📌 ঝিনাইদহে একটি নারীকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগে তার বাড়িতে ঢুকে চুল কেটে দেওয়া হয় এবং শরীরে মরিচের গুঁড়া মাখানো হয়। পাঁচজন আসামির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে, তাদের মধ্যে একজনকে বিএনপি নেতা বলে পরিচয় দিয়েছেন
ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ভুল অভিযোগে একটি নারীর (৪০) চুল কেটে দেওয়া এবং শরীরে মরিচের গুঁড়া মাখানো হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নারায়ণপুর গ্রামে। ভুক্তভোগী নারী রাতেই মামলা করেছেন এবং স্থানীয় পুলিশ অভিযান শুরু করেছে আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ভুল অভিযোগে নারীকে চুল কেটে দেওয়া এবং শরীরে মরিচের গুঁড়া মাখানো হয়েছে
- 📌 আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ছেলে পাঁচজন মিলে নারীর ওপর হামলা চালিয়েছে, তাদের সহযোগিতা করেছেন আবদুর রশিদ
- 📌 ভুক্তভোগী নারী বলেছেন, তাদের হিন্দু হওয়ায় বাড়ির ওপর এভাবে নির্যাতন করা হয়েছে
- 📌 নারীর ছেলে মারধর করা হয়, তিনি বলেছেন, মা ও তার ওপর সহযোগিতামূলকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে
- 📌 স্থানীয়রা জানান, আবদুর রশিদ নিজেকে বিএনপি নেতা বলে পরিচয় দেন, কিন্তু বিএনপির কর্মীরা তাঁর কোনো পদবি নেই বলে জানান
- 📌 ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ভুক্তভোগী পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন
📰 বিস্তারিত
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামে একটি নারীর (৪০) বাড়িতে ঢুকে চুল কেটে দেওয়া হয়। নারীর সারা শরীরে মরিচের গুঁড়া মাখিয়ে নির্যাতন করা হয়। ঘটনাটি ঘটে তার নিজ বাড়িতে। নারীর ছেলে ঘুম থেকে জেগে দেখেন পাঁচজন তাঁর মাকে মাটিতে ধরে রেখে চুল কেটে দিচ্ছে এবং গায়ে মরিচের গুঁড়া মাখাচ্ছে। ছেলে বাধা দিতে গেলে তাঁরও মারধর করা হয়। স্থানীয় পল্লিচিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নেওয়ার পর রাতেই ভুক্তভোগী সদর থানায় মামলা করেছেন।
ভুক্তভোগী নারী জানান, তাঁরা জমি বিক্রি করে বাড়িতে পাকা রান্নাঘর ও গোয়ালঘর বানাচ্ছিলেন। কিন্তু আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী তাঁদের হিন্দু হওয়ায় এবং বাড়ির কাজে তাঁর স্বামীর টাকার ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন। তাঁরা বলেন, ‘আমরা হিন্দু মানুষ বলে বাড়ির ওপর এসে এভাবে নির্যাতন করেছে’।
নারীর ছেলে বলেন, ‘মায়ের চিৎকার শুনে ঘর থেকে বের হয়ে দেখি কয়েকজন মিলে মাকে মাটিতে ধরে রেখে গায়ে মরিচের গুঁড়া মাখাচ্ছে। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকেও মারধর করে। আবদুর রশিদ উপস্থিত থেকে আমার মা ও আমাকে নির্যাতন করেছে’।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েরা মিলে ওই নারীর ওপর হামলা করেছে। নারীর হিন্দু সম্প্রদায়ের হওয়ায় এভাবে বাড়ির ওপর গিয়ে সবাই মিলে মারধর করেছে।
"আমরা জমি বিক্রি করে বাড়িতে পাকা রান্নাঘর ও গোয়ালঘর বানাচ্ছি। কিন্তু আনোয়ার হোসেনের স্ত্রীর অভিযোগ, তাঁর স্বামীর টাকায় আমরা এই কাজ করছি। আমরা হিন্দু মানুষ বলে বাড়ির ওপর এসে এভাবে নির্যাতন করেছে।"
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আবদুর রশিদ নিজেকে বিএনপি নেতা হিসেবে এলাকায় পরিচয় দেন। তবে বিএনপির নেতা-কর্মীরা বলছেন, তাঁর কোনো পদ-পদবি নেই। অভিযোগের বিষয়ে জানতে গেলে আবদুর রশিদের বাড়িতে গেলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা জানান, মামলা হওয়ার কথা শুনে মোবাইল বন্ধ করে গা ঢাকা দিয়েছেন তিনি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঝিনাইদহ সদর উপজেলা, নারায়ণপুর গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ভুক্তভোগী নারী (৪০), আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ছেলে, আবদুর রশিদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: পাঁচজন আসামি (আনোয়ার হোসেনের পরিবার + আবদুর রশিদ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!