📌 কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে নিখোঁজ থাকা ১৯ বছর বয়সী আরিফ মিয়া (সালমান) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটিত হয়। পাঁচ মাস পর নরসুন্ধা নদী থেকে উদ্ধার করা হয় তার ৭৭টি হাড়। চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ প্রাথমিক তদন্তের তথ্য প্রকাশ করেছে
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে পাঁচ মাস পর উদ্ঘাটিত হয় নিখোঁজ তরুণ আরিফ মিয়া (১৯) হত্যার রহস্য। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং নরসুন্ধা নদী থেকে উদ্ধার করা হয় তার ৭৭টি হাড়। আজ শনিবার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য প্রকাশ করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯ বছর বয়সী আরিফ মিয়া (সালমান) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটিত হয় পাঁচ মাস পর।
- 📌 নরসুন্ধা নদী থেকে উদ্ধার করা হয় তার ৭৭টি হাড়, যার মধ্যে রয়েছে মাথার খুলি ও বুকের পাঁজর।
- 📌 গ্রেপ্তার চারজন: সাকিব মিয়া, মো. মাফি, রফিক মিয়া ও রমজান মিয়া।
- 📌 ১৮ মে সন্ধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে বের হন আরিফ, পরে তার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
- 📌 হত্যার পর মরদেহ নদীর কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।
- 📌 আরিফের বাবা ফজলুর রহমান হত্যা মামলা করেন এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
📰 বিস্তারিত
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, গত ১৮ মে সন্ধ্যায় আরিফ মিয়া বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে বাড়ি থেকে ইলিম বাজারের উদ্দেশ্যে বের হন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে পরদিন হোসেনপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির তদন্তে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের হস্তক্ষেপ হয়। প্রযুক্তির সহায়তায় আরিফ ও তাঁর বন্ধুদের মুঠোফোনের কথোপকথন ও গতিবিধি বিশ্লেষণ করে তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়।
দীর্ঘ পাঁচ মাসেও আরিফের সন্ধান না পেয়ে গতকাল শুক্রবার সকালে হোসেনপুর থানায় তার বাবা ফজলুর রহমান হত্যা মামলা করেন। মামলার পর ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল পাকুন্দিয়ার বিশ্বনাথপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ সুপার জানান, স্থানীয়ভাবে তৈরি মাদক সেবনের সময় আরিফের সঙ্গে তাঁর সহযোগীদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আরিফ বাঁশ দিয়ে মাফিকে আঘাত করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অন্যরা বাঁশ কেড়ে নিয়ে আরিফকে বেদম পিটিয়ে হত্যা করেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। পরে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে নরসুন্ধা নদীর কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।
পুলিশ সুপার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যার পর মরদেহ নরসুন্ধা নদীর কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করেন। পরে তাঁদের দেখানো স্থানে অভিযান চালিয়ে নিহত আরিফের গেঞ্জি, মাথার খুলি, বুকের পাঁজরসহ শরীরের বিভিন্ন অংশের ৭৭টি হাড় উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা হাড়ের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এছাড়া গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
"দীর্ঘ পাঁচ মাস তিনি তাঁর সন্তানকে খুঁজে পাচ্ছেন না। তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি তাঁর ছেলে হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হোসেনপুর, কিশোরগঞ্জ; নরসুন্ধা নদী, কচুরিপানার নিচ; পাকুন্দিয়ার বিশ্বনাথপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আরিফ মিয়া (১৯), ফজলুর রহমান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, সাকিব মিয়া, মো. মাফি, রফিক মিয়া, রমজান মিয়া
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৭টি হাড়, ১৯ বছর বয়স, ১৮ মে, ১২ টা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!