর কোনো বিকল্প নেই।"
আইনজীবী বাবুল হাওলাদার বলেন, ‘খুলনার বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে চাঁদাবাজি, হামলা ও ভাঙচুর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত কয়েক মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বহিঃপ্রকাশ। সন্ত্রাস ও অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়া, দ্রুত জামিন পেয়ে এই সন্ত্রাসী চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খুলনা শহর (বাবু খান রোড, শামসুর রহমান রোড, খানজাহান আলী রোড, টুটপাড়া সেন্ট্রাল রোড)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রকিবুল ইসলাম বকুল, মো. লোকমান হোসেন (ওসি), বাবুল হাওলাদার, দুর্বৃত্তরা, চিকিৎসকরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ দিন, ২৪ অক্টোবর, ১০ কোটি টাকা, ৩ নভেম্বর, ৫ লাখ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!