📌 ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর শহরের রাধানগরে ৩২ বছর ধরে সেলাই মেশিন মেরামত করে জীবিকা নির্বাহ করছেন মো. কবির হোসেন। স্থানীয় দর্জি ও পরিবারগুলোর জন্য নষ্ট মেশিন মেরামত করে তিনি তাদের জীবিকা রক্ষা করছেন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর শহরের রাধানগরে একটি ছোট্ট মেরামত দোকানে সকাল থেকে ভিড় জমে আছে। সেখানে ৩২ বছর ধরে সেলাই মেশিন মেরামত করে জীবিকা নির্বাহ করছেন মো. কবির হোসেন বেপারী। তার দোকানে বহু বছরের পুরোনো মেশিন নিয়ে আসছেন দর্জি ও পরিবারবাসীরা। কারও মেশিনের চাকা ঘুরছে না, কারও সুতা বারবার ছিঁড়ে যাচ্ছে, আবার কারও মেশিনে সুই বা ববিনের সমস্যা। কবির হোসেন এই সমস্ত সমস্যা সমাধান করে মেশিনকে আবার সচল করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর শহরের রাধানগরে ৩২ বছর ধরে সেলাই মেশিন মেরামত করে জীবিকা নির্বাহ করছেন মো. কবির হোসেন বেপারী
- 📌 ঢাকায় তিন বছর কাজ করে সেলাই মেশিন মেরামতের দক্ষতা অর্জন করেন কবির হোসেন, পরে নিজ এলাকায় ফিরে দোকান খোলেন
- 📌 মাসে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা আয় হয় তার, তবে মেশিন মেরামতের কাজে তিনি মজুরি নেন
- 📌 স্থানীয় দর্জি ও পরিবারবাসীরা মেশিন নষ্ট হলে নতুন কেনার বদলে মেরামত করে ব্যবহার করেন
- 📌 কবিরের দোকানে নিয়ে আসা একটি মেশিন মেরামতের খরচ হয়েছিল ৬০০ টাকা
📰 বিস্তারিত
কবির হোসেনের দোকানটি রাধানগর এলাকায় ‘আল্লাহর দান’ নামে পরিচিত। তার বাড়ি কসবা উপজেলার নেমতাবাদ এলাকায়। স্ত্রী, তিন ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে তার পরিবার। জীবিকার তাগিদে প্রথমে দর্জির কাজ শেখার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যান তিনি। সেখানে একটি টেইলার্সে কাজ শেখার সময় তিনি লক্ষ্য করেন, সেলাই মেশিনে নানা ধরনের ত্রুটি দেখা দিলে সেগুলো ঠিক করতে কারিগরদের কাছে যেতে হয়। এতে তার আগ্রহ তৈরি হয় মেশিন মেরামতের কাজে। পরে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে ঢাকায় যান তিনি। সেখানে একটি সেলাই মেশিন মেরামতের দোকানে প্রায় তিন বছর কাজ করে হাতে-কলমে এ পেশার দক্ষতা অর্জন করেন। এরপর নিজ এলাকায় ফিরে এসে কাজ শুরু করেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় রাধানগরে দোকান ভাড়া নিয়ে গড়ে তোলেন নিজের কর্মস্থল।
কবির হোসেন বলেন, শুরুতে কাজটি সহজ ছিল না। সেলাই মেশিনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার পাশাপাশি হাতে-কলমে দীর্ঘ সময় কাজ শিখতে হয়েছে। ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজের পরিধিও বেড়েছে। এখন আখাউড়ার পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও মানুষ নষ্ট মেশিন মেরামতের জন্য তার কাছে নিয়ে আসেন। তিনি বলেন, আধুনিক সময়ে বাজারে বিভিন্ন ধরনের নতুন সেলাই মেশিন এলেও পুরোনো মেশিনের ব্যবহার এখনো রয়েছে। ফলে এসব মেশিন মেরামতের চাহিদাও আছে। কাজের ধরন অনুযায়ী মজুরি নেন তিনি।
দর্জি তাজু মিয়া বলেন, সেলাইয়ের কাজ অনেকটাই মেশিনের ওপর নির্ভরশীল। মেশিন নষ্ট হলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। নতুন মেশিন কেনা ব্যয়বহুল হওয়ায় মেরামত করেই কাজ চালিয়ে নিতে হয়। কবির হোসেন ভালো কারিগর হওয়ায় মেশিনে সমস্যা হলেই তিনি সেখানে নিয়ে যান। গৃহিণী আলেয়া বেগম জানান, প্রায় ১০ বছরের বেশি সময় ধরে বাড়িতে সেলাইয়ের কাজ করছেন তিনি। গ্রামে নারীদের পোশাক তৈরির কাজের চাহিদা রয়েছে। ঈদসহ বিভিন্ন উৎসব ও বিশেষ সময়ে কাজ আরও বেড়ে যায়। পুরোনো মেশিন দিয়েই তিনি কাজ চালিয়ে আসছিলেন। কয়েক দিন ধরে মেশিনটি নষ্ট থাকায় কাজ করতে পারছিলেন না। পরে কবিরের কাছে নিয়ে গেলে দ্রুত সমস্যার সমাধান করে দেন তিনি।
"অচল একটি মেশিন মেরামত করে যখন আবার মানুষের কাজে লাগাতে পারেন, তখন তার ভালো লাগে। এ কাজ থেকে মাসে খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা আয় হয়"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া পৌর শহর, রাধানগর এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. কবির হোসেন বেপারী, দর্জি তাজু মিয়া, আলেয়া বেগম, সেলিনা আক্তার, মার্জিয়া আক্তার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩২ বছর, ৩০-৩৫ হাজার টাকা, ১০ বছর, ৬০০ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!