📌 সুনামগঞ্জের হাওরপার থেকে স্কুলে যাওয়ার পথে ঝড়বৃষ্টি, নৌকা ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি ও দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে শিক্ষক আরিফা আক্তার দৈনিক শিশুদের পাঠদান করেন। বর্ষায় নৌকায় পাড়ি দেওয়া, শুকনা মৌসুমে হাঁটতে হাঁটতে সাত কিলোমিটার পথ
সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলের দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার কষ্টের গল্প শোনান শিক্ষক আরিফা আক্তার। তিনি বলেন, ‘দিন শুরু হয় ফজরের নামাজ দিয়ে। তারপর ঘরের কাজ, নাশতা ও দুপুরের খাবার তৈরি করতে হয়। সকাল সাতটার মধ্যে বাড়ি ছেড়ে মোটরসাইকেলে উপজেলা সদরের নৌকাঘাটে যাই। সেখান থেকে নৌকায় হাওর পাড়ি দিয়ে স্কুলে পৌঁছাতে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। পুরো দিন কাটে শিশুদের সঙ্গে। দিন শেষে ক্লান্তি নিয়ে ফিরি।’
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বালিজুরী গ্রামের শিক্ষক আরিফা আক্তার দৈনিক ৩০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে স্কুলে যান — বর্ষায় নৌকায়, শুকনা মৌসুমে হাঁটে সাত কিলোমিটার ধুলাভরা পথ
- 📌 বর্ষাকালে ঝড়ের কবলে পড়ার কারণে একবার নৌকা ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল; আরিফার ছাতা বাতাসে উড়ে গিয়েছিল
- 📌 শিক্ষক আরিফা আক্তার ও তার স্বামী হেলাল আবেদীন দুজনেই শিক্ষক; বাড়ি থেকে স্কুলের দূরত্ব ২২ কিলোমিটার — নৌকাঘাট থেকে ১৫ কিলোমিটার হাওর পাড়ি দিতে হয়
- 📌 শুকনা মৌসুমে হাওরে পানি না থাকায় মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক দিয়ে সাত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে হাঁটতে হয়; কিছু অংশে কোনো সড়ক নেই, শুধু আলপথ
- 📌 তিনটি স্কুলের শিক্ষক মিলে একটি নৌকা ভাড়া নিয়ে বর্ষায় স্কুলে যান; নৌকার নিয়মিত ব্যবস্থা নেই
📰 বিস্তারিত
সুনামগঞ্জের হাওরপার থেকে স্কুলে যাওয়ার পথে শিক্ষক আরিফা আক্তার ও তার স্বামী হেলাল আবেদীন প্রতিদিন কষ্টের গল্প শোনান। আরিফা আক্তার বলেন, ‘বর্ষায় হাওরের ঢেউ ভেঙে চলে নৌকা। ঝড়বৃষ্টি নিত্যসঙ্গী। একবার ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকা ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তুমুল ঝড়ে নৌকায় পানি উঠছিল। বাতাসে উড়ে গিয়েছিল ছাতা। চারপাশ ঝাপসা হয়ে উঠেছিল। একসময় ঝড় থামে, তখনই স্বস্তি আসে।’
শিক্ষক আরিফা আক্তারের স্কুলটি টাঙ্গুয়ার হাওরের পাড়ে মানিকখিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বাড়ি থেকে স্কুলের দূরত্ব ২২ কিলোমিটার। বর্ষায় নৌকায় পাড়ি দেওয়া হয়, শুকনা মৌসুমে হাওরে পানি না থাকায় মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক দিয়ে সাত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে হাঁটতে হয়। মাঝখানে দুই জায়গায় খেয়ানৌকায় দুটি নদী পার হতে হয়। তারপর ধুলাভরা পথে হেঁটে যাওয়া হয়। কিছু অংশে কোনো সড়ক নেই, শুধু সরু আলপথ। জুতা পায়ে নয়, বেশির ভাগ সময় হাতে নিয়েই চলতে হয়।
আরিফা আক্তার বলেন, ‘এখানে যাত্রীবাহী নৌকার নিয়মিত ব্যবস্থা নেই। আমরা তিনটি স্কুলের শিক্ষকেরা মিলে একটি নৌকা ভাড়া নিয়েছি। বর্ষায় সেটাতেই স্কুলে যাওয়া-আসা করি। আসলে বেশি দুর্ভোগ হয় শুকনা মৌসুমে। তখন হাওরে পানি থাকে না; মোটরসাইকেল ও ইজিবাইকে অনেকটা পথ পাড়ি দেওয়ার পরেও সাত কিলোমিটার হাঁটতে হয়।’
"এখানে যাত্রীবাহী নৌকার নিয়মিত ব্যবস্থা নেই। আমরা তিনটি স্কুলের শিক্ষকেরা মিলে একটি নৌকা ভাড়া নিয়েছি। বর্ষায় সেটাতেই স্কুলে যাওয়া-আসা করি। আসলে বেশি দুর্ভোগ হয় শুকনা মৌসুমে। তখন হাওরে পানি থাকে না; মোটরসাইকেল ও ইজিবাইকে অনেকটা পথ পাড়ি দেওয়ার পরেও সাত কিলোমিটার হাঁটতে হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা, বালিজুরী গ্রাম ও মানিকখিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আরিফা আক্তার (সহকারী শিক্ষক), হেলাল আবেদীন (শিক্ষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২ কিলোমিটার (বাড়ি থেকে স্কুলের দূরত্ব), ১৫ কিলোমিটার (নৌকাঘাট থেকে স্কুলের দূরত্ব), ৭ কিলোমিটার (শুকনা মৌসুমে হাঁটার দূরত্ব)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!