📌 কাপ্তাই উপজেলায় বন্যহাতির আক্রমণে নিহত মংখ্যাইচিং মারমার পরিবারকে বন বিভাগ ৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। ঘটনার ছয় মাস পর অনুষ্ঠানে স্ত্রী সানুই মারমা চেক গ্রহণ করেন। বন বিভাগের কর্মকর্তারা সতর্কতা জ্ঞাপন করেছেন
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় বন্যহাতির আক্রমণে নিহত মংখ্যাইচিং মারমার পরিবারকে বন বিভাগ ৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করেছে। ঘটনার প্রায় ছয় মাস পর রোববার (১৮ অক্টোবর) অনুষ্ঠানে নিহতের স্ত্রী সানুই মারমা চেক গ্রহণ করেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের কর্মকর্তারা এই চেক হস্তান্তর করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পেলেন নিহত মংখ্যাইচিং মারমার স্ত্রী সানুই মারমা
- 📌 ১২ এপ্রিল রাতে কাপ্তাই উপজেলার দুর্গম এলাকায় বন্যহাতির আক্রমণে মংখ্যাইচিং মারমা (৫০) নিহত হন
- 📌 ৫০ হাজার টাকা বসতবাড়ির ক্ষতির জন্য, ১ লাখ টাকা আহতের জন্য, ৩ লাখ টাকা মৃত্যুর জন্য ক্ষতিপূরণের বিধান রয়েছে
- 📌 কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হানুল ইসলাম বলেন, বন্যহাতির আক্রমণে মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক
- 📌 কর্নফুলী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ফজলে রাব্বী সরকার সতর্কতা জ্ঞাপন করেন: বনাঞ্চলে হাতির ওপর আক্রমণ নিষিদ্ধ
📰 বিস্তারিত
কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের হলরুম কিন্নরীতে অনুষ্ঠিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে বন বিভাগের পক্ষ থেকে নিহতের স্ত্রী সানুই মারমা হাতে ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রায়হানুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন, কর্ণফুলী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ফজলে রাব্বী সরকার, কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. এনামুল হক হাজারীসহ বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
ইউএনও মো. রায়হানুল ইসলাম বলেন, “বন্যহাতির আক্রমণে একজন মানুষের প্রাণহানি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। নিহতের পরিবারের এই ক্ষতি পূরণ হওয়ার নয়। তবে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে ক্ষতিপূরণের চেক দেওয়া হয়েছে। বন্যপ্রাণী ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।”
নিহত মংখ্যাইচিং মারমা (৫০) স্থানীয়ভাবে ‘মাস্টার’ নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি কাপ্তাই উপজেলার ৩ নম্বর চিৎমরম ইউনিয়নের চিৎমরম বড়পাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। গত ১২ এপ্রিল রাতে উপজেলার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গম চাকুয়া পাড়া এলাকায় বন্যহাতির আক্রমণে তাঁর মৃত্যু হয়।
কর্নফুলী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ফজলে রাব্বী সরকার বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বনাঞ্চলের বন্যপ্রাণী, বিশেষ করে হাতির ওপর যেন কেউ আক্রমণ না করেন, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি জানান, বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বন্যহাতির আক্রমণে বসতবাড়ির ক্ষতি হলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা, কেউ আহত হলে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা এবং কেউ নিহত হলে ৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রয়েছে।
কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, “কোথাও বন্যহাতি দেখা গেলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত বন বিভাগকে জানাতে হবে। এতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।
"আমার স্বামীকে হারিয়ে আমরা খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। এই টাকা আমাদের শোক ভুলিয়ে দিতে পারবে না, তবে দুঃসময়ে কিছুটা সহায়তা হলো।"
— নিহতের স্ত্রী সানুই মারমা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কাপ্তাই উপজেলা, রাঙামাটি, পার্বত্য চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সানুই মারমা (নিহতের স্ত্রী), মো. রায়হানুল ইসলাম (ইউএনও), মো. ফজলে রাব্বী সরকার (কর্নফুলী রেঞ্জ কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ লাখ টাকা (ক্ষতিপূরণ), ৫০ হাজার টাকা (বসতবাড়ির ক্ষতির জন্য), ১ লাখ টাকা (আহতের জন্য), ৫০ বছর (মংখ্যাইচিং মারমার বয়স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!