📌 খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার যুবদল নেতা বাহাদুর মুন্সী জমি দখল, সরকারি খাল দখল, চাঁদাবাজি ও বালুমহাল দখল করে কোটিপতি হয়ে উঠেছেন। স্থানীয়রা তাঁর বিরুদ্ধে দখলদারিত্ব ও অপকর্মের অভিযোগ তুলেছেন। বাহাদুর নিজে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার যুবদল নেতা বাহাদুর মুন্সী জমি দখল, চাঁদাবাজি, বালুমহাল দখলসহ নানা অপকর্মের অভিযোগে এলাকাবাসীর মধ্যে বিব্রততা সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা দাবি, বাহাদুরের পেশাশক্তি ও অর্থের জোরে তিনি উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব পদ লাভ করেছেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে দখলদারিত্বের অভিযোগে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বটিয়াঘাটা উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব বাহাদুর মুন্সী জমি দখল, চাঁদাবাজি ও বালুমহাল দখলসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত থাকার অভিযোগে এলাকাবাসীর মধ্যে বিব্রততা সৃষ্টি করেছে।
- 📌 নাছিমা হাসান দাবি, তাঁর স্বামী ইমাম হাসান বাচ্চু ২০১৫ সালের ৮ মার্চ কিনে নেওয়া ১৪ শতক জমি বাহাদুর জাল দলিল করে দখল করেছেন।
- 📌 বাহাদুর ৫ অক্টোবর জমি দখল করে নেওয়ার পর নাছিমা হাসান ও পরিবারকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন।
- 📌 বাহাদুরের পৈতৃক সম্পত্তিতে দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়া দোকানগুলো তিনি নিজের বলে দাবি করেছেন।
- 📌 বাহাদুরের ভাই বাদশা স্কুলের পাশে দোকানঘর দখল করে ব্যবসা করছেন।
- 📌 বাহাদুরের বিরুদ্ধে ২৫ শতক জমি দখলসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
- 📌 পুলিশ সুপার ওমর ফারুক জানান, বটিয়াঘাটাসহ চার উপজেলায় বিশেষ অভিযান চলছে।
- 📌 খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান বলেছেন, দখলদারদের অবস্থান তাঁর কাছে নেই।
📰 বিস্তারিত
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার যুবদল নেতা বাহাদুর মুন্সী জমি দখল, চাঁদাবাজি ও বালুমহাল দখলসহ নানা অপকর্মের অভিযোগে এলাকাবাসীর মধ্যে বিব্রততা সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা দাবি, বাহাদুরের পেশাশক্তি ও অর্থের জোরে তিনি উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব পদ লাভ করেছেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে দখলদারিত্বের অভিযোগে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ।
বিব্রত স্থানীয় যুবদলের মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীরা জানান, বাহাদুরের অপকর্মের কারণে দল বিব্রত। স্থানীয় বাসিন্দা নাছিমা হাসান দাবি, তাঁর স্বামী ইমাম হাসান বাচ্চু ২০১৫ সালের ৮ মার্চ বটিয়াঘাটার রাঙ্গেমারী গ্রামে ১৪ শতক জমি কিনে বাউন্ডারি ওয়াল ও আরসিসি ঢালাই দিয়ে দোকান নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাহাদুর জাল দলিল করে জমিটির একাংশ দখলের চেষ্টা শুরু করেন।
নাছিমা হাসান বলেন, ‘বেশ কয়েকবার চেষ্টার পর ৫ অক্টোবর ওই জমি দখল করেন বাহাদুর। এ ঘটনায় তিনি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অগ্রক্রয় মামলা করেন। আদালত শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দিলে তা না মেনে ১৩ অক্টোবর আমাকে ও আমার পরিবারকে হত্যার হুমকি দেন। পরে ওই দিন অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনজনকে আসামি করে মামলা করলেও এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
বটিয়াঘাটার সাচিবুনিয়া এলাকার বিভাস গোলদার অভিযোগ করেন, ‘চক্রাখালী বাজারে তাঁর পৈতৃক সম্পত্তিতে দোকান নির্মাণ করে বাহাদুর ভাড়া দেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাহাদুর ব্যক্তিগত অফিসের জন্য একটি দোকান ভাড়া নেন। এর কয়েক মাস পর বাহাদুর বলেন, “এই দোকানগুলো তাঁর নিজের, তাঁর দলিল আছে।”’ বিভাস গোলদার বলেন, ‘আমি হিন্দু মানুষ, কোনো ঝামেলায় যেতে চাই না। এ কারণে মামলা-মোকদ্দমায় যাইনি।’
আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে চক্রাখালী বাজারে আকরাম নামের একজনের সাতটি দোকান দখল করেছেন বাহাদুর। তেঁতুলতলা এলাকার মরিয়মের ২৫ শতক জমি দখল করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ছয়ঘড়িয়া এলাকায় স্কুলের পাশে একটি দোকানঘর দখলে নিয়ে সেখানে ব্যবসা করছেন বাহাদুরের ভাই বাদশা। এরই পাশে হিন্দুদের জমি দখল করে ভ্যান গ্যারেজ, দোকানঘর ও ফাঁকা জমিতে প্লট করেছেন এই যুবদল নেতা।
বাহাদুর মুন্সী নিজে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘জমির কাগজপত্র সব ঠিক আছে। তাই আমি কিনেছি ও দখল বুঝে নিছি।’ আদালতের নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটারও তদন্ত চলছে। কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। আমি সঠিকভাবে কাজ করেছি। আমি কোনো আইন ভঙ্গ করি নাই।’ এছাড়া চাঁদাবাজি, বালুমহাল দখলসহ নানা অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘দলের সুবিধাভোগীরা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’
পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক জানান, ‘বটিয়াঘাটাসহ চার উপজেলায় বিশেষ অভিযান চলছে। অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না। তবে জমি বা দখলসংক্রান্ত অনেক অভিযোগ আমাদের কাছে আসে। সে কারণে কারও বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়েই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বাহাদুর মুন্সীর অপকর্মের অভিযোগ নজরে আনলে খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আমীর এজাজ খান বলেন, ‘দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি দখল, চাঁদাবাজি ইত্যাদি অপকর্ম করে, তার দায় দল নেবে না। আমার দীর্ঘদিনের রাজনীতিতে এলাকায় পরিচ্ছন্ন ইমেজ রয়েছে। কোনো ভূমিদস্যু বা দুষ্কৃতকারীর কারণে এই ইমেজ নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। দখলদারদের অবস্থান আমার কাছে নেই।’
"এই দোকানগুলো তাঁর নিজের, তাঁর দলিল আছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খুলনা, বটিয়াঘাটা উপজেলা, বটিয়াঘাটার রাঙ্গেমারী গ্রাম, বটিয়াঘাটার সাচিবুনিয়া, চক্রাখালী বাজার, তেঁতুলতলা, ছয়ঘড়িয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বাহাদুর মুন্সী, নাছিমা হাসান, বিভাস গোলদার, ইমাম হাসান বাচ্চু, আমীর এজাজ খান, সরকার ওমর ফারুক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ মার্চ (২০১৫), ১৪ শতক জমি, ৫ আগস্ট (২০২৪), ৫ অক্টোবর, ১৩ অক্টোবর, ২৫ শতক জমি, ১ আসন (খুলনা-১)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!