📌 খুলনার ভৈরব নদের তীরে অবস্থিত বড় বাজার আড়াই শত বছরের ঐতিহ্যের সাথে জড়িত। ব্রিটিশ আমলে নীলকর চার্লি সাহেবের ব্যবসায়িক কার্যক্রম থেকে শুরু হয়ে এখন এটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বৃহত্তম বাণিজ্য কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বাজারে ফল, মাছ, মাংস, কাপড়, প্রসাধনী থেকে শুরু করে সব ধরনের পণ্য পাওয়া যায়
খুলনার ভৈরব নদের পূর্ব পাড়ে অবস্থিত বড় বাজার আড়াই শত বছরের ঐতিহাসিক বাণিজ্য কেন্দ্র। এই বাজারটি ব্রিটিশ আমলের নীলকর চার্লি সাহেবের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সূচনায় গড়ে উঠেছে। আজ এটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, যেখানে ফলপট্টি থেকে শুরু করে মাছ, মাংস, কাপড়, প্রসাধনী এবং মুদি সবকিছু পাওয়া যায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **ব্রিটিশ আমলের নীলকর চার্লি সাহেবের ব্যবসায়িক কার্যক্রম** থেকে শুরু হয়ে আড়াই শত বছরের ঐতিহ্যের সাথে জড়িত বড় বাজার।
- 📌 **১৭৮৬ সালে নীলকর চার্লি সাহেবের নীলকুঠি নির্মাণ** করে বাণিজ্যের সূচনা, যা পরবর্তীতে চার্লিগঞ্জ নামে পরিচিত হয়।
- 📌 **১৮৮২ সালে খুলনা জেলা ঘোষণার পর** ক্লে রোডের নামানুসারে বাজারের অবস্থান পরিবর্তিত হয়, যা আজও বাজারের প্রধান রাস্তা।
- 📌 **বাজারটি রাত ৯-১০টার পরেও খোলা থাকে**, বিশেষত ঈদ ও পূজার সময় গভীর রাতে পর্যন্ত বেচাকেনা চলতে থাকে।
- 📌 **বরিশাল, যশোর, রাজশাহী, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা এসে জড়ো হয়** এই বাজারে।
📰 বিস্তারিত
সকালের সূর্য উঠার সাথে সাথে খুলনার ভৈরব নদের পূর্ব পাড়ের বড় বাজার জীবন দিয়ে ওঠে। ডাকবাংলোর মোড় থেকে ক্লে রোড ধরে গেলে প্রথমে চোখে পড়ে ফলপট্টিগুলো, যা স্থানীয়ভাবে ‘ফলপট্টি’ নামে পরিচিত। এখান থেকে অলিগলির পথ ধরে গেলে বোঝা যায়, এই বাজারটি আড়াই শত বছরের ঐতিহ্যের অধিকারী। ফলপট্টি ও মাছের আড়তের পাশাপাশি সবজি, মাংস ও মসলাপট্টির দোকানগুলো দিনের আলোতে খোলা থাকে।
ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে ১৭৮৬ সালে নীলকর চার্লি সাহেব খুলনা অঞ্চলে প্রথম নীলকুঠি নির্মাণ করেন। সেই সময়ে ভৈরব নদের তীরে লবণের বাণিজ্য হতো। চার্লি সাহেবের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ফলে ধীরে ধীরে চার্লিগঞ্জ নামে পরিচিত এলাকায় হাট গড়ে ওঠে। সেই হাটের নাম ছিল ‘চার্লির হাট’ ও ‘সাহেবের হাট’। সেই নীলকুঠির ধ্বংসাবশেষ এখনও বড় বাজারের পাশে দাঁড়িয়ে আছে, যা স্থানীয়রা ‘ভূতের বাড়ি’ বলে ডাকেন।
১৮৪২ সালে ব্রিটিশ সরকার খুলনা মহকুমা হিসেবে ঘোষণা দেয়ার পর, বাজারটি প্রশাসনিক গুরুত্ব লাভ করে। সেই সময়ে বাজারের নাম হয় ‘সাহেবের বাজার’। পরবর্তীতে এটি ‘বড় বাজার’ নামে পরিচিতি লাভ করে। ১৮৮২ সালে খুলনা জেলা ঘোষণার পর, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ডব্লিউ এম ক্লের নামানুসারে ডাকবাংলোর মোড় থেকে ডেল্টা ঘাট পর্যন্ত রাস্তার নাম হয় ‘ক্লে রোড’। সেই ক্লে রোডের দুই পাশেই আজও ফলপট্টির দোকানগুলো অবস্থিত।
"বরিশাল, যশোর, রাজশাহী, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা এসে জড়ো হয় এই বাজারে। যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতির কারণে এটি বড় বাণিজ্য কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভৈরব নদের পূর্ব পাড়, খুলনা
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: নীলকর চার্লি সাহেব, ব্রিটিশ কর্মকর্তা ডব্লিউ এম ক্লে
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭৮৬ (বছর), ১৮৮২ (বছর), ৯-১০ (টাকা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!