📌 দুই পা অচল কামাল হোসেন (৪২) কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে গাছ ছাঁটাই করে সাত সদস্যের সংসার চালাচ্ছেন। বাবা হেকিম খানের (বয়স্ক) ও মা নূরজাহান বেগমের (মৃত) অভাবের মুখোমুখি হয়ে ১২ বছর বয়স থেকে এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজ শুরু করেন তিনি। বৃষ্টি ছাড়া মাসে ১৫ হাজার টাকা আয় করে সংসার টেনে চলেছেন
দুই পা অচল হওয়া সত্ত্বেও প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে লিপ্ত থাকেন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর বাসিন্দা কামাল হোসেন। ৪২ বছর বয়সী এই ব্যক্তি ১২ বছর বয়স থেকে গাছের ডালপালা ছাঁটাই করে সাত সদস্যের সংসার চালাচ্ছেন। বাবা হেকিম খান (বয়স্ক) ও মা নূরজাহান বেগমের (মৃত) অভাবের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই কাজ শুরু করেছিলেন। বর্তমানে বাবা হেকিম খান বার্ধক্যের কারণে চলাফেরা করতে পারেন না এবং হৃদ্রোগ ও শ্বাসকষ্টে ভুগছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **কামাল হোসেন (৪২)** কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে গাছ ছাঁটাই করে মাসে ১৫ হাজার টাকা আয় করেন, যা সাত সদস্যের সংসার চালায়
- 📌 **১২ বছর বয়স থেকে** এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজ শুরু করেন তিনি, কারণ গ্রামে ভারী কাজে দুই পা অচল হওয়ায় অংশ নিতে পারতেন না
- 📌 **প্রথমে হস্তচালিত রিকশা** দিয়ে কাজ করতেন, বর্তমানে **প্রবাসী দানকৃত ব্যাটারি ভ্যানে** কাজ করেন
- 📌 **বৃষ্টি ছাড়া মাসে ১৫ হাজার টাকা** আয় হয়, বর্ষায় আয় কমে ৩-৪ হাজার টাকা পর্যন্ত
- 📌 **বাবা হেকিম খান** বলেন, ‘ছেলেকে বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াতে হবে’ এমন ধারণা ভুল প্রমাণ করেছে কামাল
📰 বিস্তারিত
কামাল হোসেনের সংসার কেবল তার নিজের উপর নির্ভরশীল নয়, বরং তার বাবা হেকিম খানেরও জীবনযাত্রার উপরও। বয়স্ক হেকিম খান চলাফেরা করতে পারেন না এবং হৃদ্রোগ ও শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। কামালের মা নূরজাহান বেগম পাঁচ বছর আগে মৃত্যুবরণ করেছেন। কামালের বাবা কৃষিকাজ করতেন, কিন্তু অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষ করতেন। চার সন্তানের মধ্যে কামাল একমাত্র ছেলে এবং সবার ছোট। তিনি জানান, ছোটবেলায় সংসারের অভাব দেখেছেন। তাই তিনি ১২ বছর বয়স থেকে গাছ ছাঁটাইয়ের কাজ শুরু করেন।
কামালের কাজের শুরু ছিল গ্রামের গাছ ছাঁটাই থেকে। পরে পাকুন্দিয়া উপজেলার বুরুদিয়া, সালুয়াদি ও আহুতিয়া গ্রামেও কাজ করতে যেতেন। শুরুতে তিনি হস্তচালিত রিকশা দিয়ে কাজ করতেন, বর্তমানে এলাকার এক প্রবাসী দানকৃত ব্যাটারি ভ্যানে কাজ করেন। তিনি বলেন, বড় গাছ ছাঁটাই করতে প্রায় দুই ঘণ্টা লাগে, ছোট গাছে এক ঘণ্টা। বড় গাছ ছাঁটাই করে পান ৫০০ টাকা, ছোট গাছে ৩০০ টাকা। বয়স বাড়ায় এখন সর্বোচ্চ দুটি গাছ করতে পারেন। তবে প্রতিদিন কাজ থাকে না। বৃষ্টি হলে কাজ বন্ধ রাখতে হয়, কারণ গাছ পিচ্ছিল হয়ে যায়। শীতকালে কাজ তুলনামূলক বেশি থাকে, তখন মাসে প্রায় ১৫ হাজার টাকা আয় হয়। বর্ষায় আয় কমে তিন-চার হাজার টাকায় নেমে আসে।
কামালের স্ত্রী পারভিন আক্তার এবং চার সন্তানের মধ্যে বড় মেয়ে ময়না বেগমের বিয়ে হয়েছে, আরেক মেয়ে সাথী ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে, ছোট ছেলে তাফসির দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। বাবা হেকিম খানের চিকিৎসা, সন্তানদের পড়াশোনা এবং সংসারের খরচ চালাতে কামালকে প্রতিনিয়ত হিসাব করতে হয়। তার নিজের ঘরটি ১৮ ফুট লম্বা ও ১২ ফুট চওড়া টিনশেডের ভাঙাচোরা, যেখানে বৃষ্টি হলে পানি পড়ে। স্ত্রী পারভিন আক্তার বলেন, বৃষ্টি এলে তাঁদের অনেক কষ্ট হয়। স্বামীর আয় ওঠানামা করায় সংসার চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়।
"দুই পা কেন, দুই হাত অচল হলেও আমি কাজ করে খাওয়ার চেষ্টা করুম।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী, মসূয়া ইউনিয়ন, খানবাড়ি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কামাল হোসেন (৪২), হেকিম খান (বাবা), পারভিন আক্তার (স্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ বছর (কাজ শুরু), ৪২ বছর (বয়স), ৫০০ টাকা (বড় গাছ ছাঁটাইয়ের আয়), ১৫ হাজার টাকা (মাসিক আয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!