📌 ফরিদপুর থেকে ঢাকার বাসে সরকার নির্ধারিত নতুন হারের চেয়ে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন এবং সরকারি নির্দেশনা লঙ্ঘনের দাবি তুলেছেন। ফরিদপুরের বাস টার্মিনাল থেকে সায়েদাবাদ পর্যন্ত গোল্ডেন লাইন পরিবহনের নন-এসি বাসের টিকিট ৪৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি নেওয়া হচ্ছে।
ফরিদপুর থেকে ঢাকার বাসে সরকারি নির্ধারিত নতুন ভাড়ার চেয়ে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন এবং সরকারি নির্দেশনা লঙ্ঘনের দাবি তুলেছেন। ফরিদপুর পৌর বাস টার্মিনাল, নতুন বাসস্ট্যান্ড ও পুরোনো বাসস্ট্যান্ডে সরেজমিনে দেখা গেছে, বাসমালিকেরা সরকারি হারের চেয়ে অনেক বেশি ভাড়া নিচ্ছেন। গত মঙ্গলবার থেকেই এই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সরকার প্রতি কিলোমিটারে বাসভাড়া বাড়িয়েছে ১৭ পয়সা, কিন্তু ফরিদপুরের বাসে সর্বোচ্চ ৪৬ পয়সা অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে
- 📌 ফরিদপুর থেকে ঢাকার সায়েদাবাদ পর্যন্ত সরকারি হারে ভাড়া ১৮ টাকা ৭০ পয়সা হওয়ার কথা, কিন্তু বাসে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে
- 📌 গোল্ডেন লাইন পরিবহনের নন-এসি বাসের টিকিট ৪০০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা এবং এসি বাসের টিকিট ৫০০ টাকা থেকে ৫৫০ টাকা বাড়তি নেওয়া হচ্ছে
- 📌 যাত্রী আজমুল হোসেন বলেছেন, সরকার তেলের দাম বাড়িয়েছে, কিন্তু বাসমালিকেরা যাত্রীদের পকেট কেটে নিচ্ছেন
- 📌 ফরিদপুর জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম জানান, বাড়তি ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জানা নেই, তথ্য আমলে নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে
📰 বিস্তারিত
সরকার প্রতি কিলোমিটারে বাসভাড়া বাড়িয়েছে ১৭ পয়সা। কিন্তু ফরিদপুর থেকে ঢাকার বাসে সরকারি হারের চেয়ে অনেক বেশি অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। ফরিদপুর থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকার গুলিস্তান ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল পর্যন্ত সর্বোচ্চ দূরত্ব ১১০ কিলোমিটার। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট হয়ে ঢাকার গাবতলী পর্যন্ত দূরত্ব ১১৮ কিলোমিটার। সরকার নির্ধারিত নতুন হারে সায়েদাবাদ পর্যন্ত ভাড়া বাড়ার কথা ১৮ টাকা ৭০ পয়সা এবং গাবতলী পর্যন্ত ২০ টাকা। কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে, ফরিদপুর থেকে ঢাকাগামী অধিকাংশ বাসে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
গোল্ডেন লাইন পরিবহনের নন-এসি বাসের প্রতিটি টিকিট ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা নতুন মূল্যবৃদ্ধির আগে ছিল ৪০০ টাকা। পরিবহনটির এসি বাসে ৫০০ টাকার পরিবর্তে ৫৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। ভাঙ্গা রাস্তার মোড়সংলগ্ন ও জোবাইদা ফিলিং স্টেশনসংলগ্ন কাউন্টারেও একইভাবে ৫০ টাকা বাড়তি নেওয়া হচ্ছে। যাত্রী আজমুল হোসেন বলেছেন, ‘একদিকে সরকার তেলের দাম বাড়িয়েছে, অন্যদিকে সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাস ভাড়াও বাড়িয়ে দিয়েছে বাসমালিকেরা। যে যেভাবে পারছে, আমাদের জনগণের পকেট কেটে নিচ্ছে।’
সমাজকর্মী মোস্তফা আমীর ফয়সাল ফেসবুকে লিখেছেন, ‘তেলের দাম বাড়ার অজুহাতে যাত্রীদের পকেটে অতিরিক্ত চাপ—এটা মেনে নেওয়া যায় না। যদি সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নেওয়া হয়, তাহলে সেই অতিরিক্ত ভাড়া যাত্রীদের কাছ থেকে আদায়ের যৌক্তিকতা কী?’ তিনি দাবি করেছেন, ভাড়া বৃদ্ধির সঠিক হিসাব প্রকাশ করা এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করা উচিত।
ফরিদপুর থেকে রাজবাড়ী, মাদারীপুর ও মাগুরাগামী লোকাল মিনিবাসেও নতুন মূল্যবৃদ্ধির দ্বিগুণ হারে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুরোনো বাস টার্মিনাল থেকে ভাঙ্গা গোলচত্বরের দূরত্ব ৩০ কিলোমিটার। এ পথে সরকার নির্ধারিত হিসাবে ভাড়া ৫ টাকা বাড়ার কথা থাকলেও সাহিদ এন্টারপ্রাইজের বাসে ১০ টাকা করে বাড়তি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।
"তেলের দাম বাড়ার অজুহাতে যাত্রীদের পকেটে অতিরিক্ত চাপ—এটা মেনে নেওয়া যায় না। যদি সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নেওয়া হয়, তাহলে সেই অতিরিক্ত ভাড়া যাত্রীদের কাছ থেকে আদায়ের যৌক্তিকতা কী?"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফরিদপুর পৌর বাস টার্মিনাল, ঢাকার গুলিস্তান, সায়েদাবাদ, গাবতলী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আজমুল হোসেন, মোস্তফা আমীর ফয়সাল, মাজহারুল ইসলাম, মো. সোহরাব হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ টাকা (অতিরিক্ত ভাড়া), ১৭ পয়সা (সরকারি বৃদ্ধি), ১১০ কিলোমিটার (ফরিদপুর-সায়েদাবাদ), ১১৮ কিলোমিটার (ফরিদপুর-গাবতলী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!