📌 গাইবান্ধায় তিস্তা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর ভাঙনে ৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আরও ৬টি বিদ্যালয়ের ভবন ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে খোলা আকাশের নিচে এবং ছাপড়ার তলায়। স্থানীয়রা দাবি করছেন, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও স্থায়ী প্রতিরোধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
গাইবান্ধার তিস্তা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর তীব্র ভাঙনে আটটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়াও ছয়টি বিদ্যালয়ের ভবন ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে খোলা আকাশের নিচে এবং কিছু ক্ষেত্রে ছাপড়ার নিচে। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন চললেও স্থায়ী প্রতিরোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বসতভিটা, আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাইবান্ধায় তিস্তা-যমুনা-ব্রহ্মপুত্র নদীর ভাঙনে ৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে
- 📌 আরও ৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে
- 📌 শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে খোলা আকাশের নিচে এবং ছাপড়ার নিচে
- 📌 শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমেছে এবং দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে
- 📌 ভাঙন থেকে রক্ষা পায়নি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও — মাদ্রাসা ও মসজিদও নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে
- 📌 স্থানীয়রা দাবি করছেন, নদীভাঙনে কার্যকর কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি
📰 বিস্তারিত
গাইবান্ধার চরাঞ্চলে তিস্তা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর তীব্র ভাঙনে একের পর এক বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ইতিমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে আটটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এছাড়াও ছয়টি বিদ্যালয়ের ভবন ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে খোলা আকাশের নিচে এবং কিছু ক্ষেত্রে ছাপড়ার নিচে। এতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমেছে এবং তাদের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কিছুদিন আগেও যেখানে ছিল বিদ্যালয়ের ভবন, শ্রেণিকক্ষ, বেঞ্চ ও টেবিল, সেখানে এখন শুধু পানি আর পানি। শিক্ষার পরিবেশ না থাকায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমেছে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে উপস্থিতি কিছুটা বেশি হলেও প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে অবস্থা খুবই দুর্দশাগ্রস্ত।
ভোরের পাখি উপজেলার উত্তর খাটিয়ামারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ঈশা মনি বলেন, ‘গত বছর আমরা সুন্দরভাবে পড়াশোনা করতাম। কিন্তু এ বছর হঠাৎ নদীভাঙনে বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন পড়াশোনায় অনেক অসুবিধা হচ্ছে।’ আরেক শিক্ষার্থী নয়ন মিয়া বলেন, ‘স্কুলটি নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় আমরা আর মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে পারছি না। চোখের সামনে সবকিছু নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় আমরা যাব কোথায়?’
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের লাল চামার গ্রামের জনপদ ‘ভোরের পাখি’ নামের এলাকাটি একসময় শত শত পরিবারের বাসস্থান ছিল। এ বছর নদীভাঙনে এই জনপদটি হারিয়ে যেতে বসেছে। তিস্তার ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে দশটিরও বেশি বিদ্যালয় ও মাদ্রাসাসহ তিন শতাধিক পরিবারের বসতভিটা। হারিয়েছে শত শত বিঘা আবাদি জমি।
"নদী ভাঙতে ভাঙতে এলাকার কোনো চিহ্ন নেই। দ্রুত বাঁধ নির্মাণ না হলে মানচিত্র থেকে ভোরের পাখি এলাকার আশপাশও বিলীন হয়ে যাবে।" — সাইফুল মিয়া, ভোরের পাখি এলাকার বাসিন্দা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাইবান্ধা জেলা (ফুলছড়ি উপজেলা, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা, উত্তর খাটিয়ামারি)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ঈশা মনি, নয়ন মিয়া, সাইফুর রহমান (প্রধান শিক্ষক), সাইফুল মিয়া, লক্ষ্মণ কুমার দাশ (জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা), শরিফুল ইসলাম (গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন, ৬টি বিদ্যালয় ঝুঁকিতে, শত শত পরিবারের বসতভিটা হারানো
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!