📌 ফরিদপুরের নগরকান্দায় সুদ পাওনা নিয়ে এক পরিবারের পাঁচ সদস্যকে মারধর ও পাঁচটি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়। হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন নগরকান্দা থানা যুবলীগের সভাপতি হানিফ রানার। আহতদের মধ্যে একজনকে ধারালো অস্ত্রে ছয়টি কোপ লাগে
ফরিদপুরের নগরকান্দায় সুদ পাওনা নিয়ে এক পরিবারের পাঁচ সদস্যকে মারধর ও পাঁচটি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়। ঘটনাটি ঘটে রোববার সকাল ১০টায় কাইচাইল ইউনিয়নের মধ্য কাইচাইল গ্রামে। হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন নগরকান্দা থানা যুবলীগের সভাপতি ও পাচকাইচাইল গ্রামের বাসিন্দা হানিফ রানার (৪৮)।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **হামলায় আহত পাঁচজন**: স্থানীয় ইউপি সদস্য ফজলুল হকের পরিবারের সদস্য ইয়ার আলী (৪০), সুজন মিয়া (৩৫), বোন শিউলী বেগম (৩০), রত্না বেগম (২৫) ও ইয়ামিন (১৭) মারধর ও আহত হন।
- 📌 **চায়ের দোকানির হাত ভেঙে দেওয়া**: স্থানীয় বাজারের চা-দোকানি মনু মিয়া (৫৫) পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়া হয়। তিনি ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন।
- 📌 **ধারালো অস্ত্রে ছয়টি কোপ**: ইয়ার আলীর শরীরে ধারালো অস্ত্রে ছয়টি কোপ লাগে। চিকিৎসকরা তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দেখেন।
- 📌 **পাঁচটি বাড়ি ভাঙচুর**: হামলাকারীরা পরিবারের পাঁচটি বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করে।
- 📌 **হামলাকারীদের সংখ্যা**: হানিফ রানার নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল রামদা, ঢাল ও সরকি নিয়ে হামলা চালায়।
- 📌 **সুদ পাওনা নিয়ে দ্বন্দ্ব**: আয়ুব আলী মিয়া ও আলমগীর মিয়ার মধ্যে তাস খেলায় সুদ পাওনা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ঘটনাটি ঘটে।
- 📌 **মামলা প্রক্রিয়াধীন**: নগরকান্দা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ টাকা পাওনাকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানিয়েছে।
📰 বিস্তারিত
ফরিদপুরের নগরকান্দায় রোববার সকাল ১০টার দিকে কাইচাইল ইউনিয়নের মধ্য কাইচাইল গ্রামে সুদ পাওনা নিয়ে মারাত্মক ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা আয়ুব আলী মিয়া (৬০) ও আলমগীর মিয়ার মধ্যে তাস খেলায় সুদ পাওনা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ঘটনাটি ঘটে। আলমগীরকে ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। পরে হানিফ রানার নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল রামদা, ঢাল ও সরকি নিয়ে পরিবারটির ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারীরা পরিবারের পাঁচ সদস্যকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করেন এবং পাঁচটি বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালান। আহতদের মধ্যে একজনকে ধারালো অস্ত্রে ছয়টি কোপ লাগে। চিকিৎসকরা তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দেখেন। স্থানীয় বাজারের চা-দোকানি মনু মিয়া (৫৫) পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়া হয়। তিনি ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন।
সুজন মিয়া অভিযোগ করেন, ‘আয়ুব আলী মিয়া এলাকায় তাস খেলোয়াড়দের সুদের ওপর টাকা দিয়ে থাকে। এভাবে অনেক পরিবারকে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। আলমগীরকেও এভাবে টাকা দিয়ে ফাঁদে ফেলা হয়েছে। প্রতিদিন এক হাজার করে টাকা দেওয়ায় সে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। একপর্যায়ে টাকা দিতে ব্যর্থ হলে সকালে আলমগীরকে গামছা দিয়ে বেঁধে নিয়ে যেতে যায়। তখন আমরা পাশের মনু মিয়ার চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিলাম। আলমগীরকে ধরে নিতে দেখে আমরা ছাড়াতে চাইলে উল্টো আমাদের মারধর করা হয়, চায়ের দোকানির হাত পর্যন্ত ভেঙে ফেলা হয়।’
বিচারের দাবি জানিয়ে ইউপি সদস্য ফজলুল হক বলেন, ‘হানিফ রানা থানা যুবলীগের সভাপতি ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক। তাঁর নামে অন্তত ১২টি মামলা রয়েছে। হানিফ রানাসহ সব হামলাকারীকে দ্রুত গ্রেপ্তার দেখতে চাই।’ হানিফ রানার দাবি, ঘটনার সময় তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছিলেন না।
"আয়ুব আলী মিয়া এলাকায় তাস খেলোয়াড়দের সুদের ওপর টাকা দিয়ে থাকে। এভাবে অনেক পরিবারকে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নগরকান্দা উপজেলা, ফরিদপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হানিফ রানার (৪৮), আয়ুব আলী মিয়া (৬০), ফজলুল হক, সুজন মিয়া (৩৫), মনু মিয়া (৫৫)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ জন আহত, ৬টি কোপ, ৪০-৫০ জন হামলাকারী, ১২টি মামলা (হানিফ রানার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!