📌 গাইবান্ধা সদর উপজেলায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থী সাইমুন ইসলাম সাইম (১১)কে অপহরণ করে নির্যাতন ও ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। দুজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়, শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়
গাইবান্ধা সদর উপজেলায় এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় পুলিশ দুজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাইবান্ধা সদর উপজেলায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থী সাইমুন ইসলাম সাইম (১১)কে ১৪ সেপ্টেম্বর অপহরণ করা হয় এবং নির্যাতন করা হয়
- 📌 আসামিরা শিশুকে ধোপাডাঙ্গা গ্রামে বাসায় নিয়ে যান এবং তার মা ও দাদিকে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন
- 📌 মাদ্রাসার পরিচালক শাহ জালাল হোসেন রোস্তমের প্রচেষ্টায় শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়
- 📌 দুজন আসামি সজল ও সুলাইমানকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের কারাগারে পাঠানো হয়
- 📌 সাইমের মা সুমি বেগম দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান
📰 বিস্তারিত
গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের কুন্দেরপাড়াচর থেকে দুজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের নাম সজল ও সুলাইমান, যারা সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের ফলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। অপহরণের শিকার শিশু সাইমুন ইসলাম সাইম (১১) সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার আগগয়হাটা গ্রামের মনিরুল ইসলামের ছেলে। সে গাইবান্ধা সদর উপজেলার আল ইমরান মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী।
১৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে সাইম মাদ্রাসা থেকে বের হলে তাকে সদর উপজেলার পুলবন্দি বাজারে ডেকে নেন আসামি সুলাইমান। সেখানে চেতনানাশক খাইয়ে অচেতন করে তাকে ধোপাডাঙ্গা গ্রামে আসামি রবিউলের ভাড়া বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আসামি সজল, রবিউলসহ অজ্ঞাতনামা পাঁচ থেকে সাতজন মিলে শিশুকে অমানবিক নির্যাতন চালান। মুক্তিপণ না দিলে ছেলেকে হত্যার হুমকিও দিয়েছিল আসামিরা।
সাইমের মা সুমি বেগম ঘটনাটি মাদ্রাসার পরিচালক শাহ জালাল হোসেন রোস্তমকে জানান। তিনি কয়েকজনকে নিয়ে ধোপাডাঙ্গা গ্রামে যান এবং শিশুকে হাত-পা বাঁধা ও গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় একটি অন্ধকার কক্ষ থেকে উদ্ধার করেন। এরপর সাইমকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সাইমের মা সুমি বেগম বাদী হয়ে তিনজনের নামোল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা পাঁচ থেকে সাতজনের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলা করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামি সজল ও সুলাইমানকে গ্রেপ্তার করে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা জানান, গ্রেপ্তার দুই আসামি জিজ্ঞাসাবাদে ও আদালতে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। পরে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
"আসামিরা আমার পরিচিত। তারা পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে অপহরণ করে নির্যাতন করেছে। মুক্তিপণ না দিলে ছেলেকে হত্যার হুমকিও দিয়েছিল। সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।"
— সাইমের মা সুমি বেগম
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাইবান্ধা সদর উপজেলা, ধোপাডাঙ্গা গ্রাম, পুলবন্দি বাজার, আল ইমরান মাদ্রাসা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাইমুন ইসলাম সাইম (১১), সুমি বেগম, সজল, সুলাইমান, শাহ জালাল হোসেন রোস্তম, নাজমুল হুদা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ বছর (শিশুর বয়স), ৫০ হাজার টাকা (মুক্তিপণ), ১৪ সেপ্টেম্বর (অপহরণের তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!