📌 চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় পাহাড়ি ঢলে ১০০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঋণ নিয়ে চাষ করা আগাম সবজি ও বিক্রয় উপযোগী ফসল নষ্ট হওয়ায় কৃষকরা আর্থিক চাপে পড়েছেন। উপজেলা প্রশাসন সহায়তা ও প্রণোদনা দিতে উদ্যোগ নিচ্ছে
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় দু’দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কাঞ্চননগর এলাকার প্রায় ১০০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঋণ নিয়ে চাষ করা আগাম শীতকালীন সবজি ও বিক্রয় উপযোগী ফসলের পুরো আবাদ বালির নিচে চাপা পড়ার কারণে কৃষকরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। উপজেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে এবং তাদের পাশে দাঁড়াতে সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নিচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় পাহাড়ি ঢলে ১০০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে
- 📌 কাঞ্চননগর এলাকার কৃষক মো. রফিকের তিন কানি জমির পুরো আবাদ ধ্বংস হয়ে গেছে, প্রায় ২.৫ লাখ টাকা ক্ষতি
- 📌 কৃষক মোখবুল আহমেদের জমিতে ২ থেকে ৩ ফুট বালি জমে ফসল নষ্ট হয়েছে
- 📌 কৃষক শঙ্কর দাস, আবু তাহের ও মো. হাসেমের বড় অঙ্কের ঋণ ও লিজের টাকা পরিশোধের চাপে দুর্দশা
- 📌 উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক বলেছেন, প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কয়েক কোটি টাকা
- 📌 উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহীম বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন উদ্যোগ নিচ্ছে
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকায় গত দু’দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ধুরুং খালের চরে গড়ে তোলা কৃষিজমি ধ্বংসের মুখে পড়েছে। কাঞ্চননগর থেকে পাইন্দং ইউনিয়নের বেড়াজালী পর্যন্ত প্রায় ১০০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কৃষকদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
কৃষক মো. রফিক প্রায় দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তিন কানি জমিতে আগাম শীতকালীন সবজি চাষ করেছিলেন। ফসল বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ ও পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরানোর আশা ছিল। কিন্তু পাহাড়ি ঢলে তাঁর জমি ভেঙে ও তলিয়ে গেছে। পুরো আবাদ নষ্ট হওয়ায় প্রায় ২.৫ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। অন্য কৃষক মোখবুল আহমেদের ধুরুং খালের চরে প্রায় আড়াই কানি জমিতে শীতকালীন আগাম সবজি চাষ ছিল। পাহাড়ি ঢলের পানিতে তাঁর জমিও বিলীন হয়ে গেছে।
কৃষক শঙ্কর দাস, আবু তাহের ও মো. হাসেম বলেছেন, আগাম সবজি চাষে বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। ভালো লাভের আশায় বাড়তি টাকা দিয়েও জমি লিজ নিয়েছিলেন। কিন্তু ফসল ঘরে তোলার আগেই সব নষ্ট হয়ে গেছে। এখন ঋণের কিস্তি ও লিজের টাকা পরিশোধের চাপে তারা দুর্দশায় পড়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক বলেছেন, ‘কোথাও কোথাও আগাম সবজি ও বিক্রয় উপযোগী ফসল পুরোপুরি বালির নিচে চাপা পড়ে গেছে। অনেক জমিতে ২ থেকে ৩ ফুট পর্যন্ত বালি জমে ফসল নষ্ট হয়েছে। এতে কৃষকেরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। প্রাথমিকভাবে এ অঞ্চলে প্রায় কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহীম বলেছেন, ‘ফটিকছড়ির কৃষকেরা একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। গত দুই দিনের পাহাড়ি ঢলে কাঞ্চননগর এলাকার কয়েক শ কৃষকের আগাম সবজি চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিকভাবে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
"কোথাও কোথাও আগাম সবজি ও বিক্রয় উপযোগী ফসল পুরোপুরি বালির নিচে চাপা পড়ে গেছে। অনেক জমিতে ২ থেকে ৩ ফুট পর্যন্ত বালি জমে ফসল নষ্ট হয়েছে। এতে কৃষকেরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফটিকছড়ি উপজেলা, চট্টগ্রাম (কাঞ্চননগর, মানিকপুর, পাইন্দং ইউনিয়ন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. রফিক, মোখবুল আহমেদ, শঙ্কর দাস, আবু তাহের, মো. হাসেম, আবু সালেক, সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহীম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০০ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত, ২-৩ ফুট বালি জমে, ২.৫ লাখ টাকা ক্ষতি (মো. রফিক), কয়েক কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতি (প্রাথমিক)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!