📌 ময়মনসিংহের গারো পাহাড়ে ভারতের মেঘালয় থেকে আসা ১৫০টি বন্যহাতি সীমান্তের বন্ধ গেটের কারণে মেঘালয়ে ফিরতে পারছে না। সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া খোলার অনুরোধে ভারত সাড়া দিচ্ছে না, ফলে হাতির খাদ্য সংকট, ফসল ধ্বংস ও মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব বাড়ছে। পরিবেশমন্ত্রী পরিদর্শনে যাচ্ছেন
ময়মনসিংহের গারো পাহাড়ে ভারতের মেঘালয় থেকে আসা ১৫০টি বন্যহাতি সীমান্তের বন্ধ গেটের কারণে মেঘালয়ে ফিরতে পারছে না। সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার গেটগুলো বন্ধ থাকায় হাতিগুলোর স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, যা খাদ্যসংকট সৃষ্টি করেছে এবং মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব বাড়িয়ে তুলেছে। এ পরিস্থিতিতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু শনিবার (১০ অক্টোবর) শেরপুরের বন্যহাতি অধ্যুষিত এলাকায় পরিদর্শনে যাচ্ছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১৫০টি বন্যহাতি** মেঘালয়ে ফিরতে পারছে না, গারো পাহাড়ে আটকা পড়েছে
- 📌 **সীমান্তের ৪৪টি গেট** বন্ধ থাকায় হাতির স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত
- 📌 **১২ হাজার হেক্টর বনাঞ্চলে** বর্তমানে ১৫০টি হাতি বিচরণ করছে, এর মধ্যে ২৫-৩০টি শাবক
- 📌 **২০২৪-২৬ অর্থবছরে** হাতির আক্রমণে ৪৩৫ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট, ১০ জন মানুষ ও ৪টি হাতি মারা গেছে
- 📌 **কৃষকদের অভিযোগ**: ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতা
📰 বিস্তারিত
ময়মনসিংহের শেরপুর ও জামালপুর সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আটকা পড়েছে প্রায় ১৫০টি বন্যহাতি। ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে আসা এসব হাতি গত দুই বছর ধরে নিজ আবাসস্থলে ফিরতে পারছে না। সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার গেটগুলো বন্ধ থাকায় হাতিগুলোর স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে খাদ্যসংকট সৃষ্টি হয়েছে এবং হাতির আক্রমণে ফসল ও ঘরবাড়ির ক্ষতির পাশাপাশি মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব বাড়ছে।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ায় থাকা ৪৪টি গেটগুলো খুলে দেওয়ার জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অনুরোধ করা হয়েছে। তবে সেসব অনুরোধে সাড়া মেলেনি। ফলে হাতিগুলো মেঘালয়ের বনাঞ্চলে ফিরতে না পেরে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থান করছে। ঢাকার কেন্দ্রীয় বনাঞ্চলের বন সংরক্ষক এএসএম জহির উদ্দিন আকন গণমাধ্যমকে বলেন, একসময় হাতিগুলো বছরে দুইবার বাংলাদেশে প্রবেশের পর আবার মেঘালয়ে ফিরে যেত। কিন্তু গত দুই বছরে তারা একবারও ফিরতে পারেনি।
২০০৭ সালে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ শেরপুর ও জামালপুর সীমান্তে প্রায় ৫০ কিলোমিটার কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করে। পরবর্তীতে হাতির পাল কয়েকবার বেড়া ভেঙে ফেলায় সেখানে ৪৪টি গেট স্থাপন করা হয়। এছাড়াও হাতির চলাচলের সুবিধার্থে নদী ও ছড়ার ওপর ১১টি আন্ডারপাস নির্মাণ করা হয়। তবে গত দুই বছর ধরে গেটগুলো বন্ধ রয়েছে। হাতিগুলো আন্ডারপাস দিয়ে ভারতে ফেরার চেষ্টা করলে বাধার মুখে পড়ে এবং তাড়িয়ে আবার বাংলাদেশে পাঠানো হয় বলে জানান বন কর্মকর্তা।
বন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে শেরপুর ও জামালপুরের প্রায় ১২ হাজার হেক্টর বনাঞ্চল ও আশপাশের এলাকায় ১৫০টি বন্যহাতি বিচরণ করছে। এসব হাতির মধ্যে ২৫ থেকে ৩০টি শাবক রয়েছে। খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে হাতি বনাঞ্চলে পর্যাপ্ত খাবার না থাকায় প্রায়ই খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে প্রবেশ করছে। বসতবাড়ি, ধানখেত ও সবজিক্ষেতে হানা দিয়ে নষ্ট করছে কৃষকের ফসল। হাতির আক্রমণ থেকে ফসল ও ঘরবাড়ি রক্ষা করতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে হাতির সংঘাত তৈরি হচ্ছে। এতে কখনো মানুষের, আবার কখনো হাতির প্রাণহানি ঘটছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, হাতির কারণে ফসলের ক্ষতি হলেও নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ পেতে দীর্ঘসূত্রতা ও নানা জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে। নালিতাবাড়ী উপজেলার দাওধারা গ্রামের কৃষক আব্দুল হালিম বলেন, গত বোরো মৌসুমে বন্যহাতি তাঁর জমির প্রায় ৪০ মণ পাকা ধান নষ্ট করেছে। তবে এখনো বন বিভাগ থেকে কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি তিনি। একই উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বুরুঙ্গা গ্রামের কৃষক এরশাদ আলম জানান, হাতির আক্রমণের আশঙ্কায় গত দুই বছর ধরে মধুটিলা বনাঞ্চলের কাছে তাঁর আড়াই একর জমিতে চাষাবাদ বন্ধ রেখেছেন।
"ফসলের খেতে ঢুকে পড়া হাতিগুলোকে প্রায়ই গ্রামবাসী তাড়া করেন। এ সময় তাড়া খেয়ে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার কাছে পৌঁছে আটকা পড়া হাতিগুলো আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠে। এতে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ে।"
গবেষক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এমএ আজিজ বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতকে যৌথভাবে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। হাতিগুলোর স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে সীমান্তের গেট খুলে দেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, বর্তমান অবস্থা হাতি সংরক্ষণ ও স্থানীয় মানুষের জীবিকা উভয় ক্ষেত্রেই উদ্বেগজনক।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শেরপুর ও জামালপুর সীমান্ত, গারো পাহাড়, ময়মনসিংহ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, বন সংরক্ষক এএসএম জহির উদ্দিন আকন, অধ্যাপক এমএ আজিজ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫০টি বন্যহাতি, ১২ হাজার হেক্টর বনাঞ্চল, ৪৪টি গেট, ১১টি আন্ডারপাস, ২৫-৩০টি শাবক, ৪৩৫ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!